সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুজোর মুখে কাঁপছে শহর

Influenza
ফাইল চিত্র।
দোরগোড়ায় পুজো। তবে, ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই উত্তর থেকে দক্ষিণ— কাঁপছে সারা শহর। পুজোর উত্তেজনায় নয়, জ্বরের দাপটে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসেবেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪১৯ জন। তার সঙ্গে দোসর হয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা।
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসঘটিত জ্বর, সবই সংক্রামক। পুরসভা সূত্রের খবর, কলকাতার প্রতি এক বর্গ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে ২২ হাজার লোকের বাস। তাই কেউ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। পুজোর সময়ে বাইরে থেকে বহু মানুষ কলকাতায় আসেন। তাই ঝুঁকিটা আরও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি হাঁচি-কাশি, মাথার যন্ত্রণা, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে আলাদা রাখতে হবে। রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ডেঙ্গি ধরা পড়লে অবশ্যই আক্রান্তকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। যদি ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়, তা হলেও তাঁকে আলাদা ঘরে রাখা দরকার। ডেঙ্গি প্রতিরোধের জন্য আশপাশে জল জমতে না দেওয়ার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে। ইনফ্লুয়েঞ্জা রুখতে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাইরে থেকে আসার পরে চোখ, মুখ, হাত জলে ধুতে হবে।
মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার বলেন, ‘‘শরৎকালে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়ে। তাই এ সময়ে বাড়তি সতর্ক হওয়া জরুরি। বেশি জল খাওয়া দরকার। বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য এখন ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা রয়েছে। প্রকোপ রুখতে সেটা কার্যকর।’’ শিশু রোগ চিকিৎসক অপূর্ব ঘোষ বলেন, ‘‘ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ যথেষ্ট। বাচ্চাদের ছ’মাস বয়স থেকে এই টিকা দেওয়া যায়।’’ তবে, এই টিকা শুধুমাত্র ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস রুখবে, সব ধরণের সর্দি-কাশি নয়— জানাচ্ছেন তিনি।
পুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, সংক্রামক ব্যাধি রুখতে কী কী সতর্কতা নেওয়া দরকার, তার প্রচারে শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে হোর্ডিং ও ফেস্টুন টাঙানো হচ্ছে, বিলি হচ্ছে লিফলেট। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০টি করে হোর্ডিং দেওয়া হচ্ছে। মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘পুজোর সময়ে অনেকেই নিয়ম মেনে চলেন না। উৎসবের মেজাজে থাকেন। ভয় সেখানেই। এর উপরে মাঝে মাঝে বৃষ্টির কারণে জমা জলে মশার আঁতুড়ঘর তৈরি হচ্ছে।’’ মানুষ সজাগ না থাকলে শুধুমাত্র পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। কী ভাবে তার মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য দফতরের পদস্থ কর্তাদের নিয়ে জরুরি আলোচনাও করেন তিনি।
পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, মশাবাহিত রোগ নিবারণ জনস্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে পড়ে। কলকাতা শহরে তার নোডাল এজেন্সি পুরসভা। কিন্তু মানুষকে সচেতন হতে হবে আগে। শুধু স্বাস্থ্য দফতর নয়, জঞ্জাল অপসারণ, নিকাশি, রাস্তা, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং-সহ সব দফতরের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। নজর রাখতে হবে খোদ রাজ্য সরকারকেও। সেই কাজটা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ ওই কর্তার। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তার দাবি, মশা নিধনে শুধুমাত্র ধোঁয়া যথেষ্ট নয়। বৃষ্টির পরে যাতে কোনও এলাকায় জল জমতে না পারে, সে দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। এ কথা বারবার পুরসভার সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
এক পুরকর্তা জানান, কলকাতার মতো বড় শহরে কে কোথায় জল জমিয়ে রাখছে, তা দেখা পুর স্বাস্থ্য দফতরের কাজ নয়। ফেস্টুন-ব্যানার দিয়ে ঢালাও ভাবে বলা হচ্ছে, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশার বংশ নিধন করা পুরসভার অন্যতম কাজ। সেটা পুরসভার র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম করে যাচ্ছে। কিন্তু জল জমানো বা রোগ লুকিয়ে রাখা— এ সবের দায় তো পুরসভার নয়। পুজোর মুখে শহরবাসীর কাছে পুর প্রশাসনের বার্তা, বাড়ির কেউ বা কোনও প্রতিবেশী জ্বরে আক্রান্ত হলে বা মশাবাহিত রোগে ভুগলে পুরসভাকে খবর দিন। এর জন্য পুরসভার কন্ট্রোল রুমের তিনটি নম্বর (২২৮৬১২১২, ২২৮৬১৩১৩ এবং ২২৮৬১৪১৪) জানিয়ে দিয়েছেন পুরকর্তারা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন