সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ভাণ্ডার

যদুনাথ সরকার জীবৎকালে তাঁর ১০ নম্বর লেক টেরাসের বাড়িটিকে (সঙ্গের ছবি) একটি মন্দিরই বানিয়ে তুলেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের অধিগ্রহণের পর এই বাড়িতেই গড়ে ওঠে ইতিহাস চর্চার অন্যতম প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটা। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০০০ সালে পাটুলিতে একটি নতুন বাড়িতে স্থানান্তরিত হয় সেন্টার। পুরনো বাড়িটি মেরামত ও আধুনিকীকরণ করে এখানে গড়ে উঠল যদুনাথের নামাঙ্কিত একটি মহাফেজখানা এবং সংগ্রহশালা। সিদ্ধার্থ ঘোষের সংগ্রহ থেকে কিছু উপাদান এসেছে এখানে, বাকি রয়ে গিয়েছে অন্তরালে! রয়েছে রাধাপ্রসাদ গুপ্তের সংগ্রহ, বরদা গুপ্তের রেকর্ড, শিল্পী গোপাল ঘোষ বা আমিনা আহমেদ করের চিত্রকর্ম, সেকালের মহিলা আলোকচিত্রী অন্নপূর্ণা দত্ত, দেবলীনা মজুমদার, কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, পরিমল গোস্বামী, আহমেদ আলী, রণজিৎ সিংহের তোলা ছবি, ত্রিপুরার মহারাজা বীরচন্দ্রের তোলা বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র। রয়েছে ফাদার গাস্তঁ রোবের্জের তত্ত্বাবধানে চিত্রবাণী থেকে পাওয়া কলকাতা সংক্রান্ত বেশ কিছু আলোকচিত্র। এখানকার সংগ্রহে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সাংগীতিক উপাদান। ডিসেম্বর মাসে এই সমস্ত উপাদান নিয়েই আয়োজিত হবে একটি বড় মাপের প্রদর্শনী, সঙ্গে আলোচনা। ‘এখানকার জায়গা, মানবসম্পদ এবং অর্থ— এগুলি সবই কম’, বলছিলেন ডিরেক্টর তপতী গুহঠাকুরতা, ‘কিন্তু গবেষকরা যদি ঠিক ভাবে একে ব্যবহার এবং প্রচার করেন তবে সংস্থার মানোন্নয়ন হয়।’ প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জহর সরকার এখানকার চেয়ারম্যান পদে বৃত হয়েছেন। উদ্বোধন উপলক্ষে গত ২২ জুলাই ছিল একটি আলোচনাসভা। এ দিন সংগ্রাহক পরিমল রায় একটি প্রাচীন নিদর্শন তুলে দিলেন মহাফেজখানায়।

 

পূরবী

বর্ষার বিকেলে নিজের ঘরে একা পূরবী। ‘আর নাইরে বেলা নামল ছায়া ধরণীতে’ বড় পছন্দের গান। শুধু কি তাই? ‘ডাকব না ডাকব না, অমন করে বাইরে থেকে…’। ‘রেডিয়োতে প্রথম গাইলাম ১৯৫২তে’। পূরবী দত্ত, বৈবাহিক জীবনে যিনি পূরবী গুহ নামে পরিচিত, যাঁর স্কুল-কলেজ ও সংগীতজীবন কেটেছে শান্তিনিকেতনের ছায়ায়। ‘১৯৫২ আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে আমার বিশ্বভারতীতে এম এ পড়া, রেডিয়োতে গান গাওয়া’। শৈলজারঞ্জন মজুমদারের কাছে জীবনভর সংগীত শিক্ষা। বাবা, প্রাবন্ধিক হীরেন্দ্রনাথ দত্ত কর্মসূত্রে শান্তিনিকেতনে যাওয়ায় তিন ভাইবোনের ওখানেই শিক্ষাদীক্ষা।

১৯৪৩-এ মাত্র এগারো বছর বয়স থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনেই থাকা। অনেক ছোট থেকে সুচিত্রা-কণিকা-নীলিমা-অশোকতরু-প্রসাদ সেনদের সঙ্গে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। ১৯৭০-এ সাহিত্যিক অরবিন্দ গুহের (ইন্দ্রমিত্র) সঙ্গে বিবাহ। জোকা ব্রতচারী বিদ্যাশ্রমে শিক্ষকতার পাশাপাশি ‘সুরঙ্গমা’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ২০০০ পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি ৮৫। পাশের ঘরে ৮৯ উত্তীর্ণ ইন্দ্রমিত্র। ছবি: পাপিয়া মিত্র

 

সম্প্রীতি

যখন দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ এবং গোরক্ষকদের তাণ্ডব চলছে, তখন হাওড়ার পার্বতীপুরে চলছে সম্প্রীতির পুজো! এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও হিন্দু দেবদেবীর সঙ্গে তাঁদের নিবিড় সম্পর্ক। এ বার যেহেতু সেপ্টেম্বরেই পুজো, তাই পার্বতীপুরের মুসলিমরা এই মুহূর্তে প্রতিমার মাথার চুল তৈরিতে চরম ব্যস্ত। প্রতি বছর প্রায় তিরিশ হাজার প্রতিমার চুল হাওড়ার এই ছোট্ট গ্রাম থেকেই মৃৎশিল্পীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এই চুল তৈরির প্রধান উপাদান হল পাট। গ্রামের রাস্তায় বাঁশের উপর সারি সারি চুল শুকোচ্ছে। এ শহরের অরিত্রিক ভট্টাচার্য, শৌর্য দেব ও অর্কময় দত্ত মজুমদারের বানানো ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ‘হেয়ারলুম’ তথ্যচিত্রে এই চমকপ্রদ ছবিই দেখানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হয়েছে তথ্যচিত্রটি।

 

জেলখানায় সত্তর

সত্তরের নকশাল আন্দোলনের বহু কর্মীকেই দীর্ঘদিন জেলে কাটাতে হয়েছে। তাঁদের জেল থেকে লেখা চিঠির সংখ্যা যেমন অনেক, তেমনই জেলের চার দেওয়ালের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে গান, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছড়া, রিপোর্টাজ, লেখা হয়েছে ডায়েরি। এর আগে এগুলি নিয়ে ছোটখাট সংকলন হলেও মূলত এর অধিকাংশটাই অপ্রকাশিত। এ বারে সেই লেখাগুলিকে একত্র করে বড় আকারে সংকলন করলেন শুভেন্দু দাশগুপ্ত। তাঁর সম্পাদনায় জেলখানায় লেখা সত্তর বইটি (প্রকাশক: ঠিক ঠিকানা) ৫ অগস্ট প্রকাশ পাবে ১০/১ গোয়াবাগান স্ট্রিটের ইউ এন ধর গ্যালারিতে। এ যেন এক স্মৃতির পথ ধরে আর এক সময়ের রাস্তা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা। সে দিন ওখানে দুপুর দুটো থেকে আন্দোলনের সঙ্গে যাঁরা একদিন যুক্ত ছিলেন তাঁদের আড্ডা, গান গাওয়া, কবিতা পড়া।

    

কারুকৃতি

২৯-৩১ জুলাই, উইভার্স আর্টিজান অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টিস্টস গিল্ডের (ওয়াপাগ) বার্ষিক সম্মেলন এবং দেশীয় পরম্পরার প্রযুক্তি ও গ্রাম শিল্প প্রদর্শনী আয়োজিত হল বঙ্গবাসী কলেজে, কলেজ আর ওয়াপাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায়। গিল্ডের বাংলা জোড়া ৪০টি সংগঠন, ব্যক্তি এবং সমর্থক এই সম্মেলনে যোগদান করেন। ৩০ তারিখ প্রভাত ফেরির মধ্যে দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। সন্ধ্যায় ছো, খন, নাটুয়া, গমিরা প্রভৃতির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। ২৯ জুলাই শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে ছো মুখোশ তৈরি, তাঁত বুনন সরঞ্জাম, ঢোকড়া তাঁত, বঙ্গবাসী কলেজের নৃতত্ত্ব বিভাগের নানান সংগ্রহ প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়াও দশাবতার তাস, পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ, কুনোরের মাটির কাজ, বোঙ্গা হাতি, বিভিন্ন ধরনের থলে, গালার পুতুল, সেরপাই, পাঞ্ছি, মেচ পরিধেয়, হাতে কাটা সুতো আর প্রাকৃতিক রঙে রাঙানো কাপড়, হাতে তৈরি সাবান, ব্যথার তেল ইত্যাদি নিয়ে প্রদর্শনী শেষ হবে আজ সন্ধ্যায়।

   

কিশোর-রাহুল

তিনি মনে করতেন ফিল্ম হল প্রমোদ-উপকরণ, তাই হাসি-খুশিতেই ফিল্মের মর্মবাণী পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন আম নাগরিকের কাছে। মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়া অঞ্চলে ১৯২৯ সালের ৪ অগস্ট জন্ম সংগীতশিল্পী, চলচ্চিত্রাভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক কিশোরকুমারের। তিনি সব ধরনের গানই গাইতে পারতেন। এ বার তাঁরই ৮৯তম জন্মদিন উপলক্ষে ৩ অগস্ট, সাড়ে ৬টায়, উত্তম মঞ্চে তাঁকে ও রাহুলদেব বর্মনকে উৎসর্গীকৃত এক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। যেখানে দেবজিৎ রায়ের তত্ত্বাবধানে সুজয় ভৌমিক, সৌরভ দাস, সিসপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, আবির সেন, সৃজিৎ, মুনমুন রায়ের কণ্ঠে কিশোর-আর ডি জুটির তৈরি করা অপ্রকাশিত বেশ কিছু গান— ক্যায়সে দেখো মেরি আঁখো কি বহুত পাস হো তুম, ফুলো কি জুবা বা ফুলো কি দেশ মে, বহুত রাত হুয়ি ইত্যাদি গান তো শোনা যাবেই, সঙ্গে থাকবে বেশ কিছু মুক্তি পাওয়া গানও। আয়োজনে শ্যাম সরকার ও দেবরাজ ঘোষ। ৪ অগস্ট সালকিয়া কিশোরকুমার মেমোরিয়াল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে একটি প্রভাতী যাত্রা। চলতে চলতে শীর্ষক এই পদযাত্রা সকাল সাতটায় শুরু হবে ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেল থেকে, শেষ হবে সালকিয়া ধর্মতলায়। এখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেই থাকবে শিল্পীর স্মরণে সুসজ্জিত ট্যাবলো।

 

শিশু চলচ্চিত্র

ছোটু-র দিদি পারি-ই ছোটুকে আগলায়, বন্ধুর মতো, অভিভাবকের মতো, কারণ ছোটুর দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ। পারি শাহরুখ খানের ভক্ত, ছোটু সলমন-এর, এই দুই তারকাকে নিয়ে তারা বাজিও লড়ে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে। ভাইয়ের চোখের জন্য দূরের নক্ষত্রের কাছে পৌঁছতেও পিছপা হয় না দিদি। আদ্যোপান্ত বাস্তবে মোড়া এক আশ্চর্য রূপকথা নাগেশ কুকুনুর-এর ছবি ‘ধনক’— যার অর্থ ‘রামধনু’, ছোটদের ছবি হিসেবে ইতিমধ্যেই সেরা-র শিরোপা পেয়েছে বার্লিন উৎসব থেকে জাতীয় পুরস্কারে। নাগেশের উপস্থিতিতে সে ছবি দেখিয়েই উদ্বোধন হল আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব-এর, যেখানে সারা দুনিয়ার বাছাই-করা ছোটদের ছবির সমাহার। ১-৪ অগস্ট অবধি টানা চলবে নন্দনে, এর পর কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছবি দেখা যাবে। আয়োজনে নন্দন ইউনিসেফ ও সিনে সেন্ট্রাল।

 

দেওয়ালচিত্র

গ্রাফিতি বা দেওয়ালচিত্রের পরম্পরা এই শহরে নতুন কিছু নয়। নানা ভাবে বহু বার চিত্রিত হয়েছে এই শহরের বহু প্রাচীর। পরে আবার তা যথারীতি গুটখা-রঞ্জিত হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনেক থাকলেও আদতে কিন্তু ‘বিজ্ঞাপনে মুখ ঢেকে যায়’ই! তবু শহরের মলিন দেওয়ালগুলিতে শিল্পের ছোঁয়া দিতে এগিয়ে এল বার্জার পেন্টস, সঙ্গে কলকাতা পুরসভা এবং মেট্রো রেল। শহরে শুরু হয়েছে স্ট্রিট আর্ট ফেস্টিভ্যাল, শিল্পী যোগেন চৌধুরীর নেতৃত্বে। প্রকল্পের নকশাটিও করেছেন তিনি। মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের সাফল্যের পর এ বারে কলকাতা। প্রাথমিক ভাবে বরুণ সাহা তাঁর সঙ্গী শিল্পীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বালিগঞ্জ ও পার্কসার্কাস ট্রাম ডিপো, ইডেন গার্ডেনস, নিউ আলিপুর, এক্সাইড মোড়, মেট্রো রেলের শ্যামবাজার, সেন্ট্রাল এবং যতীনদাস পার্ক স্টেশনের দেওয়ালে। সঙ্গে রয়েছে দুইখানি ট্রামও। যোগেন চৌধুরীর কথায়, ‘পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে মিলিয়ে এই প্রচেষ্টায় সংস্কৃতি, সহিষ্ণুতা ইত্যাদি নানা বিষয়ের বার্তাও দেওয়া যাবে।’ 

 

শিল্পীকে নিয়ে

যক্ষ্মায় ক্লিষ্ট এক মানুষ। বন্ধু-পরিবার বর্জিত একাকী হাসপাতালের ফ্রি বেডে পড়ে থাকতে থাকতে রোগীর উচ্ছিষ্ট খেতে আসা কাকের সাথে কথা বলে। মুখে কথা নয়। আলাপ চলে তুলিতে, কালিতে। এবং বাকি জীবন ভয়ংকর এক দ্বন্দ্ব নিয়ে কাটিয়ে দেয় মানুষটা। প্রেমটা কাকের সঙ্গে ছিল, না কি তুলি আর কালিতে আসলে নিজেকেই চুবিয়ে ফেলেছিলেন? এহেন মানুষের জীবন সেলুলয়েডে ধরতে চলেছেন তরুণ চিত্রপরিচালক শান্তনু সাহা। যে মানুষটাকে নিয়ে তথ্যচিত্র, তিনি জীবনে কখনও সুস্থিতি বা স্বাচ্ছন্দ পেয়েছেন বলে শোনা যায়নি। অথচ বাংলার অলংকরণ শিল্পের বিবর্তন খুঁড়তে বসলে মনে হবে পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর বা তারও কিছু পরে এত বৈচিত্র আর পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে তাঁর মতো কাজ খুবই কম। শিল্পী সুবোধ দাশগুপ্ত সম্পর্কে বিমল করের মন্তব্য, ‘কোনওদিন আর্টস্কুলের দরজা না মাড়িয়ে সুবোধ কলেজস্ট্রিটে কম দিন রাজত্ব করেনি। আজকের নামী লেখকদের প্রায় সবাই একসময় পাঠকের দরবারে হাজির হয়েছিল ওর ছবির নামাবলি গায়ে জড়িয়ে।’ শান্তনু মনে করেন, সুবোধ দাশগুপ্তের কাজ ছিল সমস্ত স্টিরিওটাইপ প্যাটার্নের থেকে আলাদা। এবং নিজেকে ভাঙার এক অনন্ত পরিক্রমা। তাঁর কাজের ধরন, প্রাসঙ্গিকতা এবং সমসাময়িক অলংকরণ চর্চার প্রেক্ষিতে তাঁকে তুলে ধরতে চাইছেন পরিচালক।স্মারক বক্তৃতা

‘থিয়েটার দেখতে খুব ভাল লাগে আমার, এখনও। যদিও কখনও করব বলে ভাবিনি, এখনও ভাবি না। তবে আর্টফর্ম হিসেবে থিয়েটার অসম্ভব ঋদ্ধ করে আমায়, এখনও করে চলেছে।’ বলছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। থিয়েটারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এবং কবি ও চলচ্চিত্রকার বলেই বুদ্ধদেব নাটক নিয়ে তাঁর অনুভব আর অভিজ্ঞতার কথা বলবেন এ বারের ‘নীতিকা বসু স্মারক বক্তৃতা’-য়: ‘থিয়েটার ও আমি’। আগের দু’বার বক্তা ছিলেন কবি জয় গোস্বামী ও কথাসাহিত্যিক হর্ষ দত্ত। বাংলা আকাদেমি সভাঘরে ৫ অগস্ট সন্ধে সাড়ে ৬টায় প্রেমেন্দ্র মজুমদারের উপস্থাপনায় বলবেন বুদ্ধদেব। আয়োজনে কালিন্দী ব্রাত্যজন।

 

লড়াই

সাংবাদিকরা নাকি বিকিয়ে গিয়েছে? ক্যামেরা-কলম নাকি কব্জা করেছে সরকার আর বাণিজ্যসংস্থা? ‘যাঁরা এমন ভাবেন, তাঁদের জন্য এই তথ্যচিত্র’ জানালেন নূপুর বসু। ‘ভেলভেট রেভলিউশন’ দেখায়, ফিলিপিন্সের সংবাদ-দফতরের দরজায় টাঙানো মাছ-ধরার জাল, যাতে বাইরে থেকে ছোড়া গ্রেনেড আটকে যায়। এক দিকে তালিবান, অন্য দিকে পুলিশের হুমকির মুখে খবর করছেন আফগান সাংবাদিকরা। বস্তার থেকে বিতাড়িত সাংবাদিক মালিনী সুব্রহ্মণ্যম এখন লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করে খবর করছেন। জীবনসঙ্গী অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে খুন হতে দেখেও বন্যা আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের গোপন ডেরা থেকে চালাচ্ছেন ‘মুক্তমনা’ ব্লগ। নানা দেশের মহিলা সাংবাদিকদের লড়াই নিয়ে এই ছবি। একটি জাতীয় ইংরেজি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ছিলেন নূপুর, তাই পরিচিত মুখ। মেয়েদের চোলাই-বিরোধী অভিযান, বা কন্যাভ্রূণ হত্যা নিয়ে তাঁর তথ্যচিত্রও সমাদৃত। নূপুরের পরিবারের শিকড় ব্যারাকপুর আর শ্রীরামপুরে, কর্মস্থল প্রধানত কর্নাটক। ‘ভেলভেট রেভলিউশন’ দেখা যাবে প্রেস ক্লাবে, অগস্ট ৪, বিকেল ৩টেয়। আর একটি প্রদর্শনী নন্দন ৩ হলে, অগস্ট ৮, সন্ধ্যা ৬টায়। দু’দিনই আলোচনার জন্য থাকবেন ছবির কার্যনির্বাহী প্রযোজক নূপুর বসু।