যাত্রীদের মধ্যে ‘স্বচ্ছতার‘ বার্তা দিতে মেট্রো রেলের তরফে বছর খানেক আগে প্রতিটি মেট্রো স্টেশনে ঘটা করে ডাস্টবিন বসানো হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, সেই ডাস্টবিন বসিয়ে স্টেশন চত্বরে পরিচ্ছন্নতা বাড়ার বদলে বিড়ম্বনাই বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, ডাস্টবিন দেখে যাত্রীদের একাংশের ভিতরে প্ল্যাটফর্ম নোংরা করারই প্রবণতা বেড়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে জরিমানা করেও ওই বদ অভ্যাসে লাগাম টানা যাচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষ জানান, ২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষে ৪০৩৫টি এমন ঘটনায় ১০ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা থেকে এসেছিল। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি বদলানোর কোনও লক্ষণ নেই। মেট্রো সূত্রের খবর, স্টেশনে জৈব উপায়ে পচনশীল এবং পচনশীল নয় এমন বর্জ্য ফেলার জন্য দু’টি করে আলাদা ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, যাত্রীদের অনেকেই চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল, কিংবা পানমশলা মুখে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন। কিন্তু সেগুলি ডাস্টবিনে সঠিক ভাবে ফেলছেন না। তাতে কখনও চিপসের প্যাকেট কিংবা জলের বোতল প্ল্যাটফর্মেই পড়ে থাকছে। এমনকি পানমশলাও থুতুও ডাস্টবিনের বদলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে পড়ছে। এমনকি ভিড়ের সময়ে মেট্রোর লাইনে থুতু ফেলার প্রবণতাও বেড়েছে বলে অভিযোগ।

অবশ্য এর কারণ হিসেবে মেট্রো কর্মীদের একাংশের শিথিলতাকেই দূষছেন আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, আগে যখন প্ল্যাটফর্মে ডাস্টবিন ছিল না, তখন কাউকে চিপসের প্যাকেট বা পানীয় জলের বোতল হাতে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেখলেই সতর্ক করা হত। কারণ সেগুলি প্ল্যাটফর্মে ফেলার কোনও জায়গা তখন ছিল না। এখন ডাস্টবিন থাকায় যাত্রীদের বারণ করে পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়ছেন মেট্রোকর্মীরাই। ফলে তাঁরা চুপচাপ থাকছেন। ফলে বহাল তবিয়তে পানমশলা মুখে প্ল্যাটফর্মে ঢুকে এ দিক সে দিক থুতু ফেলছেন অনেকেই। কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি লাইন এবং থার্ড রেলের ক্ষতির আশঙ্কায় নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম ধোওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই রাতে এবং সকালে মেট্রো পরিষেবা শুরুর আগে প্ল্যাটফর্ম ধোওয়া বন্ধ। তাতে থুতু এবং পানমশলার পিক শুকিয়ে দাগ আরও স্থায়ী হচ্ছে।

মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যাত্রীদের সচেতন করতে মেট্রোর তরফে প্রচার চলে। প্রয়োজনে জরিমানা করা হয়।’’