বাটাযোড় গ্রামের সেই কালো মেয়েটার সঙ্গে একদিন পরিচয় হল বিখ্যাত সৃজনশীল পরিবারের— নাম শঙ্কর।’’ সালটা ১৯৩০-৩১, প্যারিসে চলছে ইন্টারন্যাশনাল কলোনিয়াল এক্সপোজ়িশন। অক্ষয়কুমার নন্দীর ছিল গয়নার ব্যবসা, তিনি সেখানে ভারতীয় মেয়েদের হস্তশিল্প প্রদর্শনের জন্য স্টল নিয়েছিলেন। বাবার সঙ্গে বেড়াতে এসেছে এগারো বছরের অমলাও। সেখানেই আলাপ উদয়শঙ্করের সঙ্গে, প্যারিসে ওঁদের বাড়িতে নেমন্তন্ন, ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠতে দেরি হয়নি। একটানা নাচের তালিম চলল উদয়শঙ্করের কাছে, এমনকি ট্রুপে যোগ দিয়ে আট মাসের লম্বা সফর! দেশে ফিরে পড়াশোনা, বই লেখা নিয়ে ব্যস্ততা। নাচে সামান্য বিরতি। উদয়শঙ্করের নৃত্যজীবনে একের পর এক মহিলার আবির্ভাব— সিমকি, বিয়্যাট্রিস— তবে বিয়ে হল ১৯৪২-এ অমলা নন্দীর সঙ্গেই, তাঁর কথায়, ‘‘যখন পরে আমি ওঁকে বলতাম এত সব ভাল, সুন্দর মেয়ে থাকতে কোথাকার একটা কালো, গেঁয়ো বাঙালি মেয়েকে কী করে পছন্দ করলেন, উনি বলতেন আমি সাত ঘাটের জল খেয়েছি, সাত সমুদ্র তেরো নদীর জল খেয়েছি, আমি জানি আমার গঙ্গাজলই ভাল।’’ তার আগেই অবশ্য ‘উদয়শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচার সেন্টার’ তৈরি হল আলমোড়ায়, অমলা যোগ দিলেন সেখানে, তার পিছনে আবার অক্ষয় নন্দীকে নেতাজির পরামর্শ, ‘‘আমাকে কথা দিন অমলার নাচ ছাড়াবেন না। ওর জায়গা আলমোড়া।’’ সেন্টার নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেল পাঁচ বছরেই, সে নিয়েও অমলাশঙ্কর অকপট: ‘‘এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সফল করতে গেলে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সেটাই উনি করতে পারেননি। সেন্টারের ছেলেমেয়েদের প্রতি ওঁর ভাবটা ছিল ‘আমি সব কিছু করতে পারি, আমার বেলায় সাত খুন মাপ, কিন্তু তোমরা কিছু করতে পারবে না।’’’ আবার ১৯৬৫-তে কলকাতায় অমলা ফিরিয়ে আনলেন একই নামে, অনেক ছোট আকারে সেই সেন্টার। কিন্তু সেন্টারের ভিত্তি শক্ত হওয়ার সঙ্গেই আলগা হয়ে গেল শঙ্কর পরিবারের বন্ধন, ১৯৭৩-এ বাড়ি ছাড়লেন উদয়শঙ্কর, প্রয়াত হলেন ১৯৭৭-এ। অমলাশঙ্কর সক্রিয় ছিলেন কয়েক বছর আগে পর্যন্তও, কাজের ভিতরেই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন শঙ্কর-ঘরানা। ২৭ জুন পূর্ণ করলেন শতবর্ষ, সে দিনই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল বিশাখা ঘোষের ‘শঙ্করনামা/ স্মৃতিচিত্রে অমলাশঙ্কর’ (আনন্দ) বইটি, যেখানে সযত্নে ধরা রইল শঙ্করপরিবারের ইতিবৃত্ত, সঙ্গে রইল আশ্চর্য সব দুর্লভ ছবি।  

 

চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রগান 

প্রমথেশ বড়ুয়া আর কাননদেবীর ছবি ‘মুক্তি’ স্মরণীয়, কারণ সেখানেই ব্যবহার করা হয়েছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত। সানন্দ অনুমতি দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তাঁর একটি কবিতা গানে রূপান্তরিত করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। ঠাকুর পরিবারের বাইরে তাঁর হাত ধরেই রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে সাধারণ বাঙালির প্রাথমিক পরিচয়। এর পর বহু ছবিতে ব্যবহার হতে থাকে রবীন্দ্রসঙ্গীত। সত্যজিৎ রায় ঋত্বিক ঘটক থেকে তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার। তরুণবাবুই এ বারে বেঙ্গল মিউজ়িক কলেজের উদ্যোগে ‘তৃতীয় অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় স্মারক বক্তৃতা’ দেবেন: ‘চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রগান’। সঙ্গে গানের উপস্থাপনায় রাজশ্রী ভট্টাচার্য। সঙ্গীতাচার্য ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সঙ্গীতের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে ১৯৪০ সালের মাঝামাঝি। ২০১৬-য় প্রয়াত অশোকবাবু ছিলেন এর প্রাণপুরুষ। দীর্ঘ সাত দশক ধরে যশস্বী শিক্ষক থেকে কৃতী ছাত্রছাত্রীর আনাগোনা কলেজটিতে। ৯ জুলাই সন্ধে ৬টায় বলবেন তরুণবাবু (সঙ্গের ছবি)।

 

সহজিয়া

একদা রেডিয়োতে ভোরাই গানে বাঙালির ভোরের সমার্থক ছিল অমর পালের গান। ‘রাই জাগো’ কি ‘প্রভাত সময়ে’, যে গানই হোক না কেন! জন্ম কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ১৯২২-এর ১৯ মে। মাঝি-মাল্লাদের কাছেই তাঁর গানের প্রথম পাঠ। প্রথম আকাশবাণীতে গান ১৯৫১-য়। ‘তারকেশ্বর’ ছবিতে প্রথম প্লে-ব্যাক ১৯৫৮-য়। প্রায় ২৫টি ছবিতে প্লে-ব্যাক করেছেন। ‘হীরক রাজার দেশে’র ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ তাঁকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। ওঁর কণ্ঠে অনায়াসে খেলা করত বাউল, ফকির, ভাটিয়ালি, জারি, মনসামঙ্গল, ঢেঁকি পাড়, চিঁড়ে কোটা, বিয়ের জলভরা বা সত্যপিরের গান। গত ২০ এপ্রিল তিনি প্রয়াত হন। ৫ জুলাই বিকেল ৫টায় রবীন্দ্রসদনে তাঁর স্মরণে ‘নবম সহজিয়া উৎসব’-এ থাকবেন মনসুর ফকির, ঊষা উত্থুপ, স্বপন বসু, বিক্রম ঘোষ, শিলাজিৎ, সৌমিত্র, উপল, সিধু, দেব ও আরও অনেকে। সহজিয়া সম্মান পাচ্ছেন শুভেন্দু মাইতি, দেবদাস বাউল এবং গুল মহম্মদ। আয়োজনে সহজিয়া ফাউন্ডেশন। ছবি: সৃজন দে সরকার।  

 

সৃজনের কেন্দ্রে

রবীন্দ্রসৃষ্টির অন্যতম কেন্দ্র কবির নতুন বৌঠান— কাদম্বরী দেবী। কাদম্বরী যখন বধূ হয়ে এলেন ঠাকুরবাড়িতে, তখন রবীন্দ্রনাথের বয়েস সাত। স্বইচ্ছায় যখন চলে গেলেন, তখন বয়েস ২৪। ‘সতেরো বছরের জানা’ এই মানুষটি রবীন্দ্রনাথকে প্রভাবিত করেছেন সারা জীবন ধরে। তারই ফলে আমরা পেয়েছি কবির অজস্র সৃষ্টি। কাদম্বরীর অকৃপণ জীবনের কাছে আমাদের ঋণ স্বীকার করতেই ‘শ্রাবস্তী’র এই প্রয়াস। ৫ জুলাই কাদম্বরী দেবীর জন্মদিন, তাঁর বিয়েরও দিন। সে দিন এই উপলক্ষে ‘শ্রাবস্তী’র নিবেদন ‘শ্রীমতী হে’, পি সি চন্দ্র গার্ডেনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে, পি সি চন্দ্র গার্ডেনের টিউলিপ হলে সন্ধে সাড়ে ৬টায়। বিশেষ অতিথি পবিত্র সরকার ও অলকানন্দা রায়।     

 

শতবর্ষ আগে 

১৯১৯ সালে স্যর আশুতোষ দীনেশচন্দ্র সেনকে ডেকে বললেন, ‘‘এ বার বাংলায় এমএ বিভাগ চালু হবে। আপনি অ্যান্ডার্সন সাহেবকে চিঠি লিখে দিন। তিনি যেন একটি খসড়া সিলেবাস ঠিক করে পাঠান।’’ আইসিএস, বহুভাষাভিজ্ঞ অ্যান্ডার্সনের জন্ম কলকাতায়, অবসরের পর তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপনা করেন। তিনি ছিলেন দীনেশচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর পাঠানো সিলেবাসের খসড়ার ভিত্তিতেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯১৯ সালের ১ জুলাই বাংলা এমএ-র ক্লাস শুরু হয়। আশুতোষের মধ্যম পুত্র শ্যামাপ্রসাদ ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণি পেয়েছিলেন, পিতার নির্দেশে তিনি বাংলায় এমএ ক্লাসে ভর্তি হলেন। বাংলা বিভাগের প্রধান হলেন দীনেশচন্দ্র। এলেন আরও ছ’জন শিক্ষক। আজ, ১ জুলাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১০ নং শ্রেণিকক্ষে দুপুর আড়াইটেয় পঠনপাঠন সূচনার শতবর্ষ উদ্‌যাপিত হবে। আয়োজক প্রাক্তনী বাংলা বিভাগ, সহযোগিতায় বাংলা বিভাগ।   

 

ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আচার-অনুষ্ঠান কী? প্রতি বৃহস্পতিবার হিন্দু রমণী যে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়েন, তাতে কী লেখা আছে— জানা দরকার আনিকা সুলতানার। একটি সভায় ‘লক্ষ্মীপুজো’ নিয়ে তাকে বলতে হবে। তাই আনিকার আব্বু তাজউদ্দিন হাবরা বাজার থেকে মেয়েকে কিনে দিলেন ‘লক্ষ্মীর ব্রতকথা’। আবার মন্দিরা চক্রবর্তী সেই সভাতেই ‘সবেবরাত’ বিষয়ে বলবে বলে বন্ধুদের নিয়ে উপস্থিত এক মসজিদে। মৌলবি সাহেবের কাছে জেনে নেয় খুঁটিনাটি। আনিকা, মন্দিরা, অরিন্দম, মিজানুর, ঈশিতা, সুহানারা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া। তারা আন্তরিক ভাবেই জানতে চায় অন্য ধর্ম সম্প্রদায়ের কথা। পাশাপাশি থেকেও দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে ‘অপরিচয়’-এর অন্ধকার দূর করতেই ‘অহর্নিশ’ পত্রিকা এমন অভিনব ভাবনায় লাগাতার সভার আয়োজন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কথা বলে এমন কিছু বই নিয়ে ‘অহর্নিশ’-এর আয়োজনে সভা ৬ জুলাই তপন থিয়েটারের দোতলায়, সন্ধে ৬ টায়। বক্তা দেবেশ রায়, সর্বানন্দ চৌধুরী এবং মোস্তাক আহমেদ। সূচনায় ‘একই বৃন্তে’ শীর্ষকে সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী কবিতা পাঠে সোমা মুখোপাধ্যায়।

 

স্মারক বক্তৃতা

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের কাছে অবহট্‌ঠ নিয়ে গবেষণা। অধ্যাপনা প্রথমে স্কটিশ চার্চ কলেজে, তার পর বঙ্গবাসী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখান থেকেই ২০০৪-এ খয়রা অধ্যাপক রূপে অবসর নেন সুভদ্রকুমার সেন (১৯৩৯-২০০৯)। ভাষাবিজ্ঞান, সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি ভৌতিক ও গোয়েন্দা গল্পের চর্চা করেছেন। এক সময় ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকায় নিয়মিত ‘শার্লক হোমস’ অনুবাদ করতেন। এ বছর তাঁর আশি বছর পূর্তিতে সুভদ্রকুমার সেন স্মারক সমিতির উদ্যোগে শুরু হচ্ছে স্মৃতি বক্তৃতা। স্বপন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বলবেন রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, বাংলা আকাদেমি সভাকক্ষে ৩ জুলাই সন্ধে সাড়ে ৬টায়। বিষয় ‘আমার বন্ধুত্ব ও আধুনিক বাংলার শিক্ষা-সংস্কৃতি’। সঙ্গের ছবিতে সুকুমার সেন ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুভদ্রকুমার সেন।  

 

কবিতাজীবন 

জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক অসুস্থতা। দেখা যায়, দেবস্মিতা সেরিব্রাল পলসিতে আক্রান্ত। শুরু হয় ওকে সুস্থ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। বিভিন্ন স্কুল, বহু সমস্যা পেরিয়ে ২০১৭ সালে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়, ২০১৯-এ উচ্চমাধ্যমিক। ওর কী ভাল লাগে বোঝার জন্য বাড়িতে প্রায়ই গান, কবিতা চালিয়ে রাখা হত। দেখা গেল যে কবিতাই ওর প্রথম ভালবাসা। স্কুলের প্রতিযোগিতায় নানা পুরস্কার পাওয়ার পর আবৃত্তি শেখা শুরু। আস্তে আস্তে সাফল্য আসে। মায়ের অদম্য জেদ এবং একরোখা মানসিকতায় পড়াশোনার পাশাপাশি দেবস্মিতা আজ তার একটি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছে। এখন সে কবিতা নিয়েই বাঁচে এবং সারা জীবন বাঁচতে চায়। আজ, ১ জুলাই বিকেল ৫টায় কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘ভাবনা’র উদ্যোগে প্রকাশিত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৪টি কবিতা নিয়ে দেবস্মিতা নাথের প্রথম সিডি ‘প্রণমি’।  

 

এক দশক

দেখতে-দেখতে দশ বছর বয়স হয়ে গেল ‘হৈ হৈ’-এর। ছোটদের মজার এই পত্রিকাটির এ বারের সংখ্যাটি তাই অন্য বারের চেয়েও বেশি ছড়া-গল্প, আর রামায়ণ মহাভারত থেকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল কালাম... নানা বিষয়ের নিবন্ধে ঠাসা। এই উপলক্ষে আজ ১ জুলাই মুক্তঅঙ্গনে সন্ধে ৬টায় সাহিত্যসভার আয়োজন, থাকবেন ও বলবেন অমর মিত্র রুশতী সেন নলিনী বেরা। ‘টেলিভিশন, মোবাইল ও কমপিউটার কখনওই বইয়ের বিকল্প হতে পারে না।’— আমন্ত্রণপত্রে মন্তব্য ‘হৈ হৈ’-এর সম্পাদকমণ্ডলীর। সম্পাদক দেবব্রত নিয়োগী এক দিকে যেমন ছোটদের ছড়াকার গল্পলেখক, অন্য দিকে তেমনই ভারতীয় প্রাদেশিক গল্পের অনুবাদক। সম্প্রতি বেরোল তাঁর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে লেখা গল্পসঙ্কলন: খাসখবর।    

 

নগরপ্রান্তে

ঢাকা শহরের পশ্চিম প্রান্তে মহম্মদপুর ও বসিলা এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে। গত বছরেও চাষ হয়েছে এমন জমি অধিগৃহীত হচ্ছে। বিস্তৃত ধানজমি ও জলাশয়ের মধ্যে গজিয়ে উঠছে নতুন শহর। জেলে, মাঝিমাল্লা, ছোট চাষি, নিম্নবর্গের মানুষ পেশার সঙ্গে অস্তিত্বও হারাচ্ছেন। এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণের সূত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় নগরায়ণের বিশেষ চরিত্র নিয়ে যদুনাথ ভবনে আলোচনা করবেন রাজর্ষি দাশগুপ্ত, ২ জুলাই বিকেল ৫টায়। সেখানে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে শহরের দু’টি বিশেষ দিক নিয়ে প্রদর্শনী (৭ জুলাই পর্যন্ত, রোজ ২-৭টা)— দীক্ষা ধরের ‘দ্য লাইভস অব লেবার ইন দ্য সিটি’, আর নীলিনা দেব লালের ‘রিরাইটিং দ্য সিটি: আর্লি ইন্টারভেনশনস অব দ্য ক্যালকাটা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট’। শেষের বিষয়টি নিয়ে ৫ জুলাই বিকেল ৫টায় আলোচনা, নীলিনার সঙ্গে থাকবেন তথাগত চট্টোপাধ্যায় ও সুকন্যা মিত্র। 

 

সঙ্গীত সংগ্রহ

অস্ট্রেলীয় ডিস্কোগ্রাফার মাইকেল এস কিনারের ‘দ্য গ্রামোফোন কোম্পানিজ় ফার্স্ট ইন্ডিয়ান রেকর্ডিংস ১৮৯৯-১৯০৮’ বইতে পিতামহ চক্ষুবিশারদ মন্মথনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বীণাবাদনের পাঁচটি দশ ইঞ্চি রেকর্ডের (১৯০৪-৫) উল্লেখ ছিল। এই তথ্য জানার পর নস্টালজিয়ায় বুঁদ হয়ে ১৯৫৭ থেকে শুরু হয় গ্রামোফোন রেকর্ডে যন্ত্রসঙ্গীত শোনা। পরে রেকর্ড খোঁজার ভূত মাথায় চাপে, বলছিলেন সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়। সেন্ট লরেন্স স্কুল হয়ে গোয়েঙ্কা কলেজে সাম্মানিক হিসাবশাস্ত্র পড়াকালীন সিইএসসি-তে আউটডোর ইনস্পেেক্টর পদে চাকরি। পায়ে হেঁটে কাজের এলাকায় যেখানেই গিয়েছেন, জহুরির চোখে খুঁজেছেন পুরনো রেকর্ড। ১৯৮১-৮২ নাগাদ গোপালনগর থেকে প্রথম ৯৫ টাকায় তিনটি রেকর্ড কেনা। গওহরজান, পেয়ারা সাহেব, মুক্তার বেগমের রেকর্ড দেখে শ্বশুরমশায় প্রফুল্লকুমার গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, প্রথমেই যা হাতে পেলে তা মহার্ঘ। ৭-১২ ইঞ্চির প্রায় দশ হাজার রেকর্ড নিয়ে এখন তাঁর ঘর সংসার। রেকর্ডের খোঁজে ধর্মতলা, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রাজাবাজার, মেটিয়াবুরুজ-সহ কোথায় না চষে বেড়িয়েছেন। ছায়াছবির গান, ক্লাসিক থিয়েটার, কৃষ্ণচন্দ্র দে-র ডিস্কোগ্রাফির সঙ্গে তাঁর সুরারোপিত গান ছাড়া গাওয়া গানের ৮০টি রেকর্ড, বন্দে মাতরম্ প্রথম রেকর্ড-সহ ৯৪টি রেকর্ড, গ্রামোফোন, রেকর্ড প্লেয়ার-লেবেল-কভার লিভস্, ক্যাটালগ, বাংলা পালা, সিনেমার বই ও হ্যান্ডবিল আরও কত কিছুই তাঁর সংগ্রহে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে ‘হারানো যুগ হারানো সুর’ অনুষ্ঠানে দুর্লভ রেকর্ডের গান ও প্রাসঙ্গিক তথ্য পরিবেশনে অতীতকে ফিরিয়ে আনলেন সত্তরোর্ধ্ব সঙ্গীত সংগ্রাহক।