টোকেন কেনা এবং স্মার্ট কার্ড রিচার্জের ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাউন্টার নির্ভরতা কমাতে তৎপর ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এর জন্য পাঁচ নম্বর সেক্টর থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ছ’টি স্টেশনেই অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিন বসাচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, যাত্রীদের টোকেন এবং কার্ড পরীক্ষা করার জন্য ৪৪টি স্বয়ংক্রিয় গেটও বসানো হচ্ছে। যদিও যাত্রীর সংখ্যার সঙ্গে তাল রেখে যন্ত্র-নির্ভর পরিকাঠামো শুরুতে মসৃণ হলেও ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মেট্রো আধিকারিকদের একাংশ।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সূত্রের খবর, উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর ২৪টি স্টেশনের মধ্যে কেবল দমদমে স্মার্ট কার্ড রিচার্জ করার জন্য দু’টি অটোমেটিক ভেন্ডিং মেশিন রয়েছে। সেখানে স্মার্ট কার্ডে রিচার্জ করা গেলেও ওই যন্ত্র থেকে টোকেন কেনা যায় না। তবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ক্ষেত্রে তুলনমূলক ভাবে আধুনিক মানের যন্ত্রে ওই দুই সুবিধেই থাকছে বলে মেট্রো সূত্রের খবর। নোট এবং কয়েন ব্যবহার করে যাত্রীরা যেমন টোকেন কিনতে পারবেন, তেমন ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড রিচার্জ করার ব্যবস্থাও থাকবে আধুনিক মানের ওই যন্ত্রে। আপাতত, ছ’টি স্টেশনে টিকিট কাউন্টার এবং স্টেশন সামলানোর জন্য ১৬ জন ট্র্যাফিক সুপার এবং ২০ জন ট্র্যাফিক অ্যাসিস্ট্যান্টকে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মোট ৩৬ জন বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মী দু’শিফ্‌টে ছ’টি স্টেশনের দায়িত্ব সামলাবেন বলে মেট্রো সূত্রের খবর। 

পাঁচ নম্বর সেক্টর থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার মেট্রো পথে ছ’টি স্টেশনে ৪৪টি অটোমেটিক ফেয়ার কালেকশন (এএফসি) গেট বসানো হচ্ছে। এর মধ্যের স্টেশনগুলিতে সম্ভাব্য যাত্রীর সংখ্যা আঁচ করে কম-বেশি চার ধরনের গেট বসানো হচ্ছে। যে সব স্টেশনে সকাল এবং সন্ধ্যায় যাত্রীদের বিপরীতমুখী প্রবাহ রয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বয়ংক্রিয় ঢোকা ও বেরোনোর দরজা থাকছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভিড়ের সময়ে যাত্রীরা যাতে একই গেট দিয়ে ঢুকতে ও বেরোতে পারেন, সেই জন্য রিভার্সিবল বা উভয়মুখী গেট থাকছে। সল্টলেক স্টেডিয়ামে ফুটবল ম্যাচের সময়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কথা মাথায় রেখে পৃথক ঢোকা-বেরোনোর বদলে ছ’টি রিভার্সিবল গেট রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রিভার্সিবল ওয়াইড গেট থাকছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এক মেট্রোকর্তা বলেন, ‘‘অন্যান্য পরিবহণ মাধ্যমগুলিতে কী সংখ্যায় যাত্রীরা যাতায়াত করেন, তা দেখেই সম্ভাব্য যাত্রীর হিসেব করা হয়েছে।’’ 

মেট্রো সূত্রের খবর, সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়ে পাঁচ নম্বর সেক্টর থেকে সল্টলেক স্টেডিয়ামের মধ্যে মেট্রো চলাচল শুরু হবে। স্টেশনগুলির বাণিজ্যিক পরিকাঠামো পরিষেবা শুরু করার পক্ষে অপ্রতুল না হলেও পরে যাত্রীর সংখ্যা বাড়লে, তা সমস্যার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে বলে মত মেট্রো আধিকারিকদের একাংশের। ফুলবাগান এবং শিয়ালদহ পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় ট্রেন চলাচল শুরু হলে যাত্রীসংখ্যা অনেকটাই বাড়বে। এই পথে হাওড়া ময়দান এবং এসপ্লানেড যুক্ত হলে, সেই সংখ্যা এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এক মেট্রো আধিকারিক বলেন, ‘‘গত কয়েক বছরে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোয় উল্লেখযোগ্য হারে যাত্রী বেড়েছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতেও তাই সম্ভাব্য সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে।’’ 

সে ক্ষেত্রে টোকেন বিক্রি এবং স্মার্ট কার্ড রিচার্জ ছাড়াও প্ল্যাটফর্মে ঢোকা এবং বেরিয়ে আসার জন্য এখনকার পরিকাঠামো অপ্রতুল হতে পারে বলেই মনে করছেন মেট্রোকর্তাদের একাংশ। তবে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর স্মার্ট কার্ড যাতে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতেও ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওই আধিকারিক।