কোনও রোগীর ডেঙ্গি ধরা পড়লে এ বার এলাকার নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে হবে পুরসভায়। রোগী মারা গেলে দায়সারা রিপোর্ট পাঠালে হবে না। বুধবার ডেঙ্গি নিয়ে এক বৈঠকে নার্সিংহোমগুলিকে ডেকে এ কথা জানিয়ে দিল দক্ষিণ দমদম পুরসভা। শুধু তা-ই নয়, চিকিৎসার প্রতিটি ধাপের তথ্য যেন বিশদে রাখা হয়, তেমন কথাও বলা হয়েছে।

এ দিন সকালে দমদমের রবীন্দ্র ভবনে ডেঙ্গি নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে এলাকার স্কুলশিক্ষক, প্রোমোটার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও নার্সিংহোম-কর্তাদের ডাকা হয়। গত কয়েক বছরে এই পুরসভার বহু বাসিন্দাই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুও হয়েছে বেশ কয়েক জনের। 

পুর কর্তৃপক্ষ জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলি মৃত্যুর পরে ঘোষণা করে যে, মৃত ব্যক্তির ডেঙ্গি হয়েছিল। পুরসভার জনস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান পারিষদ দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের কাছে কোনও তথ্যই আসে না। সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পারি, ডেঙ্গিতে কারও মৃত্যু হয়েছে। আমরা বলেছি, কারও ডেঙ্গি ধরা পড়লে আমাদের তা জানাতে হবে। কেউ ডেঙ্গিতে মারা গেলে তার বিস্তারিত রিপোর্টও আমরা দেখতে পারি।’’

পুর কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, সে ক্ষেত্রে বোঝা যাবে যে, মৃত্যুর কত দিন আগে তাঁর ডেঙ্গি ধরা পড়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময়ে অন্য রোগে মৃতদেরও বেসরকারি হাসপাতালগুলি ডেঙ্গি বলে চালিয়ে দেয়। তবে ওই হাসপাতালগুলি পুরসভার জারি করা এই ফতোয়া মানবে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।

এ দিন এলাকার প্রোমোটার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের বলা হয়, নির্মীয়মাণ বাড়ির লিফটের গর্ত বালিতে ভর্তি করে রাখতে হবে, যাতে সেখানে জল না জমে। বাড়ি তৈরির জন্য যে জল ধরে রাখা হয়, সেগুলির উপরে পোড়া মোবিল (ইঞ্জিন অয়েল) ঢেলে রাখতে বলেছে পুরসভা। তা হলে মশারা সেখানে ডিম পাড়তে পারবে না।