গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে জল জমেছিল সোদপুরের এইচ বি টাউনে। তার পরে সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সেই জল নামেনি। অভিযোগ, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। ফলে রবিবার রাস্তায় নেমে প্রথমে বিক্ষোভ এবং পরে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় মানুষ। পরে অবশ্য প্রশাসনের তরফে জল সরানোর প্রতিশ্রুতি পেয়ে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে এলাকা জলমগ্নই ছিল। এর পরে গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় অবস্থা আরও শোচনীয়। এইচ বি টাউনের বেশ কিছু এলাকা নতুন করে জলমগ্ন হয়েছে। কাছাকাছি অমরাবতী ও তীর্থ ভারতীর অবস্থাও একই রকম। কোথাও গোড়ালি সমান তো, কোথাও হাঁটু সমান জল জমে রয়েছে। 

অভিযোগ, ওই সব এলাকার কোথাও কোথাও জমা জলে রাস্তা ও নর্দমা একাকার হয়ে গিয়েছে। এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই জল ঠেলেই বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারাও। ঘটনার পিছনে এলাকার বেহাল নিকাশিই কারণ বলে বাসিন্দাদের দাবি। তাঁরা জানান, একাধিক বার পানিহাটি পুরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়েও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। 

বর্তমানে পানিহাটি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। অভিযোগ, তার জেরেই কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। পুরসভার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেই এ দিন দুপুরে সোদপুর এইচবি টাউন মোড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় মানুষ। তার পরে রাস্তার উপরে সবাই চট পেতে বসে পড়েন। ঘণ্টা খানেক ধরে চলে অবরোধ।

সোদপুরে প্রথম দফায় অবরোধ চলে ঘণ্টা তিনেক। প্রথমে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠে গেলেও ঘণ্টাখানেক পরে দুপুর আড়াইটে নাগাদ ফের রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়েরা। কিছু ক্ষণের মধ্যে পুলিশ অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের উপরে লাঠি চালায়। পুলিশ যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ সবের জেরে সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোডে যানজটের সৃষ্টি হয়। দাঁড়িয়ে পড়ে একের পর এক গাড়ি। খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে। জমা জল সরানোর আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ ওঠে। ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসক আবুল কালাম আজাদ ইসলাম পানিহাটি পুরসভার প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, জমা জল সরাতে পুরসভা পদক্ষেপ করবে।