ভেজাল খাবার প্রতিরোধ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার চলে এল কলকাতায়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কলকাতা পুর এলাকায় ওই গাড়ি ভেজাল খাবার রুখতে কাজ শুরু করে দেবে। কেন্দ্রীয় ফুড সেফটি কমিশনের পাঠানো অত্যাধুনিক এই গাড়িটি আগেই রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছয়। বৃহস্পতিবার তা আনা হয় পুরভবনে। গাড়িটি দেখতে যান পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ-সহ তাঁর দফতরের পদস্থ আধিকারিকেরা। 

কী আছে ভ্রাম্যমাণ ওই পরীক্ষাগারে ? ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, খাবার পরীক্ষার যাবতীয় সরঞ্জাম-সহ গ্যাস সিলিন্ডার, মাইক্রোওয়েভ অভেন, মালপত্র রাখার আপার রেক, কম্পিউটার কাম মনিটর, ভেজাল খাবার সংরক্ষণ করার ফ্রিজ এবং আগুন নেভানোর সিলিন্ডারও রয়েছে। অতীনবাবু জানান, প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা দাম এই গাড়িটির। ভেজাল অভিযানে যাওয়ার সময়ে ওই গাড়িতে ফুড সেফটি অফিসার-সহ চার জন বিশেষজ্ঞ থাকবেন। আপাতত ঠিক হয়েছে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরবে গাড়িটি। বড় দোকান ও বাজারের ছোট খাবারের দোকানে গিয়ে পরীক্ষা করা হবে। তা ছাড়াও, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যেখানে ফুটপাতের খাবারের দোকানে ভিড় হয়, সে সব জায়গাতেও পৌঁছে যাবে এই চলমান পরীক্ষাগার।

কী ধরনের ভেজাল খাবার পরীক্ষা করা যাবে ওই গাড়িতে? ফুড সেফটি দফতরের এক আধিকারিক জানান, দুধে ভেজাল মিশেছে কি না, ভোজ্য তেলে অন্য তেল মেশানো রয়েছে কি না, নরম পানীয়ে খনিজ অ্যাসিডের ব্যবহার হয়েছে কি না, মিষ্টি বা কেক জাতীয় খাবারে নিষিদ্ধ রং আছে কি না— সবই দেখা যাবে। এ ছাড়াও আরও অনেক ধরনের পরীক্ষা করা যাবে এই গাড়িতে বসে।

ভিতরে রয়েছে খাবার পরীক্ষার ব্যবস্থা।

অতীনবাবু জানান, খাবার নিয়ে সন্দেহ হলে যে কেউ ওই গাড়িতে গিয়ে তা পরীক্ষা করাতে পারবেন। এর জন্য কিছু খরচ হতে পারে। তবে তা কত, ঠিক হয়নি। দিন কয়েকের মধ্যে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরেই কাজ শুরু করে দেবে ওই গাড়ি।