দিনের বেলাতেও কোথাও রাস্তার বাতিস্তম্ভের আলো জ্বলছে, কোথাও আবার রাতে আলো জ্বলছে না। কোনও জায়গায় আবার সারা রাত অলিগলিতে রাস্তার বাতিস্তম্ভের পাশাপাশি বাহারি আলোও জ্বলছে।

শহরে এমন ছবি অনেক বার দেখা গিয়েছে। সেই ছবিটাই বদলাতে পরিকল্পনা নিয়েছেন হিডকো এবং নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা এনকেডিএ কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে নিউ টাউনে প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এলইডির ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বার একটি জায়গা থেকে শহরের সমস্ত বাতিস্তম্ভের আলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তার ফলে এক দিকে যেমন বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ হবে, তেমনই শক্তি সংরক্ষণেও বিশেষ কাজ দেবে বলেই মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টর থেকে হলদিরাম পর্যন্ত মূল রাস্তার পাশাপাশি আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে নিউ টাউনে। সে সব রাস্তায় দিন-রাতে গাড়ির চাপ থাকে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লকের ভিতরেও বহু রাস্তা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত ভাবে সেই রাস্তায় গাড়ির চাপ কম। এ ছাড়াও সৌন্দর্যায়নের নিরিখে বাহারি আলোও রয়েছে রাস্তার মাঝে অথবা ধারে।

হিডকো সূত্রের খবর, নিউ টাউনে রাস্তার ধারে প্রায় ৬ হাজার বাতিস্তম্ভ রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৯৯০টি বাতিস্তম্ভে এলইডির ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই সব বাতিস্তম্ভ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করাও যেমন সমস্যা, তার চেয়েও সমস্যা সেই সব বাতিস্তম্ভ সম্পর্কে প্রতিদিন বিস্তারিত তথ্য মজুত করা। আবার হিডকো কর্তৃপক্ষের দাবি, বিপুল পরিমাণ বাতিস্তম্ভে আলো ব্যবহারে যে পরিমাণ দূষণ হচ্ছে তা যেমন কমানো দরকার, পাশাপাশি অপচয় এবং শক্তি সংরক্ষণেরও বিশেষ প্রয়োজন।

বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, রাতভর অনেক জায়গায় আলো জ্বলে থাকে। সেই সব রাস্তায় গাড়ির চাপ কম। অনেক রাস্তা রয়েছে যেখানে রাতে গাড়ি প্রায় চলেই না। ফলে অনেক রাতে কত পরিমাণ আলো ব্যবহার করা প্রয়োজন, তা পর্যালোচনা করে একটি সুসংহত পরিকল্পনা করা হোক। 

হিডকো এবং এনকেডিএ-র এক শীর্ষকর্তা জানান, প্রাথমিক ভাবে ৬ হাজার বাতিস্তম্ভেই এলইডির ব্যবহার করা হবে। এর পাশাপাশি একটি জায়গা থেকে সবক’টি বাতিস্তম্ভগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা হবে। তাতে সময় অনুসারে আলোর ব্যবহার যেমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, তেমনই কোথাও আলো খারাপ হয়ে গেলে কিংবা দিনের বেলাতেও আলো জ্বলছে কি না— এই সবগুলি ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ করা যাবে। তাতে শক্তি সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।