উদ‌্‌যাপনে অংশ নিয়েই ভোট-প্রচার
বড়বাজার এলাকায় রামনবমী করার হিড়িক সীমাবদ্ধ ছিল অবাঙালি কিছু গোষ্ঠীর মধ্যেই। তবে এ বার যেন রামের ‘ভক্ত’-এর সংখ্যাও অনেক বেড়ে গিয়েছে।
ec

প্রতীকী ছবি।

তাঁরা মুখে বলছেন, নববর্ষের উদ্‌যাপন বা রামনবমীর পুজো। তাই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে চলছে উৎসব। কিন্তু এলাকাবাসীও জানেন, আসলে সবই ভোটের ছাঁচে ফেলে যতটা সম্ভব জনতার মন কাড়ার চেষ্টা। রবিবার ছিল রামনবমী। সোমবার পয়লা বৈশাখ। পরপর দুটো দিনের উৎসবের মেজাজকে এ ভাবেই প্রচারের কাজে ব্যবহার করলেন কলকাতার অনেক কাউন্সিলর। রামের পুজো, নববর্ষের উৎসব বা হালখাতায় গণেশবন্দনাকেও ভোটের মোড়কে সাজিয়ে তুললেন তাঁরা। অধিকাংশ কাউন্সিলরই অবশ্য শাসক দলের। তবে তাঁদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন বিজেপি এবং বাম কাউন্সিলরেরাও।

বড়বাজার এলাকায় রামনবমী করার হিড়িক সীমাবদ্ধ ছিল অবাঙালি কিছু গোষ্ঠীর মধ্যেই। তবে এ বার যেন রামের ‘ভক্ত’-এর সংখ্যাও অনেক বেড়ে গিয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, লোকসভা ভোট আসন্ন বলেই কি এত ভক্তি? উত্তর কলকাতার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ইলোরা সাহা এ বার নিজের ওয়ার্ডে রামের মূর্তি গড়েছেন। স্থানীয় সাংসদের দেওয়া টাকায় তৈরি সেই মূর্তির সামনে রীতিমতো নৈবেদ্য সাজিয়ে পুজোও করেছেন তিনি। যা শুনে পাশের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় ওঝার টিপ্পনি, ‘‘মুখে যা-ই বলুন, এখন রামনাম করতে হচ্ছে ওঁদেরও।’’

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এলাকার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচুর অবাঙালির বাস। সেখানে শাসক দলের কাউন্সিলর অসীম বসুকে দলের হয়ে রামের ছবি নিয়ে পদযাত্রা করতে হয়েছে। উল্টো দিকে বিজেপি-র কাউন্সিলর মীনাদেবী পুরোহিতেরা রীতিমতো সশস্ত্র পদযাত্রা করে রামের জয়ধ্বনি করেছেন। যা শুনে ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাম কাউন্সিলর দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘এ বার দেখছি তৃণমূল এবং বিজেপি, দু’পক্ষই রাম নিয়ে লড়াই শুরু করেছে।’’ দক্ষিণ কলকাতার শ্রীকলোনিতে দেবাশিসবাবুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। বলেছেন, ‘‘ভোট বড় বালাই।’’

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

নতুন বছরের প্রথম দিন প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই ছিল প্রভাতফেরির আয়োজন। সেই প্রভাতফেরিতেও এ বার রাজনীতির রং। পদ্মপুকুরে প্রভাতফেরির পিছনে মাইকে বলা হয়, স্থানীয় লোকসভা প্রার্থী মালা রায়ের পক্ষ থেকে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। রাজডাঙায় হাজারখানেক শিশু ও মহিলার শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। উল্টোডাঙার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডেও শাসক দলের প্রার্থীর ছবিওয়ালা ক্যালেন্ডার বিলি হয়েছে। 

কাউন্সিলর অনিন্দ্যকিশোর রাউতের দাবি, ‘‘শোভাযাত্রায় কিন্তু ভোটের কথা বলা হয়নি।’’

রাসবিহারী এলাকায় ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর তিস্তা বিশ্বাস এ দিন কেয়াতলা কলোনিতে শ’চারেক বাড়িতে মিষ্টির প্যাকেট বিলি করেছেন। বললেন, ‘‘নতুন বছর তো। তাই মিষ্টিমুখ করালাম।’’ তার পরে আগ বাড়িয়েই বললেন, ‘‘এ সব কিন্তু ভোটের কথা ভেবে নয়।’’ 

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত