সেনাপতিরা দলীয় অফিস থেকেই হাওয়া বুঝবেন
টানা তিন মাস গোটা রাজ্যে ঘুরেছেন তৃণমূলের তারকা প্রচারক তথা মন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শনিবার বাইরে কোথাও যেতে না হলেও সকালেই বন্দর এলাকার কাউন্সিলরদের ডেকে পরিস্থিতি বুঝে নিয়েছেন সেখানকার বিধায়ক ফিরহাদ।
Sujan

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে শনিবার বৈঠক সারেন সুজন চক্রবর্তী। ভোটের সকালে থাকবেন বারুইপুরে। ছবি: শশাঙ্ক মণ্ডল

এত দিন ছিল পায়ের তলায় সর্ষে।

অবশেষে তাতে স্থিতি মিলেছে। কাঠফাটা রোদে আর চরকি পাক নয়। নির্বাচনের ‘গরমাগরম’ পর্ব শেষ পর্যায়ে। তা ঠিকঠাক উতরে দিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে নজর দিচ্ছেন ডান থেকে বাম সব দলেরই ভোট-সেনাপতিরা। জানাচ্ছেন, প্রায় তিন মাস টানা প্রচারের পরে একটু বিশ্রাম মিললেও তা যে বাড়ির ঠান্ডা ঘরে কাটছে, তেমনটা নয়। ভোট-সপ্তমীর আগের দিন শনিবার প্রায় সকলেরই কেটেছে ভোটের কাজে। তবে আজ, রবিবার ভোট ময়দানে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, দলীয় কার্যালয়ে বসে তাতে নজর রাখবেন বলেই দাবি সকলের।

টানা তিন মাস গোটা রাজ্যে ঘুরেছেন তৃণমূলের তারকা প্রচারক তথা মন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শনিবার বাইরে কোথাও যেতে না হলেও সকালেই বন্দর এলাকার কাউন্সিলরদের ডেকে পরিস্থিতি বুঝে নিয়েছেন সেখানকার বিধায়ক ফিরহাদ। এ দিন বিকেলে চেতলার দলীয় কার্যালয়ে বসে তিনি বলেন, ‘‘সব জায়গায় ভোটার স্লিপ পৌঁছেছে কি না, এজেন্ট ঠিক হয়েছে কি না, এই কাজগুলি মূলত ব্লক সভাপতিরা দেখলেও শেষ মুহূর্তে এক বার দেখে নিচ্ছি।’’ আর আজ, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত চেতলার দলীয় অফিসেই সারাদিন বসে ভোটের হাওয়ায় নজর রাখবেন ফিরহাদ। 

পঞ্চম দফাতেই তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গিয়েছে। তাই আজ সকাল থেকেই হাওড়ায় নিজের অফিসে বসে টিভিতে নজর রাখবেন শাসকদলের আরেক তারকা প্রচারক তথা মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পর্বে গোটা রাজ্যে মোট ১১২টি সভা করে আপাতত তিনি হাওড়াতেই থিতু হয়েছেন। শ্রীরামপুর লোকসভার গণনাকেন্দ্রে কারা থাকবেন তা নিয়ে শনিবার সকালে কর্মীদের ডেকে সেরে নিয়েছেন আলোচনা। দুপুরে গিয়েছিলেন হাওড়ার এক মৃত ও এক নিখোঁজ পর্বতারোহীর বাড়িতে। ঠান্ডা-গরমে ভাঙা গলায় বললেন, ‘‘বিরোধীরা যাতে কোনও ভাবে এই জেলা থেকে দুষ্কৃতী নিয়ে যেতে না পারেন সেটা দেখতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে কথা বলব।’’

খোশমেজাজে: দলীয় কার্যালয়ে ফিরহাদ হাকিম। শনিবার। ছবি: রণজিৎ নন্দী

কলকাতার ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা হলেও নিস্তার মিলেছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। দার্জিলিংয়ে বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারে এখন তিনি পাহাড়ে। বললেন, ‘‘২২টা লোকসভার প্রচার করে গায়ে প্রচুর ঘাম জমেছে। সেটাই দার্জিলিংয়ের ঠান্ডায় একটু শুকিয়ে নিচ্ছি। এখানে থেকেই শেষ পর্বের ভোটের খবর নেব।’’ তিন মাসের ক্লান্তি কাটাতে শনিবার সকাল থেকে বাড়িতেই কাটিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। তবে আজ সকালে ভোট দিয়ে সোজা পৌঁছে যাবেন প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে। ফোন ঘুরিয়ে কলকাতার সাত কেন্দ্রের খবর নেবেন। দুপুরে সেখানেই খাবেন হালকা খাবার।

নির্বাচনে টানা পরিশ্রমের পরে শনিবার ঠান্ডা মাথায় দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেই ব্যস্ত ছিলেন সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী। দুপুরে আলিমুদ্দিনের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ মুহূর্তের বৈঠক সেরে বিকেলে গিয়েছেন যাদবপুর, বারুইপুরে। তবে আজ, সকালে থাকবেন বারুইপুরের দলীয় ক্যাম্পে। বললেন, ‘‘ওখানে বসেই সব খবর নেব। প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলে যাব।’’ তবে বিরতির কোনও ব্যাপারই নেই বলে দাবি করলেন সিপিএমের আর এক নেতা রবীন দেব। এ দিন সকাল থেকে তাঁর কেটেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে। তবে ভোটের দিন সকাল থেকে আলিমুদ্দিনই ঠিকানা রবীনের।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত