এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে বেলেঘাটার লেবুগোলা বস্তির ঘর থেকে মৌমিতা রায় (২৯) নামে ওই মহিলার ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। তাঁর ছ’মাসের একটি মেয়ে রয়েছে। ময়না-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে পুলিশের ধারণা, মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ওই দিনই মৌমিতার বাবা শঙ্কর মণ্ডল মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে পণের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরেই মৌমিতার স্বামী বিশ্বজিৎ, শ্বশুর অরুণ রায়, শাশুড়ি মীরা রায় ও ননদ স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পণ আদায়ের জন্য নির্যাতন এবং পণঘটিত বধূ-মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতদের এ দিন শিয়ালদহ আদালতে  তোলা হলে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ হয়।

শনিবার সকালে লেবুগোলা বস্তিতে গিয়ে জানা যায়, মৌমিতা তাঁর শিশুকন্যা ও স্বামীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির অদূরে অ্যাসবেস্টসের ছাউনির একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন। বহ্নিতাকে মৌমিতার বাপের বাড়ির লোকজনের হাতে তুলে দিয়েছে বেলেঘাটা থানার পুলিশ। শ্বশুর, শাশুড়ি গ্রেফতার হওয়ায় তাঁদের বাড়িতে তালা লাগানো রয়েছে। পড়শিদের কয়েক জন জানান, মৌমিতা শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। তবে তাঁর স্বামীকে প্রায়ই ঘরে চিৎকার করে কথা বলতে শোনা যেত।

এ দিন বেলেঘাটা থানার সামনে দাঁড়িয়ে শঙ্করবাবু জানান, গত বছরের জুলাইয়ে বিশ্বজিতের সঙ্গে 

মেয়ের বিয়ে দেন তিনি। যৌতুক হিসেবে খাট, বিছানা, বাসনপত্র 

ছাড়াও ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তাঁর জামাই বেসরকারি হাসপাতালের ক্যান্টিনে কাজ করেন। 

মৌমিতার বাবার অভিযোগ, সম্প্রতি মোটরবাইক কিনে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন বিশ্বজিৎ। শঙ্করবাবু বলেন, ‘‘রাস্তা ঝাঁট দেওয়ার কাজ করি। কী করে অত টাকা পাব? তবু জামাইকে বোঝাতে বৃহস্পতিবার লেবুগোলায় গিয়েছিলাম। মেয়ে ওকে বাড়ি নিয়ে আসতে বলেছিল। আমি বলে এসেছিলাম, পুজোর আগেই নিয়ে যাব। তার 

মধ্যেই এই ঘটনা।’’

এ দিন মৌমিতার বাপের বাড়ির পাড়ার লোকজন জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ মৌমিতা তাঁর মাকে ফোন করে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেছিলেন। সাড়ে সাতটা নাগাদ বিশ্বজিৎ শাশুড়িকে ফোন করে জানান, মৌমিতা আত্মহত্যা করেছে।