উৎসবের শহরে অষ্টমীর রাত থেকে নবমীর বিকেল পর্যন্ত ঘটেছে একাধিক পথ-দুর্ঘটনা। তাতে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণের। আহত হয়েছেন মোট ১৭ জন। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ভোর চারটে নাগাদ পাটুলি থানা এলাকার ইএম বাইপাসের ঢালাই ব্রিজের কাছে একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে বেপরোয়া পণ্যবাহী গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় অভিজিৎ মণ্ডল (১৮) নামে এক তরুণের। তাঁর বাড়ি বৈষ্ণবঘাটা পাটুলি টাউনশিপে। এ দিনই ময়না-তদন্তের পরে অভিজিতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

লালবাজারের খবর, ওই দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও ন’জন। তাঁদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জখম এক জনকে প্রথমে ইএম বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

প্রাথমিক তদন্তের পরে লালবাজারের কর্তারা জানিয়েছেন, এ দিন ভোরে ঢালাই ব্রিজে একটি মোটরবাইকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। চালক এবং আরোহী গাড়ি থেকে নেমে সেটি সারাচ্ছিলেন। সে সময়ে আশেপাশ থেকে ভিড় জমান অনেকেই। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিজিৎও। তখনই একটি ছোট পণ্যবাহী গাড়ি দ্রুত গতিতে এসে ওই তরুণকে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিজিৎকে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে জানান। পুলিশ গাড়িটি আটক করলেও চালক পলাতক।

এ দিনই ভোরে গল্ফগ্রিনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় উল্টে যায় একটি মোটরবাইক। চালকের কিছু না হলেও আহত হন আরোহী। তিনি এম আর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি। এর কিছু ক্ষণ পরে ইএম বাইপাসের অজয়নগরের কাছে গাড়ির ধাক্কায় এক মহিলা আহত হন। তিনি ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। দুপুরে টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপোর কাছে মিনিবাস ও মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক জন আহত হন। বিকেলে মানিকতলার ক্যানাল ওয়েস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় জখম হয় সাড়ে তিন বছরের একটি শিশু। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুর্ঘটনাগুলি ঘটে রবিবার রাতে। লালবাজার জানিয়েছে, ওই রাতে আটটা নাগাদ বি টি রোডের চিড়িয়ামোড়ে দুই মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক জন আরোহী আহত হন। রাত সওয়া ২টো নাগাদ চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ও মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান এক বাইকচালক। পায়ে চোট নিয়ে তিনি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। রাত পৌনে তিনটে নাগাদ কলুটোলায় একটি বেপরোয়া বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে। আহত হন বাইকচালক।