পুজোর আগে শহরের রাস্তা সারাতে হটমিক্সের (রাস্তা তৈরির উপাদান) অভাব হবে না তো? মাঝে‌রহাট সেতু ভাঙার পরে বেহালায় আসা-যাওয়ার বিকল্প পথ তৈরি করতে এখন গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজার মেট্রিক টন হটমিক্স খরচ হচ্ছে। তাই পুজোর আগে রাস্তা সারাইয়ের কাজে হটমিক্স পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পুরসভার রাস্তা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দফতরের অনেকেই।

আর মাত্র এক মাস কয়েক দিন পরেই দুর্গাপুজো। নিয়ম মতো অন্যান্য বছর এই সময় থেকেই কলকাতার ভিতরের রাস্তাঘাট সারানোর কাজ শুরু হয়ে যায়। এ বার মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের পরে সমস্ত হিসেব ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। বেহালায় আসা-যাওয়ার জন্য গোটা চারেক বিকল্প পথ তৈরি করতে হচ্ছে। যার সিংহভাগ দায়িত্ব পড়েছে পুর প্রশাসনের উপরে। সেই সমস্ত বিকল্প রাস্তা তৈরি করতে দৈনিক দেড় হাজার মেট্রিক টন করে হটমিক্স খরচ হচ্ছে। পুরসভার দুটো প্ল্যান্টে প্রতিদিন তৈরি হয় প্রায় ১৬০০ মেট্রিক টন হটমিক্স। অর্থাৎ, যেটুকু উৎপাদন হচ্ছে, তার পুরোটাই খরচ হয়ে যাচ্ছে বিকল্প রাস্তার পিছনে।

পুরসভার এক মেয়র পারিষদ জানান, সামনেই বিশ্বকর্মা পুজো। এর মধ্যেই শহরের খানাখন্দ এবং পুজোমণ্ডপে যাওয়ার পথে পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়। যাতে দর্শনার্থীদের কোনও অসুবিধা না হয়। দিন কয়েক আগে পুজোর রাস্তা সারানো নিয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে। দু’-একটি ক্ষেত্রে কাজ শুরু করা হলেও আপাতত সব নজর মাঝেরহাটের বিকল্প রাস্তার দিকে। এ বছর পুজোর আগে রাস্তা সারাইয়ের কাজে এমনিতেই দেরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে হটমিক্সের অভাব বড় বড় পুজোর কর্তাদেরও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। যদিও পুরসভার এক কর্তা অভয় দিয়ে জানিয়েছেন, পুজোর আগে শহরের রাস্তা যাতে সারানো হয়, তার ব্যবস্থা চলছে। বেশি করে হটমিক্স উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ দিকে, পুর কমিশনার জানিয়েছেন, তারাতলা মোড় থেকে রামনগর পর্যন্ত রাস্তার সম্প্রসারণ করা হবে।