এমন ছেলে আমাদের আয়তনে কী করে সম্ভব হল! শিশুকাল থেকেই ওর ভিতর এমন-একটা প্রবল অনিয়ম আছে, তাকে কিছুতেই দমন করা গেল না। ঐ বালককে আমাদের ভয় হয়। ঐ আমাদের দুর্লক্ষণ। এই আয়তনের মধ্যে ও কেবল তোমাকেই মানে। তুমি ওকে একটু ভর্ৎসনা করে দিয়ো।’’ পঞ্চক সম্পর্কে উপাচার্য বলেছিলেন আচার্যকে, কিন্তু আচার্য পঞ্চককে অন্য কথা বলেন: ‘‘না না, আদেশ আমার কিছুই নেই। যদি ভুল করতে হয় তবে ভুল করো গে— তুমি ভুল করো গে— আমাদের কথা শুনো না।’’ যে ‘শোণপাংশু-জাতি’র সঙ্গে মেশা অলিখিত বারণ ছিল পঞ্চকের, তাদের সঙ্গে দল পাকিয়েই সে ভিত নড়িয়ে দেয় অচলায়তনের। রবীন্দ্রনাথের এই ‘অচলায়তন’ নাটকটিই আবার মঞ্চস্থ করছে পঞ্চম বৈদিক তাদের এ বার পঁয়ত্রিশ বছর পূর্তির বার্ষিক উৎসবে। (সঙ্গে স্থিরচিত্রে আচার্যের ভূমিকায় বাবু দত্ত রায় ও পঞ্চকের ভূমিকায় অর্পিতা ঘোষ)। অ্যাকাডেমিতে, উৎসবের শেষ দিন ২৬ অগস্ট, সন্ধে ৭টায়। ‘‘এ নাটককে রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক নাটক বলে মনে করি আমি। আর এই তো সময় এ নাটক পুনরায় অভিনয় করে দর্শককে উজ্জীবিত করে তোলার। যে ভাবে এ দেশের শাসকগোষ্ঠী কড়া নজরদারিতে বেঁধে ফেলতে চাইছে মানুষজনকে, সমাজকে, এখনই তো জানালাগুলি খুলে দেওয়া দরকার, সঙ্কীর্ণতার অচলায়তন ভেঙে বেরিয়ে আসা দরকার।’’ নির্দেশক অর্পিতা ঘোষ এ কথা জানানোর পাশাপাশি খেয়াল করিয়ে দিলেন, উৎসব শুরু ২২ অগস্ট, সে দিন শম্ভু মিত্রের জন্মদিন, ‘‘নাটকের ভিতর দিয়েই তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও।’’ ১৯৮৩-র ১১ অগস্ট যে ‘নাথবতী অনাথবৎ’ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পঞ্চম বৈদিক-এর যাত্রা শুরু, সে নাটক এ বার পাঠ-অভিনয় করবেন শাঁওলী মিত্র। আছে তাদের আরও দু’টি নাটক, ‘কারুবাসনা’ ও ‘আমোদিত রোদ্দুর’। পাঁচ দিনের এ উৎসবে আছে অনীক-এর ‘বুকঝিম এক ভালবাসা’, হাতিবাগান সঙ্ঘারাম-এর ‘তিন পয়সার পালা’, এবং চেতনা-র ‘ডন: তাকে ভালো লাগে’।

অন্য ইতিহাস

‘‘তোমার জন্য আজ রবি ঠাকুর অকালমৃত্যু থেকে বেঁচে গেল।’’ সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়কে বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। চুরি হয়েছিল তাঁর ঝর্না কলম, সেটাই শনাক্ত করতে আদালতে হাজিরার সমন এসেছিল। আইনজীবী সৌরীন্দ্রমোহন পরিস্থিতি সামলান, তাই এই উক্তি। রবি ঠাকুরকে না হয় লালবাজারে যেতে হয়নি, কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে লালবাজার আর তার গোয়েন্দাবাহিনী। কিংসফোর্ডের নির্দেশে পনেরো বছরের সুশীল সেনকে বেত্রাঘাত, বিশ্বাসঘাতক নরেন গোঁসাইকে মেরে কানাই-সত্যেনের ফাঁসি, সামসুল আলম হত্যা, রডা কোম্পানির বন্দুক লুট, টেগার্ট হত্যার চেষ্টা, রাইটার্স অভিযান, বীণা দাসের জ্যাকসন হত্যার চেষ্টা— লালবাজারের নথি ঘেঁটে এমন সব রোমাঞ্চকর কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছেন সুপ্রতিম সরকার, তাঁর স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার/ অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের রোমহর্ষক বীরগাথা (আনন্দ) বইয়ে। প্রকাশিত হল স্বাধীনতা দিবসে। 

 

ওড়িশার পটচিত্র

অনিতা বসু প্রায় দু’দশক ধরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের লোকশিল্প ও ঐতিহ্যমণ্ডিত শিল্প নিয়ে অনুসন্ধান ও নিয়মিত চর্চা করে চলেছেন। তিনি নিজেও শিল্পী, দেশবিদেশে বহু শিল্পপ্রদর্শনী, কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন। ওড়িশার পটশিল্পের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম রঘুরাজপুরে তিনি প্রথম পা রাখেন ২০১১-য়। বুঝতে পারেন, বাংলার পটচিত্রধারা বা অন্যান্য চিত্র থেকে ওড়িশার পটচিত্র ভিন্ন ও পুরো মাত্রায় সজীব। জগন্নাথদেবকে কেন্দ্র করেই সেখানে সর্বাধিক চিত্র ও শিল্পকলা গড়ে উঠেছে।ওড়িশার এই পটশিল্প, শিল্পী ও শিল্পশৈলী নিয়েই অনিতার তথ্যসমৃদ্ধ বই ওড়িশার পটচিত্রে জগন্নাথ-সংস্কৃতি (গাঙচিল) একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি দু’টি সংস্করণে সম্প্রতি প্রকাশিত হল রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারে। আছে বহু দুর্লভ ছবি। সঙ্গে তারই একটি— শৈব পটে নৃত্যরত দশভুজ শিব। 

 

বিজ্ঞান নিয়ে

তিনি বিজ্ঞানকে ছেড়েছেন, কিন্তু বিজ্ঞান তাঁর পিছু ছাড়েনি। প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় ডিগ্রি নিয়ে সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজ়িক্স-এ গবেষণার কাজে যোগ দিয়েছিলেন আশিসকুমার দাশগুপ্ত। জীবনের স্রোত তাঁকে নিয়ে গেল আয়কর দফতরে। উচ্চ পদ থেকে অবসর নিয়ে শেষ অবধি ফিরলেন বিজ্ঞানে। তাঁর লেখা বই বিজ্ঞান নিয়ে কয়েকটি গল্প প্রকাশ উপলক্ষে বিড়লা তারামণ্ডলে ২৫ অগস্ট সন্ধে ছ’টায় ‘বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা’ বিষয়ক আলোচনাসভা। থাকবেন শ্যামলকুমার ভদ্র।

 

তথ্যচিত্র-উৎসব

১৯৯০, তখন নাম বম্বে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, সেই শুরু। বিশ্ব জুড়ে ডকুমেন্টারি ছবির যে রমরমা, সেই আন্দোলনের শরিক হতেই এ উৎসবের আয়োজন ফিল্মস ডিভিশনের। পরে অবশ্য ‘বম্বে’ বদলে ‘মুম্বই’, আর সংক্ষেপে পরিচিতি ‘মিফ’ হিসাবে। তথ্যচিত্র তো বটেই, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি, অ্যানিমেশন— পৃথিবীব্যাপী সেরা চলচ্চিত্রের সম্ভার নিয়ে মুম্বইয়ে সেজে ওঠে এ উৎসব। লিপজ়িগ, বার্লিন, ওবেরহাউজ়েন-এর মতো খ্যাতনামা ডকুমেন্টারি ফেস্টিভ্যালের মতোই বিশিষ্ট উৎসব এখন মিফ। কিছু কাল হল শুরু হয়েছে এখানেও— ‘মিফ ইন কলকাতা’, তারই চতুর্থ সংস্করণ এ বার নন্দনে, ২২-২৪ অগস্ট, রোজ ২-৭টা। ২০১৬ ও ২০১৮-র সেরা ছবিগুলি দেখানো হচ্ছে, জানালেন সুময় মুখোপাধ্যায়, ফিল্মস ডিভিশন-এর পক্ষে। উদ্বোধনে প্রধান অতিথি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।

 

হাতেখড়ির ৮০

শক্তিচরণের খাতায় একটি কবিতা দেখে স্কুলের মাস্টারমশাই সাবধানবাণী লিখে দিয়েছিলেন: ‘‘লেখাপড়া সারা হবে ফেল হবে যে সদ্য/ শক্তিচরণ করি যে বারণ এখনি লিখনা পদ্য।’’ শক্তিচরণ ওরফে শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে যে সর্বনাশের ভয় দেখিয়েছিলেন গুরুমশাই, তা-ই কালে-কালে সর্বলাভ হয়ে দেখা দিল, শক্তির কলম থেকে বেরিয়ে এল হাজার হাজার পদ্য। ১৯৩৩-এ জন্মানো শক্তির গ্রামের বাড়িতে তাঁর হাতেখড়ি দিয়েছিলেন পণ্ডিতমশাই হাবু পুরোহিত, ১৯৩৮ সালে। এ বছর সেই হাতেখড়ি-র আশি বছর পালন করছে ‘সেতু’ সাংস্কৃতিক সংস্থা। ২৩ অগস্ট, বাংলা আকাদেমিতে বিকেল ৫টা ৪৫-এ। সভাপতি সুশীল সাহা, বিশেষ অতিথি শক্তি-পত্নী মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায় ও শক্তি-কন্যা তিতি রায়। শক্তি চট্টোপাধ্যায় স্মারক সম্মান পাবেন প্রদীপ ঘোষ, আর স্মারক বক্তৃতা দেবেন সৌমিত্র মিত্র। কবিতা ও নাট্যপাঠে বিজয়লক্ষ্মী বর্মন, রত্না মিত্র, কাজল সুর প্রমুখ।

 

নিজস্ব প্রদর্শশালা

সাতাশে পা দিল ‘দ্য ফ্রেম’। আর্ট কলেজের সহপাঠীদের ভাবনায় ১৯৯২ সালে তৈরি হয়েছিল দলটি। তারা কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই ও ভোপালে করেছে একাধিক প্রদর্শনী। এ ছাড়াও শিল্প আলোচনা, শিল্পশিবির, ছাপাই ছবির কর্মশালা, পোড়ামাটির কর্মশালা, লাইব্রেরি, দলের প্রতিষ্ঠা দিবস, শিল্পবিষয়ক ভ্রমণ, নানা গঠনমূলক কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে তারা। এ বার নতুন সংযোজন— নিজস্ব প্রদর্শশালা (১০ অশোক রোড, আলিপুর, কলকাতা-২৭)। এখানেই এ বার ‘দ্য ফ্রেম’-এর নয় সদস্যের ছবি ও ভাস্কর্যের প্রদর্শনী (২৬-২৯ অগস্ট, ৩-৮টা)। থাকবে লোকশিল্প বিষয়ক আড্ডা ও আলোচনাসভা।

 

মিনি ইনপুট

সমাজের চালচিত্র উঠে আসে, এতটাই প্রামাণ্য টেলিভিশন শো-গুলি। বাছাই-করা এমন একগুচ্ছ চলচ্ছবি দেখানোর আয়োজন করেছে ইনপুট/ ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক টেলিভিশন। দেখতে দেখতে মানুষজন এক ধরনের মানসিক বোঝাপড়াও তৈরি করে নিতে থাকেন মানবাধিকার সংক্রান্ত নানা ঘটনাপ্রবাহ ও সমস্যার সঙ্গে। ২৩-২৫ অগস্ট এসআরএফটিআই অডিটোরিয়ামে এই ‘মিনি ইনপুট ২০১৮’, এর লক্ষ্যই হল: ‘ওয়াচ/ ডিসকাস/ ডিবেট’। উদ্যোগে ইনপুট সোসাইটি আর এসআরএফটিআই-এর সঙ্গে আছে ম্যাক্সমুলার ভবনের গ্যেটে ইনস্টিটিউট ও ফোরাম ফর ফিল্ম স্টাডিজ় অ্যান্ড অ্যালায়েড আর্টস। এ বারের উৎসবটি ২০২১-এ এ দেশে প্রথম ইনপুট আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তুতিপর্ব। সঙ্গে জাপানের ‘টোকিয়ো ব্ল্যাক হোল’-এর স্থিরচিত্র।

 

পথের গান

সম্প্রতি দুই নবীন শিল্পী দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্তরা দত্তের কণ্ঠে আটটি রবীন্দ্রনাথের গান সংবলিত ‘পথে চলে যেতে যেতে’ (অন্য মিউজ়িক) শীর্ষক একটি সিডি প্রকাশ পেয়েছে। এমন তো কতই হয়। এর মধ্যে অভিনব যেটা, সেটা হল রবীন্দ্রনাথ পালকিতে যাওয়ার সময়, রেলপথে যাত্রাকালে, নদীবক্ষে নৌকোয় যেতে যেতে যে সমস্ত গান রচনা করেছিলেন, তা থেকেই আটটি গান চয়ন করে তৈরি হয়েছে সিডিটি। গানের সঙ্গে সেই প্রেক্ষাপটের কথাও জানা যাবে। সুব্রত সেনগুপ্তর পরিচালনা, সংকলন ও বিন্যাসে পীতম সেনগুপ্ত। ভাষ্যপাঠে সুকুমার ঘোষ।

 

সংস্কৃত সপ্তাহ

বিশ্বের অন্যতম ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে সংস্কৃতের কথা আমরা জানি। কিন্তু ক’জন খেয়াল রাখি, রাখিপূর্ণিমার দিনটি প্রতি বছর পালিত হয় ‘বিশ্ব সংস্কৃত দিবস’ হিসেবে? তাকে কেন্দ্র করেই সংস্কৃত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর ‘সংস্কৃত সপ্তাহ’ পালিত হবে ২৪-২৭ অগস্ট, রোজ সকাল ১১টা থেকে। উপাচার্য পলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন স্বামী সুপর্ণানন্দ। প্রথম দিন থাকবেন শিক্ষাবিদ বিডি চট্টোপাধ্যায়, পদার্থবিজ্ঞানী বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়, অমিত ভট্টাচার্য প্রমুখ। ২৫ অগস্ট থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী প্রমুখ। ওই দিন মঙ্গলাচরণ করে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করবেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। পরে তাঁর সঙ্গীতানুষ্ঠান। ২৬ অগস্টের আলোচনাচক্রে উপস্থিত থাকবেন গণেশ হেগড়ে এবং তারকনাথ অধিকারী। সঙ্গে শিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত। ছাত্রছাত্রীরাও সংস্কৃত ভাষায় বিতর্ক-কুইজ়-তাৎক্ষণিক প্রতিযোগিতায় শামিল হবে। 

 

চাঁদ-সূর্য বাড়ি

মধ্য কলকাতার বৌবাজার অঞ্চলে নানা পরিবারেই এখনও ঝুলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ৬৩ ধীরেন ধর সরণির ‘শ্রীমন্ত ভিলা’র ঝুলন আশি বছর ধরে ব্যতিক্রমী। শ্রীমন্ত ভিলার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিবারের আদিপুরুষ শ্রীমন্ত পণ্ডিতের পুত্র চন্দন পণ্ডিত শৈশবে বন্ধুদের উৎসাহে বাড়ির রকে পুতুল সাজিয়ে ঝুলন শুরু করেন, সেটা ১৯৩৫ সাল। বছর তিনেক পরে তিনি বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রের সাহায্যে পর্দায় সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, চন্দ্রোদয় এবং রাতের আকাশে বিভিন্ন গ্রহনক্ষত্রের অবস্থান দেখালেন। প্রথম বছরেই এই উদ্যোগ এত জনপ্রিয়তা পায় যে এর পর থেকেই এটি ‘চাঁদ-সূর্য বাড়ির ঝুলন’ নামে পরিচিত হয়। আজও সেই একই যন্ত্রে একই দৃশ্য দেখানো হয়, দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসেন এই অভিনব দৃশ্য দেখতে। সঙ্গে থাকে পুতুলের মাধ্যমে রামায়ণ বা মহাভারতের একটি ঘটনার প্রদর্শন। এ বার সেই ঝুলন দেখা যাবে ২২-২৬ অগস্ট।

প্রতিভা

শিশু বয়সেই মেয়ের ‘তাণ্ডব’ দেখে মণিপুরী নৃত্যের গুরু বিপিন সিংহ ভাবেন একে নিজের মতো করে গড়েপিটে তুলতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। পাশাপাশি মেয়ের ‘লাস্য’ দেখে গুরু কলাবতী দেবীও ভাবেন, একে তো খুব সহজেই নৃত্যপটীয়সী করে তোলা যায়। বাবা গুরু বিপিন সিংহ ও মা কলাবতী দেবীর ভাবনা একই বিন্দুতে মিলিত হতেই মেয়ে বিম্বাবতীকে তাঁরা ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যকলা মণিপুরী নৃত্যের নিয়মিত তালিমে পোক্ত করতে শুরু করলেন। বিম্বাবতী তখন থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি রপ্ত করতে থাকলেন মণিপুরী নৃত্যশৈলীর বিভিন্ন কলাকৌশল। প্রেসিডেন্সির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মণিপুরী নৃত্যে মাস্টার্স এবং মণিপুরী নৃত্যের গবেষক বাবার পথ ধরেই চেষ্টা করছেন মণিপুরী নৃত্যে বৈচিত্র আনতে। এই মুহূর্তে তিনি মণিপুরী নৃত্যে নতুন নতুন থিম নিয়ে দেশে বিদেশে নিয়মিত কাজ করছেন। হয়েছেন সফল, এসেছে সফলতা। এ বার তাঁরই ভাবনা, নৃত্য পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বছরভর চলতে থাকা গুরু বিপিন সিংহের (১৯১৮-২০০০) জন্মশতবর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ২৬ অগস্ট সন্ধে সাড়ে ৬টায় রবীন্দ্র সদনে দেখা যাবে ‘ঘনবারি বরিখত’ (রিফ্লেকশন ইন আ রেনড্রপ)। মণিপুরের সংস্কৃতি বর্ষার স্বল্পশ্রুত গান, নৃত্যরীতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সুন্দর আবেগপ্রবণ মেলবন্ধন বিম্বাবতীর এই সৃষ্টি। দর্শনা ঝাভেরির হাত দিয়ে প্রকাশ পাবে মণিপুরী নর্তনের পাঁচটি ভঙ্গিপরং-এর ভিডিয়ো। প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়েছিল ২৩ অগস্ট ২০১৭ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমিতে। আয়োজনে মণিপুরী নর্তনালয়।