পাটুলিতে ভাসমান বাজার তৈরির সময়েই সেখানে দূষণ ঠেকাতে সৌর আলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এক বছরের মধ্যে সৌর প্যানেল বসানোরও কথা হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই প্রকল্প এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় বলবৎ হয়েছে আচরণবিধি। এই পরিস্থিতিতে কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভোট শেষ হওয়া না পর্যন্ত এই প্রকল্পের বিষয়ে কিছু করা যাবে না। ফলে কবে সৌর আলোর ব্যবহার শুরু হবে, সেই অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ সেখানকার ব্যবসায়ীরা। কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ মাসেই তাঁরা হকারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় বসবেন।

সম্প্রতি হকার নেতা শক্তিমান ঘোষের নেতৃত্বে কেএমডিএ-র কাছে প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভাসমান বাজারের হকারদের একাংশ। অভিযোগ, বাজার তৈরির পরে বছরখানেকের বেশি কেটে গেলেও সৌর আলো ব্যবহার শুরু করার বিষয়টি একচুলও এগোয়নি। শক্তিমানবাবু বলেন, ‘‘সৌরবিদ্যুৎ চালু না হলে হকারদেরই টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। এমনিতেই তাঁদের লোকসান হচ্ছে। এর উপরে বাড়তি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়।’’

কেএমডিএ সূত্রের খবর, বাজার তৈরির সময়েই ঠিক হয়, সৌর প্যানেল তৈরির আগে পর্যন্ত বাজারের বিদ্যুতের খরচ দেবে সংশ্লিষ্ট দফতর। ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ পরিষেবা চালু হলে বিল মেটানোর দায়িত্ব দফতর বা হকারদের নিতে হবে না। তা না হলে এক বছর পরে বিদ্যুতের বিল মেটাতে হবে হকারদেরই। চলতি মাস থেকে সেই বিল তাঁদের মেটানোর কথা।

প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা কোথায়? কেএমডিএ-র এক আধিকারিক জানান, কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস আগে রাজ্যের ‘গ্রিন মিশন’ প্রকল্পে ওয়েস্ট বেঙ্গল রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিকে (ওয়েবরেডা) এই কাজ করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সরকারের অনুমোদন না থাকায় ওয়েবরেডা হাত গুটিয়ে নেয়। সম্প্রতি নগরোন্নয়ন দফতর কেএমডিএ-কে জানায়, দরপত্র ছাড়া ওয়েবরেডা এই কাজ করতে পারবে না। নতুন করে দরপত্র ডাকতে হবে। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কিছু দিন আগেই এই নির্দেশ পৌঁছয় কেএমডিএ-র কাছে। তার পরেই নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ায় আটকে যায় প্রক্রিয়া।