ফুটপাত জুড়ে বিশ্বকর্মা পুজো করা নিয়ে মতান্তর। তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টালিগঞ্জ ফাঁড়ি-বেহালা রুটের অটো চলাচল বন্ধ রইল। যার জেরে তুমুল হয়রানির শিকার হলেন নিত্যযাত্রীরা। 

পুলিশ সূত্রের খবর, গত কয়েক বছর ধরে টালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে রাস্তার ধারের ফুটপাতে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করেন ওই রুটের অটোচালকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ফুটপাতের সামনে এক বিরিয়ানি বিক্রেতা জায়গাটি দখল করে রয়েছেন। এক অটোচালক বলেন, ‘‘প্রতি বছর আমরা যেখানে বিশ্বকর্মা পুজো করি, সেখানে সালাউদ্দিন খান নামে ওই ব্যক্তি বিরিয়ানি বিক্রি করছেন। তিনি ওই জায়গাটি আমাদের ছাড়তে নারাজ। ফলে এ বার পুজো করতে পারব কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’’ দক্ষিণ কলকাতা অটো ড্রাইভার অ্যান্ড অপারেটর ইউনিয়নের সদস্য শম্ভু চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘‘বিশ্বকর্মা পুজো না হলে আমাদের রুটিরুজিও বন্ধ হওয়ার জোগাড়। এরই প্রতিবাদে আমরা অটো চলাচল বন্ধ রেখেছি।’’ অটোচালকদের অভিযোগ অস্বীকার করে সালাউদ্দিন খানের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘আমি গত চল্লিশ বছর ধরে ফুটপাতের উপরে বিরিয়ানি বিক্রি করি। কিন্তু কয়েক জন আমাকে ওখান থেকে তুলে দিতে চাইছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওখানে বিশ্বকর্মা পুজো হোক, আমি সব সময়েই চাই। কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর অজুহাতে আমাকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পরে আর ওই জায়গায় ব্যবসা করতে দেবে না। স্থানীয় কিছু যুবক অটোচালকদের সঙ্গে নিয়ে আমার রুটিরুজি কেড়ে নিতে চাইছে।’’

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দিন ধরে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি-বেহালা রুটের অটো বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। টালিগঞ্জ থেকে বেহালার অটোয় চেপে নিয়মিত অফিস যাতায়াত করেন চারু মার্কেটের বাসিন্দা যোগেন্দ্র যাদব। তাঁর অভিযোগ, ‘‘একটি ছোট্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ভাবে দু’দিন অটো বন্ধ রইল, তাতে চালকদের দাদাগিরির মনোভাব প্রকাশ্যে এসেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’’ রমা ঘোষাল নামে আর এক যাত্রীর অভিযোগ, দু’দিন অটো বন্ধ থাকায় রীতিমতো ভোগান্তি হয়েছে তাঁদের। অটো চালকদের এমন খামখেয়ালিপনা অসহ্য হয়ে উঠেছে বলে বক্তব্য তাঁর।

যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দিন ধরে অটো চলাচল বন্ধ রইল, তাতে বেশ বিরক্ত রাজ্যসভার সাংসদ তথা দক্ষিণ কলকাতা আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী। বুধবার তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিষেবা বন্ধ রাখা ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে এ রকম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে চালকদের সতর্ক করা হবে।’’ 

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই রুটে প্রায় ১৭৩টি অটো চলে। টালিগঞ্জ ফাঁড়ি-বেহালা রুটে প্রচুর যাত্রী যাতায়ত করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি অটো স্ট্যান্ডের পাশে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজিত অটোচালকেরা ফুটপাতের ওই ব্যবসায়ীর দোকানে ভাঙচুর করতে যান। খবর পেয়ে চারু মার্কেট থানার বিশালপুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ পুলিশের মধ্যস্থতায় অটো চলাচল শুরু হলে যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি পান।