শপথ ঘিরে বিজয়োৎসবে বিজেপি
শুধু পুরসভাতেই নয়, এ দিন সারা শহরেই বিভিন্ন জায়গায় মোদীর শপথ গ্রহণ উপলক্ষে জয়োৎসব পালন করা হয়েছে। যেমন, বড়বাজারের কলাকার স্ট্রিটে লাড্ডু বিতরণের আয়োজন করেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজয় ওঝা।
Laddu

মিষ্টি-মুখ: বড়বাজারে কলাকার স্ট্রিটে তৈরি হচ্ছে লাড্ডু। বৃহস্পতিবার। ছবি: দেশকল্যাণ চৌধুরী

একে অপরকে আবির মাখিয়ে দিচ্ছেন। সঙ্গে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। বাদ পড়েনি লাড্ডু বিতরণও। বৃহস্পতিবার, নরেন্দ্র মোদীর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন কলকাতা পুরসভার ‘কাউন্সিলর্স রুম’-এ এ ভাবেই বিজয়োৎসব পালন করলেন বিজেপি প্রভাবিত ‘কেএমসি শ্রমিক কর্মচারী সঙ্ঘ’-এর সদস্যেরা।

যদিও ওই সংগঠনের দাবি, মোদীর ব্যানার টাঙাতে গিয়ে এ দিন তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি, পুরো অনুষ্ঠান আদৌ করা যাবে কি না, তা নিয়েও এক সময়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। কারণ, পুর কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বলে সংগঠনের অভিযোগ। ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অশোক সিংহ বলেন, ‘‘যে কোনও ইউনিয়ন যে ভাবে নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান করে, সে ভাবেই আমরা অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও আপত্তি জানিয়েছিলেন পুর কর্তৃপক্ষ। পুলিশি বাধারও সম্মুখীন হতে হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আমরা অনুষ্ঠান করতে পেরেছি। এটা আমাদের সকলের কাছে ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।’’ পুরসভার এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘যেখানে সেখানে ব্যানার টাঙানো নিয়ে একটা আপত্তি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো ওঁরা অনুষ্ঠান করতে পেরেছেন।’’

শুধু পুরসভাতেই নয়, এ দিন সারা শহরেই বিভিন্ন জায়গায় মোদীর শপথ গ্রহণ উপলক্ষে জয়োৎসব পালন করা হয়েছে। যেমন, বড়বাজারের কলাকার স্ট্রিটে লাড্ডু বিতরণের আয়োজন করেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজয় ওঝা। সকাল থেকেই এলাহি আয়োজন। চারতলার হলঘরে একাধিক ব্যক্তি এক-একটি পেল্লায় মাপের গোল পাত্রকে ঘিরে বসে রয়েছেন। তৈরি করছেন লাড্ডু। কেউ কেউ লাড্ডু সাজিয়ে রাখছেন অন্য পাত্রে। মাথায় তাঁদের গেরুয়া টুপি। কারও গেঞ্জিতে লেখা ‘আমি চৌকিদার’, কারও গেঞ্জিতে ‘আরও এক বার মোদী সরকার’। ঘরের এক দিকে মোদীর কাটআউট রাখা। তৈরি হওয়া লাড্ডু ভরা হচ্ছে প্যাকেটে। তার পরে চলল বাড়িতে, দোকানে লাড্ডু বিতরণ। লক্ষাধিক লাড্ডু বিলি হয়েছে এ দিন। এলাকা ছয়লাপ বিজেপি-র পতাকায়। মুহুর্মুহু উঠল ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। এলাকার একটি সভা ভবনের সামনেই তৈরি হয়েছিল মঞ্চ। সেখানে বিকেল থেকে চলল নানা কর্মসূচি।

হাওড়া স্টেশনের পুরনো কমপ্লেক্সে যাত্রীদের কমলাভোগ খাওয়ানো হয়েছে এ দিন। বিজেপি নেতা নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলীয় সমর্থকেরা বেলা ১১টা নাগাদ হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে আরতি করেন। পরে মিষ্টির হাঁড়ি নিয়ে ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকে লোকাল ট্রেনের যাত্রী, চালক ও গার্ডদের মিষ্টি খাওয়ানো হয়। সঙ্গে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীদের মধ্যে কমলাভোগ বিতরণের পর্ব চলে। ওই সময়ে অবশ্য রেলরক্ষী বাহিনীর কাউকেই কাছাকাছি দেখা যায়নি। এমন অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল কি না, জানতে চাইলে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠান হয়েছে। যদিও রেলকর্তাদের দাবি, ওই অনুষ্ঠানের কথা জানা ছিল না। কেউ অনুমতিও চায়নি। বিকেলের দিকেও মানিকতলা, ফুলবাগান, কসবা-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় লাড্ডু বিতরণ করেন বিজেপি নেতারা।

শপথের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজ্য বিজেপি-র বড় নেতারা প্রায় সকলেই এখন দিল্লিতে। এ দিন কলকাতায় বিজেপি-র সদর দফতরে গিয়ে দেখা যায়, বড় টিভির পর্দায় শপথের অনুষ্ঠান দেখছেন দলের সাধারণ কর্মীরা।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত