শহরকেন্দ্রিক মেট্রো প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছেন মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। তাই যেখানে ন্যূনতম যা যা সমস্যা রয়েছে, তা কাটাতে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। জট কাটাতে আগামী কাল, শুক্রবার, মুখ্যসচিব মলয় দে মেট্রোর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে খবর।

ইস্ট-ওয়েস্ট, গড়িয়া-বিমানবন্দর এবং জোকা-বি বা দী বাগ মেট্রো প্রকল্পের কাজ চলছে এই মুহূর্তে। তবে প্রশাসন সূত্রের খবর, বেশি সমস্যা রয়েছে জোকা-বি বা দী বাগ মেট্রো প্রকল্পকে ঘিরে। সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, জোকার কাছে কারশেড তৈরির জন্য যে জমি প্রয়োজন, তার বেশির ভাগটাই জোগাড় হয়েছে। কিছুটা জমি এখনও দরকার। শুক্রবারের সম্ভাব্য ওই বৈঠকে এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হতে পারে। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘‘শুধু জমির সমস্যাই নয়, মেট্রো প্রকল্পের সামনে একটি বাড়ির উপস্থিতিও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরেও আইনি জটিলতায় বাড়িটি ভাঙা যাচ্ছে না। ওই জট কাটলে প্রকল্পের কাজ অনেকটা গতি পাবে।’’

প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের অবশ্য দাবি, জোকা-বি বা দী বাগ মেট্রো প্রকল্পের বাকি সব জট কেটে গিয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় মোমিনপুর থেকে ময়দান হয়ে এসপ্লানেড পর্যন্ত মাটির তলা দিয়ে মেট্রোর লাইন নিয়ে যাওয়ায় আর সমস্যা নেই। এত দিন তা আটকে ছিল সেনাবাহিনীর অনুমতির জন্য। সম্প্রতি অনুমতি মিলেছে। ফলে জমি ও আইনি সমস্যা কাটানো গেলেই আর কোনও বাধা থাকবে না।

সরকারি সূত্রের খবর, গড়িয়া-বিমানবন্দর প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বিশেষ কোনও বাধা নেই। ওই প্রকল্পে নকশার ন্যূনতম যেটুকু পরিমার্জন দরকার, তা হয়ে যাবে শীঘ্রই। নতুন পরিকল্পনায় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো হলদিরামের কাছে শেষ হবে। গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রোর পথ মাটির তলায় প্রবেশ করবে সেখান থেকই। যাত্রীদের সুবিধার্থে দু’টি রুটের সংযোগসাধন করা হবে একই জায়গায়। ফলে ইস্ট-ওয়েস্ট রুটের কোনও যাত্রী বিমানবন্দর যেতে চাইলে হলদিরামের কাছ থেকে গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রোয় সওয়ার হতে পারবেন সহজেই।

প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে ২০২১ সাল থেকে একে একে মেট্রো প্রকল্পগুলি চালু হতে বাধা থাকবে না। এক কর্তার কথায়, ‘‘এর মধ্যে অনেক দিন সমন্বয় বৈঠক হয়নি। তাই আগামী বৈঠকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ ছাড়াও প্রকল্পগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত রাজ্যের সব দফতর বৈঠকে থাকবে।’’