দূষণ ঠেকাতে নোংরা জল শোধনের পরে তবেই টালি নালায় ফেলার নির্দেশ আগেই ছিল। পরিকল্পনা ছিল ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করে নিকাশির দূষিত জল শোধন করে টালি নালায় ফেলা হবে। কিন্তু জায়গা না মেলায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা যায়নি। অবশেষে এই প্রকল্পের জন্য দক্ষিণ কলকাতার দু’টি জায়গায় ফাঁকা জমি চিহ্নিত করল কেএমডিএ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে মাসখানেকের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে বলেও কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে।

কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতার যে দু’টি জমিতে নতুন ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি হবে, তার একটি হল গল্ফ গার্ডেন্সে। অন্যটি হল পাটুলির কাছে বৃজি রোডে। এই দু’টি ছাড়া আরও একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরির প্রকল্প রয়েছে। পুরসভার সূত্রের খবর, চণ্ডী ঘোষ রোডে অন্য একটি সরকারি জমি নিয়ে জটিলতা থাকায় পুরসভা তা অধিগ্রহণ করতে পারছে না। যদিও এই সমস্যা দ্রুত মিটবে বলে আশাবাদী পুর কর্তৃপক্ষ। গল্ফ গার্ডেন্সে যে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করা হবে, সেটির দূষিত জল ধারণের ক্ষমতা প্রায় ৫০ লক্ষ গ্যালন। বৃজি রোডের প্লান্টে রোজ প্রায় ৬০ লক্ষ গ্যালন জল পরিশোধন করা যাবে বলে পুরসভার এক 

আধিকারিক জানান। 

কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গার দূষণ আটকাতে ‘ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ প্রকল্পের ‘নমামি গঙ্গে’ স্কিমে টালি নালাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মূল গঙ্গার সঙ্গে যুক্ত টালি নালা গড়িয়া থেকে শুরু হয়ে প্রিন্সেপ ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার বিস্তৃত। শহরের নিকাশির বিপুল পরিমাণ জল ওই খালে গিয়ে পড়ে। 

কলকাতা পুরসভাই টালি নালার রক্ষণাবেক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের বরাদ্দকৃত অর্থে টালি নালার দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভা একটি ফরাসি সংস্থাকে দিয়ে প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করিয়েছে।

পুরসভা সূত্রের খবর, চণ্ডী ঘোষ রোডের জমিতেই সবচেয়ে বড় একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু ওই জমি কলকাতা পুলিশ দফতরের। জমিটির একাংশে পুলিশের আবাসন তৈরি হচ্ছে। ওই আবাসন প্রকল্পের জন্য বিকল্প জমি পুর কর্তৃপক্ষ এখনও দিতে না পারায় সেখানে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পরিকল্পনা আটকে রয়েছে। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে পুরসভার আলোচনাও হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

টালি নালা দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘‘টালি নালাকে দূষণমুক্ত করতে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে নোংরা জল পরিশোধন করে পরিষ্কার জল ফেলা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু জমি না পাওয়ায় সঙ্কট ছিল। আপাতত দু’জায়গায় জমি সঙ্কট মিটেছে। অন্য একটি জমি নিয়ে যে সমস্যা, তা দ্রুত মিটে যাবে বলে আশা করছি।’’