• কাজী গোলাম গউস সিদ্দিকী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

স্থানীয়রাই এজেন্ট, কমিশনের নিয়মে হতাশ বিরোধীরা

Advertisement

সন্ত্রাসের আবহে ভোটের শহরে এ বার আরও ‘কড়া’ ব্যবস্থা। বুথের ভিতরে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট হয়ে যাঁরা বসবেন, তাঁদের ওই বুথ-এলাকার বাসিন্দা হতেই হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

এর আগে বিধানসভা ভোটেও কিন্তু এতটা কড়াক্কড়ি করেনি নির্বাচন কমিশন। তখন সংশ্লিষ্ট বুথের লাগোয়া অঞ্চলের ভোটারদেরও পোলিং এজেন্ট হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বারের পুরভোটে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ‘আরও কড়া’ ব্যবস্থার পক্ষপাতী।

কমিশনের এই নির্দেশে বিরোধী দলগুলি কিন্তু কোনও ভাবেই স্বস্তি বোধ করছে না। তাদের বক্তব্য, এর ফলে শাসক দলেরই সুবিধা হবে। সিপিএম নেতা রবীন দেব বলেন, ‘‘এ সব কড়াকড়িতে শাসক দলের সন্ত্রাস ঠেকানো তো দূরস্থান, উল্টে তারাই সুবিধা পাবে। অসুবিধা হবে বিরোধীদের।’’ কেন? রবীনবাবুর মতে, যে সব এলাকায় তাঁদের দলের সংগঠনের জোর কম, সেখানে আশপাশের বুথ থেকে পোলিং এজেন্ট দেওয়া গেলে, সমস্যা কিছুটা কমতো। এ বার তা করা যাবে না।

একই সুর বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহেরও। তাঁরও বক্তব্য, বুথ বা ওয়ার্ডের বাইরে থেকে এজেন্ট আনা যাবে না— এই নিয়মে শাসক দলেরই সুবিধা হতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘অনেক সময় হুমকি পেয়ে এলাকার এজেন্ট পিছিয়ে গেলে পাশের বুথ বা ওয়ার্ড থেকে এজেন্ট আনা হয়। বিরোধীরা এখন সেই সুবিধা পাবেন না।’’ প্রত্যাশা মতোই বিরোধীদের এ সব আশঙ্কাকে ‘অহেতুক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শাসক দলের নেতারা। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, যাঁরা হারার আগেই হেরে আছেন, তাঁরাই এই সব কথা বলেন। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা কমিশনের নিয়ম মেনেই যা করার করব।’’ 

বুথের ভিতরে কারা থাকছেন, তার হিসেব-নিকেশে ঢুকতে নারাজ লালবাজারের কর্তারা। পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ বলেন, ‘‘বুথের ভিতরে পুলিশের কোনও দায়িত্ব নেই। এ ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার যেমন অভিযোগ জানাবেন, পুলিশও তেমন ব্যবস্থা নেবে।’’

তবে পুলিশের এক কর্তার মতে, স্রেফ বুথের ভিতরে কড়াকড়ি করেই অবাধ ভোট নিশ্চিত করা যায় না। ভোটের প্রাক্কালে খাস কলকাতাতেও যেখানে বিরোধী সমর্থকদের বাড়ি-বাড়ি হুমকির অভিযোগ উঠছে, সেখানে বুথের ভিতরের ব্যবস্থা কত দূর কাজে আসবে, তা নিয়ে অনেকেরই ঘোর সন্দেহ। পুলিশের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতি বারই ভোটের দিন কয়েক আগে থেকে ‘বহিরাগত’রা কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে কলকাতায় এসে ঘাঁটি গাড়ে। তাদের কারও কারও সমাজবিরোধী-সংস্রব থাকে বলেও অভিযোগ। যেমন, উত্তর কলকাতায় ভোট করাতে লোক ঢোকে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল থেকে, বন্দর এলাকায় ঢোকে বিহারের দলবল কিংবা যাদবপুর-কালিকাপুরে আসে ডায়মন্ড হারবার-ভাঙড়ের দু্ষ্কৃতীরা। অতীতে দেখা গিয়েছে, বহিরাগত ঠেকাতে পুলিশ ভোটের দিন এলাকা ঘিরে রাখে। কিন্তু বহিরাগতরা তার আগেই শহরে ঢুকে নিজেদের কাজ হাসিল করে। 

লালবাজারের এক কর্তাই বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী নেতারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে উত্তেজনা ছড়ান। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম কিন্তু বলছে, সাধারণ ভাবে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ওয়ার্ড ছাড়া কোথাও ভোটের কাজে যেতে পারবেন না। তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোনও দলের জেলা স্তরের নেতা অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে দলীয় দফতরে বসতেই পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আগাম লিখিত অনুমতি নিতে হবে। 

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন