কলকাতার মেয়েকে তাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মারধর এবং মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম ঋষি বুদ্ধদেব। শনিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রবিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

গত শুক্রবার রাতে বেনিয়াপুকুর গোরাচাঁদ রোডের বাসিন্দা বছর তেইশের এক তরুণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি অনলাইন লাইভ শোয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। সেখানে তাঁকে দেখেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘বুক অ্যান্ড রিল্যাক্স’ নামে এক সংস্থা। তরুণীর দাবি, ‘স্পনসর ট্রিপ’-এ তাঁকে তাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। মারধর করে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে ফোন করিয়ে দু’লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলেও তরুণীর অভিযোগ। পরে তরুণীর পরিজনেরা বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাই পুলিশ এবং তাইল্যান্ডের ভারতীয় দূতাবাস থেকে লোক গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে কলকাতায় পাঠায়।

লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে বেনিয়াপুকুর থানা অভিযুক্তদের সম্পর্কে তথ্য সং‌গ্রহ করে। তাইল্যান্ড থেকে ভারতে ফেরার জন্য কবে এবং কোন সময়ের টিকিট তাঁরা কেটেছেন তা-ও বার করা হয়। সেই টিকিটের সূত্র ধরেই দিল্লি যায় বেনিয়াপুকুর থানার তদন্তকারী দল। দিল্লি পুলিশের সহযোগিতায় শনিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই ঋষিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে তাঁরা জেনেছেন, একটি পর্যটন সংস্থার আড়ালে অনলাইন শো চালান ঋষি। সেই শোয়ে নানা রকমের খেলা চলে। তাতেই অংশ নিতে তরুণীকে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তরুণীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

আপাতত অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক পর্বের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। কথা বলে এ ধরনের ব্যবসা সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। ঋষির সঙ্গে এই ঘটনায় আরও যাঁরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।