অনেক কাল আগে কৃষ্ণনগরের বাড়িতে ফেলে আসা ছেলেবেলার কথা আজকাল প্রায়ই মনে পড়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। সে ‘‘বাড়িতে আনাচে কানাচে দারুণ গ্রীষ্মের দুপুরে সঙ্গীহীন ইতস্তত বিচরণরত এক বালকের কথা...’’, যে দেখতে পেত ‘‘বাড়িটার দেওয়ালে কোথাও নোনা লেগেছে, কোথাও বা পলেস্তরা খসে গেছে। এসবকিছুর মধ্যে ছবি তৈরি হচ্ছে।’’ গোঁফদাড়িওলা মানুষ, ঘোমটাঢাকা মেয়ে, জানা অজানা জীবজন্তু... কত রকমের ছবি! আবার ভাদ্র মাসে যখন মেঘের খেলা আকাশে, মেঘ থেকে তখন অজস্র ছবি তৈরি হতে থাকে... ছবি দেখতে দেখতে ছবি আঁকার সেই শুরু... ‘‘হিজিবিজিতে ভরে উঠত কাগজ— একটা ঘন বুনোট তৈরি হত। কাটাকুটির তলা থেকে আকার বেরিয়ে আসতে চাইত।... ’’ ছেলেবেলার সেই বালক মনটা যেন আরও ঘন হয়ে জাঁকিয়ে বসেছে চিরতরুণ অশীতিপর সৌমিত্রের মধ্যে। তাঁর ছবি আঁকার সেই খেলা এখনও চলে, নেহাত খেয়ালখুশিতে, রূপের রেখায় রঙের ধারায়। যদিও এখন থিয়েটার বা সিনেমার কাজে রূপসজ্জার কল্পনা প্রতিকৃতি হয়ে দেখা দেয় তাঁর ছবি আঁকায়, আর সেগুলিকে মেক-আপ’এর পরিকল্পনা আখ্যা দিলে সরল একটা ব্যাখ্যা মেলে বটে, তবুও শুধু মুখের দিকেই ঝোঁক চলে যায় কেন তাঁর ছবির, সে উত্তর মেলে না। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন সৌমিত্র: ‘‘অভিনেতা বলেই রাতদিন আমি লক্ষ মানুষের অভিব্যক্তির দিকে আবিষ্ট হয়ে তাকিয়ে থাকি— তাই কি শুধু মানুষের মুখ?... যেসব আঁকা অমন কাজের প্রয়োজনে আসেনি সেখানেও মুখ কি মুখোশের ছড়াছড়ি। কেন তা কি আমিই জানি?’’ যোগেন চৌধুরীর মনে হয়েছে ‘‘উঁচুমাপের যে কোনও বিষয়ের সৃষ্টিশীল এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিত্ব যখন অন্য কোনও মাধ্যমে নিজেকে বিন্দুমাত্র প্রকাশ করতে এগিয়ে আসেন সে ক্ষেত্রে তাঁর এই সব কাজের মধ্যেও কোনও না কোনও ভাবে সেই সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বের গভীরতা ও সংবেদনশীলতা প্রকাশ পেতে বাধ্য... সৌমিত্রদা’র চিত্রকলাতেও সেই বিষয়টি স্পষ্ট।’’ যোগেন চৌধুরীর এ রচনা এবং শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখবন্ধ-সহ সৌমিত্রর আঁকা নির্বাচিত ছবির অ্যালবাম ছবি ও ছায়া (সংগ্রহ ও নির্বাচন: জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য) প্রকাশ করছে পি সি চন্দ্র ও দে’জ, ১৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় পি সি চন্দ্র গার্ডেনস-এ। প্রতিটি ছবির তলায় একটি করে পদ্যও লিখে দিয়েছেন সৌমিত্র, যেমন সঙ্গের ছবিটির তলায়: ‘নট দেখে সব লোকেরই মাঝে/ নটের পটই লক্ষ সাজে’। এ আয়োজনের উপলক্ষ: আসন্ন ১৯ জানুয়ারি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ৮৫তম জন্মদিন।

আইনজ্ঞ 

তাঁর বিষয়-উদাসীন পিতা বিপিনবিহারী যখন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন, রাধাবিনোদ পালের (১৮৮৬-১৯৬৭) বয়েস তখন তিন। সেই বয়েস থেকেই জীবনসংগ্রাম শুরু। নিজের মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে একের পর এক বাধা পেরিয়েছেন রাধাবিনোদ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বার ঠাকুর আইন অধ্যাপক মনোনীত হন তিনি, ১৯৪৪-৪৬ ছিলেন উপাচার্য। হাইকোর্টের বিচারপতি, এবং টোকিয়ো আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের অন্যতম বিচারক ছিলেন। ব্যতিক্রমী রায়ে তিনি জাপানকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করতে রাজি হননি। এ জন্য পরে জাপানে বিপুল সম্মান পেয়েছেন। তাঁকে নিয়ে বাংলায় সদ্য দু’টি বই প্রকাশিত হল: একটি তাঁর দৌহিত্র সোমনাথ পাল রচিত বিচারপতি ডঃ রাধাবিনোদ পাল— জীবন বৃত্তান্ত, অপরটি আবুল আহসান চৌধুরীর বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল— এক বাঙালির জাপান জয়। সঙ্গের ছবি প্রথম বইটি থেকে।    

 

সম্মাননা 

১৯৭৭-এর জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ক্রীসমাস ও শীতের সনেট গুচ্ছ। নদীয়ার বঙ্গরত্ন মেসিন প্রেস–এ সাকুল্যে ২২৫ কপি ছাপা হয়েছিল, যার প্রথম ক্রেতা ছিলেন কৃষ্ণনাগরিক সুধীর চক্রবর্তী। সেই থেকে আজ অবধি, শুধু কবিতা নয়, সমগ্র সাহিত্যসৃষ্টিতে তিনি অন্য মাত্রা অর্জন করেছেন। তিনি কবি জয় গোস্বামী। শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন: “… ১৯৮৬ সালে তার ‘উন্মাদের পাঠক্রম’ আমাদের সামনে এসে পৌঁছল এক বিস্ফোরণের মতো।” এই ভূমিকালিপির সঙ্গে শঙ্খ ঘোষকে লেখা জয় গোস্বামীর বারোটি মূল্যবান অপ্রকাশিত চিঠি মুদ্রিত হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তী ও জিৎ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত জয় গোস্বামী: বৈচিত্র্যের বিস্তারে (বুক ফার্ম) বইটিতে। এই সম্মাননা গ্রন্থটির ভরকেন্দ্রে আছে জয়ের কাব্যভুবন। কাব্যগ্রন্থ, কাব্যোপন্যাস, কাব্যনাটক নিয়ে এগারোটি প্রবন্ধ ছাড়াও আছে কবি সম্পর্কে প্রতিমা ঘোষ, বিজয়লক্ষ্মী বর্মণ, ব্রাত্য বসু, শ্রীজাত-র ব্যক্তিগত স্মৃতিকথন। আছে অভীক মজুমদারের সঙ্গে কবির দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। দুষ্প্রাপ্য একগুচ্ছ ছবির পাশাপাশি আছে জয়ের বইয়ের বিজ্ঞাপন ও বিস্তারিত জীবন ও গ্রন্থপঞ্জি। বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জয় গোস্বামীর হাতে ‘অহর্নিশ সম্মাননা ২০১৯’ তুলে দেবেন শঙ্খ ঘোষ, ১৮ জানুয়ারি বাংলা আকাদেমি সভাঘরে, বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। 

 

জন্মদিনে 

অপরিচিত এক পরিবারের থেকে জন্মদিনের নিমন্ত্রণ পেয়ে একটু বিস্মিতই হয়েছিলেন প্রধান শিক্ষকমশাই। যাঁর জন্মদিন, সে তাঁর ছাত্রও নয়। রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ় অ্যাকাডেমির প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ তবু গেলেন। এবং তাঁরই হাত ভরল উপহারে। যাঁর জন্মদিন, সেই তরুণ তাঁর আত্মীয়-বন্ধুদের অনুরোধ করেছিলেন, উপহার না এনে দান করতে দৃষ্টিহীনদের স্কুলে। প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা সংগ্রহ হল ২৪ ডিসেম্বর। ‘‘ছেলেটি এখন লন্ডনে মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। শুনলাম, ছোটবেলা থেকেই নিজের হাতের কাজ বিক্রি করে কিছু কিছু টাকা দান করেছে আমাদের স্কুলে’’, বললেন বিশ্বজিৎবাবু। এ বারের উপহারের টাকায় ব্রেল কাগজ কেনা হবে দৃষ্টিহীন ছাত্রদের লেখা অভ্যাসের জন্য।  

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি 

বিশিষ্ট কত্থক নৃত্যশিল্পী ব্রিজমোহন মিশ্র, পণ্ডিত বিরজু মহারাজ নামেই সুপরিচিত। বাবা অচ্ছন মহারাজের কাছেই শিক্ষা শুরু, এবং প্রথম অনুষ্ঠান সাত বছর বয়েসে। নাচ শিখেছেন দুই কাকা লচ্ছু মহারাজ ও শম্ভু মহারাজের কাছেও। মাত্র ন’বছরে বাবার মৃত্যু। কয়েক বছর পরে দিল্লিতে চলে যান, এবং তেরো বছরেই নৃত্যশিক্ষা দিতে শুরু করেন। দিল্লিতে সঙ্গীত নাটক অকাদেমির কত্থক কেন্দ্রে দীর্ঘ কাল যুক্ত থেকে ১৯৯৮-এ অধিকর্তা হিসেবে অবসর নেন, প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব শিক্ষায়তন কলাশ্রম। নৃত্যের সঙ্গে ধ্রুপদী সঙ্গীত, তালবাদ্য ও তারযন্ত্রেও তাঁর দক্ষতা স্বীকৃত। লেখেন কবিতাও। ২০১৮-তেই আশি পূর্ণ করেছেন পদ্মবিভূষণ পণ্ডিত বিরজু মহারাজ। এই উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি সাড়ে ৩টেয় মহাজাতি সদনে ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নৃত্যাঙ্গন কত্থক কেন্দ্র, থাকবেন নবীন-প্রবীণ শিল্পীরা। সামগ্রিক পরিকল্পনায় পারমিতা মৈত্র।       

     

হীরক জয়ন্তী

ষাট বছর পেরোলে মানুষ ‘অশীতিপর’ হয়, প্রতিষ্ঠান নয়। বিশেষত তা যদি হয় ছোটবেলার ইস্কুল, তবে ছাত্রভারে ও সম্ভারে সে সতেজ, সপ্রাণ হয় আরও। রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় নরেন্দ্রপুরের সূচনা ১৯৫৮-তে, গত বড়দিনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরা জড়ো হয়েছিলেন হীরক জয়ন্তী বর্ষের পুনর্মিলন উৎসবে। সপরিবার এসেছিলেন প্রায় হাজার ছাত্র, বন্ধু-সান্নিধ্যে ‘প্রাক্তন’ ছাপ মুছে মাতলেন কৈশোরক উদ্‌যাপনে। প্রকাশিত হল স্মারক পত্রিকা ‘শ্রদ্ধা’। সূচনালগ্ন থেকে স্কুল যত জন সন্ন্যাসী প্রধানশিক্ষককে পেয়েছে, তাঁদের লেখা তো বটেই, তাঁদের নিয়ে কয়েক প্রজন্মের ছাত্রদের লেখাও জ্বলজ্বল তার পাতায়। স্মৃতি-তথ্য-প্রতর্কে উঠে আসা স্কুলের ইতিহাস।     

 

বিস্মৃত কবি

বাবা মনীন্দ্রনাথ মিত্র চাকরিসূত্রে দেওঘরে ছিলেন, সেখানেই ১৯১৭ সালের ১ জানুয়ারি হরপ্রসাদ মিত্রের জন্ম। ১৯২৫-এ তাঁরা স্থায়ী ভাবে হুগলির শ্রীরামপুরে চলে আসেন। বরাবরের কৃতী ছাত্র, স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক, ১৯৪০-এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। কবিতা চর্চা ছাত্রাবস্থাতেই, সাতাশ বছরেই অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা-সহ প্রকাশ পায় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘চলার গান’। সরকারি কলেজে শিক্ষকতা, প্রেসিডেন্সিতে বিভাগীয় প্রধান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র অধ্যাপক। আজীবন কাব্য চর্চার পাশাপাশি লিখেছেন নানা গবেষণাগ্রন্থ, বিশেষত শ্রীঅরবিন্দের জীবন ও দর্শন নিয়ে দুই খণ্ডে দেবতার দীপ হস্তে যে আসিল ভবে। ছাত্রদরদি এই সুবক্তা মানুষটি নানা সম্মান পেয়েছেন। ১৯৯৪ সালে ৭৭ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। নীরবে কেটে গিয়েছে তাঁর শতবর্ষ, তাঁর বহু বই আজ অমিল। দেশবিদেশে ছড়িয়ে থাকা তাঁর ছাত্রছাত্রীরা নীরব কেন?

 

পাঠাগার ৭৫

ক্রমশই কমে আসছে পাড়ার লাইব্রেরির কার্যকলাপ, কমছে পাঠক। এ হেন দুঃসময়ে ভবানীপুর পাঠাগারের পঁচাত্তর বছর পালন রীতিমতো সুখবর। দক্ষিণ কলকাতার এই প্রতিষ্ঠানটির জন্ম কানাইলাল নন্দীর বাড়িতে, ১৯৪৪। পরে ‘আবির্ভাব’ নামে একটি সাহিত্যসভাও শুরু হয়েছিল পাঠাগার কক্ষে, সজনীকান্ত দাসের সভাপতিত্বে। সেটি বন্ধ হওয়ার পর আয়োজিত হতে থাকে বিশেষ সাহিত্যসভা, তাতে তারাশঙ্কর বনফুল অচিন্ত্য সেনগুপ্ত প্রেমেন্দ্র মিত্র সুভাষ মুখোপাধ্যায় মহাশ্বেতা দেবী অন্নদাশঙ্কর রায়... কে না আসতেন! খোলা হয়েছিল কিশোর বিভাগও। বর্তমানে বিভিন্ন ধারার বহুবিধ বই ও দুষ্প্রাপ্য পুস্তকের বিপুল ভাণ্ডার এ পাঠাগার, ২৬ হাজার বই আছে। ৭৫-এর উৎসব ১২-১৩ জানুয়ারি পাঠাগার প্রাঙ্গণেই। ছবি আঁকা, গান, নাচ থেকে গুণিজন সংবর্ধনা— সবেরই আয়োজন। 

 

তান্তীধাত্রী

২০০৫ সালে ট্রানজ়িট ফেস্টিভ্যালে প্রথম আমন্ত্রিত হন পার্বতী বাউল। সে ছিল আন্তর্জাতিক মহিলাশিল্পী সমাবেশ। তখন থেকেই পার্বতীর স্বপ্ন, কী ভাবে ভারতে নিয়ে আসা যায় এমন উৎসব। ২০১২-য় পুদুচেরি ও অরোভিলে সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল। সেই সূচনা তান্তীধাত্রী উৎসবের। প্রাচীন পালি ভাষায় তান্তী হল সুতো, পরম্পরার সুতো। আর যে নারী ধারণ করেন তিনিই ধাত্রী। দ্বিতীয় পর্বে বেঙ্গালুরু ছুঁয়ে উৎসব এ বার পা রাখছে কলকাতায়, ১৫-২০ জানুয়ারি রাজারহাটের রবীন্দ্রতীর্থে। উৎসবে সারা বিশ্বের তেরোটি দেশের নাট্য বা অন্য শিল্পধারায় যে নারীরা পরম্পরার সাধনায় অগ্রগণ্য, যাঁদের গুরু হিসেবে মানা হয়, তাঁরাই উপস্থিত থাকবেন। পার্বতী বাউল ছাড়াও আসছেন জুলিয়া ভার্লে, জ়িল গ্রিনহাল্‌গ, ব্রিজিট কার্লার মতো আন্তর্জাতিক নাট্যব্যক্তিত্ব, মহারাষ্ট্রের ভক্তিসঙ্গীতের পাশাপাশি থাকবে কেরলের প্রাচীন নাট্যকলা মুদিয়াট্টু। প্রতি দিন সকালে মাস্টার ক্লাস ও বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে অনুষ্ঠান।  

 

নাট্যোৎসব 

চিরঞ্জীব গোস্বামী, ভাস্কর চট্টোপাধ্যায় ও অভিষেক দাস— তিন বন্ধুর খেয়ালে জন্ম নেওয়া আর্যভ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ২০১৫ সাল থেকে কাজ শুরু করে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য। তিন জনের ভাবনা আজ ১৫ জনের ইচ্ছে ও অনেকের আশায় পরিণত হয়েছে। আজ তারা সেবামূলক নানা কাজে ব্যাপৃত। দুঃস্থ থ্যালাসেমিয়া শিশুদের জন্য ৯-১২ জানুয়ারি নিরঞ্জন সদনে এক নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে আর্যভ। মূল উপদেষ্টা মেঘনাদ ভট্টাচার্য। সঙ্গে আছে চার্বাক (চিটেগুড়), মুখোমুখি (ঘটক বিদায়), রঙরূপ (জলছবি), সায়ক (দায়বদ্ধ)-এর মতো নাট্যদল। নাটক শুরু প্রতি দিন সন্ধে ৬.৩০ মিনিটে।  

 

হে একা সখা

বিষণ্ণতা সবার জীবনেই আসে। তবু তার মধ্য থেকে সৃষ্টির আনন্দের সন্ধান পাই ক’জন? রবীন্দ্রনাথ পেতেন। পারতেন বিষাদের মধ্যেও সৃষ্টির সুর খুঁজে নিতে। অবসাদের সেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাবনা ও লেখন: ‘হে একা সখা’। সঙ্গীত ও রূপায়ণে দেবজ্যোতি মিশ্র। রবীন্দ্রনাথ কি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন? তাঁর চি‌ঠি পড়বেন দেবশঙ্কর হালদার। সঙ্গে আছে গানও। সমগ্র অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স প্রযোজিত এবং পিকাসো ও শিল্পীমন নিবেদিত উত্তরণের আখ্যান ‘হে একা সখা’-র মঞ্চায়ন অবন মহলে, ১১ জানুয়ারি সন্ধে সাড়ে ৬টায়।

 

নাতনির চোখে

চোখ বুজলেই এখনও তাঁকে আমার চোখের সামনে দেখতে পাই, ঠিক যেমন অন্যদের দেখি’’, মহাত্মা গাঁধীর সম্পর্কে বলছিলেন তাঁরই পৌত্রী তারা গাঁধী ভট্টাচার্য। গাঁধীজির কনিষ্ঠ পুত্র দেবদাস এবং চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীর কন্যা লক্ষ্মীর বড় মেয়ে তারার জন্ম ১৯৩৪-এর ২৪ এপ্রিল। তাঁর তিন ভাই রাজমোহন, রামচন্দ্র ও গোপালকৃষ্ণ। দেবদাস বাবা-মায়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে সাংবাদিকতার কাজে যোগ দেন। তারাদেবী ছোটবেলা থেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন এ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে। সান্নিধ্য পেয়েছেন বহু বিশিষ্ট জনের। গাঁধীর আদর্শে প্রাণিত করে তুলেছেন নিজেকে। পরে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ জ্যোতিপ্রসাদ ভট্টাচার্যের সঙ্গে। মহাত্মা প্রতিষ্ঠিত কস্তুরবা গাঁধী ন্যাশনাল মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অধীনে তিনি নারী ও শিশুকল্যাণে কাজ করছেন দীর্ঘ দিন। গাঁধী স্মৃতি এবং দর্শন সমিতি-র উপাধ্যক্ষ পদে ছিলেন বহু কাল। আঠারো বছর ধরে গঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গেও ওতপ্রোত। গাঁধীজির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দিনগুলির স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন রিফ্লেকশনস অব অ্যান এক্সট্রাঅর্ডিনারি এরা (হার্পার কলিন্স)। ২০১৬-য় পেয়েছেন ফরাসি সরকারের ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’। সম্প্রতি ইতালীয় পরিচালক ফ্রাঞ্চেত্তির তথ্যচিত্র ‘দ্য হুইল অব খাদি’-তে ফরাসি ভাষায় সূত্র ধরেছেন তিনি। গাঁধীজির সার্ধশতবর্ষ এবং ভারত-ইতালি সম্পর্কের সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় সংগ্রহশালায় এই ছবির প্রদর্শনে ঘুরে গেলেন ওঁর এই স্মৃতি ঘেরা শহরে।