সম্পত্তি নিয়ে পুরনো বিবাদ দুই ভাইয়ের। তার জেরে হাতাহাতি করতে গিয়ে ভাইয়ের ধাক্কায় পড়ে যান দাদা। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে যাদবপুর থানা এলাকার বিক্রমগড় বাজার এলাকায়। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী পায়েল চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় ভাই অলোক চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ নম্বর ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। অলোকবাবু কলকাতা পুলিশের কর্মী। অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ-ডি পদে কর্মরত ছিলেন প্রদীপবাবু।

কী হয়েছিল রবিবার রাতে? পায়েলের অভিযোগ, ২৫-২৬ বছর ধরেই একই বাড়িতে থাকা দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছে। তাঁর অভিযোগ, রবিবার রাত ৯টা নাগাদ দুই ভাইয়ের গোলমাল শুরু হয়। তা রাস্তায় নেমে হাতাহাতিতে পৌঁছয়। পাড়ার লোকই দুই ভাইকে থামান। এর পরে দু’জনেই বাড়িতে ঢুকে যান। কিছু পরে প্রদীপবাবু বেরিয়ে এসে ভাইকে ফের আক্রমণ করেন। তখনই প্রদীপবাবুকে ধাক্কা মারেন অলোক। তিনি রাস্তায় পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। 

ঘটনার সময়ে প্রদীপবাবুর ছেলে দেবারূপ বাড়িতে ছিলেন না। তিনি খবর পেয়ে আসেন। পড়শিরা দ্রুত তাঁকে যোধপুর পার্কের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তত ক্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বিষয়টি পারিবারিক বিবাদ বলে মিটমাটের চেষ্টা করেন অনেক আত্মীয়। কিন্তু পায়েল তা মানতে রাজি হননি। সোমবার দুপুরে তিনি যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রথমে পুলিশ বারবার তাঁর অভিযোগের বয়ান ভুল হয়েছে বলে তা নিতে চায়নি। পরে তিনি নতুন করে অভিযোগ লিখে জমা দেন। 

যদিও অলোকবাবুর স্ত্রী বিষয়টি দুর্ঘটনা বলে জানান।

পড়শি এবং আত্মীয়েরা জানান, দু’ভাই এবং তাঁদের স্ত্রীদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি না থাকলেও তাঁদের দুই ছেলের মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই। এ দিন তার ছবিও ধরা পড়ে যাদবপুর থানায়। সেখানে জেঠিমার সঙ্গে থানায় গিয়েছিল অলোকবাবুর ছেলে। সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়া কিশোরের বক্তব্য, ‘‘ময়না-তদন্তের রিপোর্ট যা বলবে এবং পুলিশ যা বুঝতে তাই হবে। আমি কারও পক্ষে-বিপক্ষে নই।’’