অরবিন্দ সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন, শনিবারেও পিছু ছাড়ল না যানজট। তার উপরে এ দিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলা থাকায় উল্টোডাঙা স্টেশন সংলগ্ন রাস্তায় গাড়ির চাপ ছিল বেশি। ক্যানাল ইস্ট এবং ক্যানাল ওয়েস্ট রোডের মোড়ে বেলি ব্রিজে যানজট ছড়াও আর জি কর রোড, বেলগাছিয়া রোড, শ্যামবাজার, মুচিবাজারের খালধারের রাস্তাগুলিতে বহু ক্ষণ থমকে ছিল যান চলাচল। পাশাপাশি মানিকতলা মেন রোড, রাজাবাজার, বেলেঘাটা, এন্টালি অঞ্চলেও গাড়ির গতি ছিল শ্লথ। গোদের উপরে বিষফোড়ার মতো কিছুটা ঘুরপথে যেতে হচ্ছে বলে ইতিমধ্যেই বাড়তি ভাড়া হাঁকছেন অটোচালকেরা। ফলে, সব মিলিয়ে নাজেহাল হতে হয়েছে যাত্রীদের।

উল্টোডাঙা থেকে শোভাবাজার মেট্রো পর্যন্ত খাতায়-কলমে ভাড়া ১২ টাকা। অথচ যাত্রীদের দিতে হচ্ছে ২০-৩০ টাকা। বাড়তি ভাড়া দেওয়া নিয়ে তাঁদের সঙ্গে চালকদের বাগ্‌বিতণ্ডার অভিযোগও এসেছে প্রচুর। সল্টলেক ও পাঁচ নম্বর সেক্টরের দিকেও অটোচালকদের একাংশ ইচ্ছে মতো ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমস্যা ঠিক কোথায়?

পুলিশ জানাচ্ছে, সল্টলেক বা উল্টোডাঙা থেকে শ্যামবাজার-ডানলপমুখী বাসগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে লেক টাউন, বেলগাছিয়া ও আর জি কর রোড দিয়ে। ফলে আর জি করের সামনে গাড়ির চাপ বাড়ছে। অন্য দিকে, উল্টোডাঙা থেকে খন্নার দিকে যাওয়া অটো ও ছোট গাড়িগুলি অরবিন্দ সেতুর বাঁ দিক দিয়ে এবং খন্না থেকে উল্টোডাঙার দিয়ে যাওয়া গাড়ি সেতুর ডান দিক দিয়ে চলাচল করছে। ওই দু’টি রাস্তা এমনিতেই সরু ও ঘিঞ্জি। গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় মন্থর হয়ে পড়ছে। যানজট সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার।

অন্য দিকে, দক্ষিণে জীবনানন্দ সেতু বন্ধ থাকায় এ দিন সকালে গাড়ির চাপ ছিল বাইপাস ও প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড কানেক্টরের সংযোগস্থলেও। কারণ, বাইপাস থেকে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড কানেক্টরে কোনও যানবাহনকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সেগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গড়িয়াহাট বা সন্তোষপুর এবং পাটুলি দিয়ে। পাশাপাশি, চেতলা লকগেট ব্রিজ বন্ধের কারণে যানবাহন ধীরে চলাচল করেছে দুর্গাপুর ব্রিজ ও টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে। রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়েও গাড়ির চাপ বেশি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।