বিছানা থেকে রোগী পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এ বার পরিবারের বিরুদ্ধে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ-সহ অন্যদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রক্তাল্পতা নিয়ে টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের আরোগ্য মেটারনিটি অ্যান্ড নার্সিংহোমে ভর্তি হন চেতলার বাসিন্দা সর্বাণী মজুমদার। নার্সিংহোম সূত্রে খবর, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন চিকিৎসক। ধরা পড়ে তাঁর জন্ডিস, ক্রনিক লিভার ডিজিজের মতো সমস্যা। ভর্তির এক দিন পরে শনিবার অস্থির হয়ে ওঠেন সর্বাণীদেবী। যে চিকিৎসকের অধীনে তিনি ভর্তি ছিলেন তাঁর দাবি, সারা রাত রোগীকে পর্যবেক্ষণের পরে ভোরে ওষুধ দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। পরিবারের অভিযোগ, এর পরেই আয়ার নজর এড়িয়ে সর্বাণীদেবী শয্যা থেকে পড়ে গিয়ে কোমায় চলে যান।

ওই দিনই নার্সিংহোমের গাফিলতির অভিযোগ এনে রোগীর পরিবার বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। বিষয়টি দুর্ঘটনা ও অনভিপ্রেত বলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বেহালা থানায় লিখিতও দেন। সর্বাণীদেবীর চিকিৎসক অরিজিৎ রায়চৌধুরীও রোগীর পরিবারকে একই কথা বলেন। সর্বাণীদেবীর চিকিৎসায় যাতে সমস্যা না হয় সেই ব্যবস্থাও করেন। 

কিন্তু নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রোগীর পরিজনেরা নার্সিংহোমে ঢুকে কর্মী, নার্স এবং কর্তৃপক্ষকে ক্রমাগত হেনস্থা করে চলেছেন। অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি দিয়ে চলেছেন বলেও অভিযোগ। এমনকি আইসিইউ–তে ঢুকেও রোগীর পরিজনেরা এত চিৎকার করছেন যে সেখানে থাকা রোগীদের সমস্যা হচ্ছে। বারবার কর্তৃপক্ষ নিষেধ করলেও কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ। অরিজিৎবাবুর অভিযোগ, রোগী দেখার পরে পরিবারের লোকের সঙ্গে তিনি দেখা করলেও, পরে তাঁরা অন্যদের সামনে জানাচ্ছেন চিকিৎসক দেখাই করছেন না। 

বুধবার নার্সিংহোমের অধিকর্তা সুরেশ রাই বলেন, ‘‘একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা দোষ স্বীকার করে রোগীর চিকিৎসায় যাতে সমস্যা না হয় সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। সকলেই আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। অন্য রোগীদের অসুবিধা করাটা ঠিক হচ্ছে না।’’ যদিও সর্বাণীদেবীর ভাইঝি অর্পিতা দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আমরা হুমকি দিইনি। কেনই বা অন্য রোগীদের অসুবিধা করতে যাব?’’