সময় মতো স্টেশনে ট্রেন না আসা, এসি কামরায় জল পড়ার মতো বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে অনেক দিন ধরেই জেরবার কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত সেই সব অভিযোগের অধিকাংশই অস্বীকার করে থাকেন তাঁরা। এ বার এক যাত্রী প্ল্যাটফর্মের উল্টো দিকে ট্রেনের দরজা খুলে যাওয়ার অভিযোগ আনলেন। তিনি বিষয়টি পোস্ট করেছেন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও। যদিও গত বুধবার ওই ঘটনাটি আদৌ ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে মুখে পুরোপুরি কুলুপ এঁটেছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। উল্টে ওই মহিলা যাত্রীর বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা।

ঘটনাটি ঠিক কী হয়েছিল? ওই যাত্রী জানিয়েছেন, তিনি সে দিন যতীন দাস পার্ক যাওয়ার জন্য দমদম থেকে মেট্রোয় ওঠেন। ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় ছ’মিনিট পরে, ১১টা নাগাদ ট্রেনটি ছাড়ে। আট মিনিট পরে শ্যামবাজার পৌঁছয় ট্রেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই স্টেশনে মেট্রোর ডান দিকের দরজা খোলার কথা। ওই যাত্রী জানিয়েছেন, সে ভাবেই দরজা খোলে। যাত্রীরাও ওঠা-নামা করেন। নির্দিষ্ট সময় পরে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, হঠাৎ কিছু ক্ষণ পরে বাঁ দিকের দরজা খুলে যায়। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধও হয়ে যায়। ভিড় ট্রেনে অসতর্ক হয়ে কেউ দরজায় হেলান দিয়ে থাকলে বড় অঘটন ঘটতে পারত বলে মনে করছেন যাত্রীদের একাংশ।

অভিযোগকারিণী বলেন, ‘‘হঠাৎ দেখলাম, ট্রেনের উল্টো দিকের দরজা খুলে গেল। তার পরেই বন্ধ হয়ে গেল। যাত্রীদের অনেকে বিষয়টি নজর করলেও তা নিয়ে আর কেউ হইচই করেননি।’’ প্রসঙ্গত, ‘দরজায় হেলান দেওয়া বিপজ্জনক’— এই সতর্কবার্তা মেট্রোর প্রতিটি কামরায় লেখা থাকলেও ভিড় ট্রেনে অনেকেই দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় যদি আচমকা উল্টো দিকের দরজা খুলে যায়, তবে পড়ে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যে থাকে, তা মানছেন যাত্রী থেকে শুরু করে মেট্রো কর্তৃপক্ষও।

মেট্রো সূত্রের খবর, প্ল্যাটফর্মের উল্টো দিকে মেট্রোর দরজা খুলে যাওয়া গুরুতর ত্রুটি বলেই বিবেচিত হয়। বছরখানেক আগে পার্ক স্ট্রিটে কবি সুভাষগামী একটি মেট্রোতেও এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ উঠেছিল। তবে কেন তা হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, সব স্টেশনেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেখানেই বিষয়টি ধরা পড়ার কথা। যদিও প্ল্যাটফর্মের উল্টো দিকে মেট্রোর দরজা খুললে তা কতটা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়বে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। কারণ, প্ল্যাটফর্মের বিপরীতে সিসি ক্যামেরা থাকে না।

এ প্রসঙ্গে মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভুল করেও মেট্রোর দরজা উল্টো দিকে খোলার কথা নয়। ওই অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার পরে চার দিন কেটে গেলেও তিনি ওই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি। বরং বলেছেন, অভিযোগ মিথ্যা হলে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইন্দ্রাণীদেবীর কথায়, ‘‘কর্তব্যরত গার্ড এবং মোটরম্যানের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঘটনার সত্যতা জানতে ডেটা লগারের (ট্রেনের তথ্য রাখার যন্ত্র) সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।’’ অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁরা কিছু না জানানোয় কোনও পদক্ষেপ আদৌ করা হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।