দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে পথ বাতলে দিল কলকাতা পুলিশ। মাঝেরহাট সেতু দুর্ঘটনার পর দক্ষিণ কলকাতা থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সেখানকার মানুষ। ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, হাওড়া, শিয়ালদহ যেতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বেহালা, ঠাকুরপুকুর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটা বিস্তীর্ণ অংশের বাসিন্দাদের।

শুক্রবার লালবাজারে সাংবাদিক সম্মেলন করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (১) বিনীত গোয়েল বলেন, “দক্ষিণ কলকাতা থেকে ধর্মতলা যাওয়ার আরও বিকল্প পথ রয়েছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না। সেগুলি ব্যবহার করলে যানজট এড়ানো সম্ভব।”

পুলিশের পরামর্শ:

১) বেহালা থেকে ধর্মতলায় যাওয়ার জন্য তারাতলা হয়ে টালিগঞ্জ বা রাসবিহারী না গিয়ে, তারাতলা থেকে ব্রেসব্রিজ, হাইড রোড, খিদিরপুর, হেস্টিংসের রাস্তা ব্যবহার করুন।

২) বজবজ থেকে ধর্মতলায় যাওয়ার জন্য বাটা, ডাকঘর হয়ে ব্রেসব্রিজ হয়ে, খিদিরপুর, হেস্টিংস হয়ে ধর্মতলা অথবা হাওড়া যাওয়াই ভাল।

৩) ঠাকুরপুকুর বা জোকা থেকে কেউ যদি পার্ক স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড যেতে চান, তা হলে বেহালার জেমস লঙ সরণি অথবা এম জি রোড হয়ে টালিগঞ্জ, রাসবিহারী হয়ে যাওয়াই ভাল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো কলকাতা শহরে আর ২০ চাকার লরি ঢুকতে দেওয়া হবে না। এখন যে সব চালক বন্দরে লরি নিয়ে আটকে রয়েছেন, দু’দিনের মধ্যে সেগুলি শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়়া এই সুযোগে অটো বা ট্যাক্সি চালকেরা বেশি টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ করলে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। কিছু কিছু রাস্তা এখানও খারাপ রয়েছে। সেগুলি দ্রুত মেরামোতি কর দেওয়া হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।  

আরও পড়ুন: করবটা কী? ওতো বামেদের পরিষদ, ফাঁসিদেওয়া নিয়েও দায় এড়াল শাসকদল

অন্য দিকে এ দিন বেহালা থেকে ধর্মতলা, এসপ্ল্যানেড পার্ক স্ট্রিট, শিয়ালদহ এবং হাওড়ায় যাওয়ার জন্য বাস, মিনিবাসের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে বলে সরব হয়েছেন বাস মালিকেরা। তার জন্য ভাড়া বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয়েছে।

আরও খবর: শিয়ালদহ সেতুর নীচে পুরসভাকে ভাড়া দিয়েই কারবার, মেরামতি কী ভাবে?

এমনিতেই লাফিয়ে লাফিসে বাড়ছে পেট্রোল, ডিজেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় ৫০ রুটের বাস মালিক এবং কর্মীরা সমস্যায় পড়েছেন।