মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্যে খুন, আমডাঙায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস-সহ একাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন ওরফে সাবুকে বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এ দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমডাঙায় একের পর এক খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ যোগ ছিল সাহাবুদ্দিনের। মধ্যমগ্রামে ঢাকাই গৌতম খুনেও ‘শার্প শুটার’ ছিল সে।’’

পুলিশ জানিয়েছে, এতদিন আমডাঙার বড়গাছিয়া বিল এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল সাহাবুদ্দিন। তাকে ধরতে বেশ কয়েক বার ওই বিলে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে সাহাবুদ্দিনদের বোমা-গুলির পাল্টা প্রতিরোধে পিছু হটে যায় পুলিশ। সম্প্রতি আমডাঙা একটু শান্ত হওয়ার পরে সেখান থেকে পুলিশি টহলদারি ওঠার পরেই মধ্যমগ্রামে ঢোকে সাহাবুদ্দিন। পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন সেখান থেকেই ১০ লিটার তরল মাদক-সহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিরোধীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন খুন হন আমডাঙায়। সেই সংঘর্ষে বিরোধীদের হয়ে হামলা, খুনের অভিযোগ ছিল সাহাবুদ্দিনের নামে। ভাড়াটে খুনি হিসেবেও পুলিশের খাতায় বারবার নাম উঠে এসেছে সাহাবুদ্দিনের। গত ২ ফেব্রুয়ারি মধ্যমগ্রামের একটি সেলুনে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করা হয় গৌতম দে সরকার ওরফে ঢাকাই গৌতমকে। তার আগেও বেশ কয়েক বার গুলি চালিয়ে খুন করার চেষ্টা হলেও প্রাণে বেঁচে যায় গৌতম। পুলিশ জানিয়েছে, সে কারণেই গৌতমের মৃত্যু নিশ্চিত করতে বরাত দেওয়া হয় সাহাবুদ্দিনকে।

এ দিন ওই পুলিশকর্তা আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে মধ্যমগ্রামের একটি সেলুনে গৌতম যখন দাড়ি কাটছে, তখন অন্তত ১২ জনকে নিয়ে লাগাতার গুলি চালায় সাহাবুদ্দিন। মানুষকে ভয় দেখাতে কয়েকটি বোমাও ফাটানো হয়। পরপর গুলি চালিয়ে গৌতমের মৃত্যু নিশ্চিত করেই এলাকা ছাড়ে সাহাবুদ্দিনরা। প্রকাশ্যে খুনের ঘটনাটি কেন্দ্র করে অবরোধ, থানা-ঘেরাও, বিক্ষোভে উত্তাল হয় মধ্যমগ্রাম। তবে ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত টুবাই মোদক অবশ্য এখনও অধরা। গৌতমের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের স্নেহধন্য হওয়ায় টুবাইকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।