নির্ভয়া-কাণ্ডের পরে পকসো আইনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল পরিবর্তিত ধর্ষণ আইনের ধারা। এই দু’য়ের জোরে ২০ বছর জেল খাটার সাজা পেল ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ১৭ বছরের এক কিশোর। ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করার জেরে ওই তরুণের বিরুদ্ধে পকসো বিশেষ আদালতের বিচারক জীমূতবাহন বিশ্বাস এই রায় দিয়েছেন।

মানিকতলা থানা এলাকার ওই ঘটনায় ৬ এপ্রিল মামলা করেছিল অভিযোগকারিণী। সে দিনই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত কিশোরকে। তদন্ত চলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার কল্পনা রায়। অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়। মাঝে পয়লা বৈশাখ থেকে নানা ছুটিতে আদালত একাধিক দিন বন্ধ ছিল। তাতেও অভিযোগ দায়েরের ১৬ দিনের মাথায় বিচারক রায় দিলেন। এর আগে শিয়ালদহ পকসো বিশেষ আদালতের অন্য একটি মামলায় ন’দিনের মধ্যে সাজা হয়েছিল অভিযুক্তের।

মানিকতলার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর মেয়েটিকে একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে নিয়মিত শারীরিক সংসর্গ করত, যা ধর্ষণের নামান্তর মনে করছে আদালত। এ বছরের গোড়ায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। ছেলেটি তখন তার সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করে। অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, তার মক্কেলের রেহাই পাওয়া উচিত। কারণ, সে নাবালক। সরকারি কৌঁসুলি বিবেক শর্মা তখনই পরিবর্তিত ধর্ষণ আইনের ধারা তুলে ধরেন।

নির্ভয়া-কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত নাবালক মাত্র তিন বছর হোমে কাটিয়ে খালাস পেয়ে গিয়েছে। তার পরেই পরিবর্তিত আইনে সিদ্ধান্ত হয়, ধর্ষণ বা খুনের মামলায় অভিযুক্ত নাবালক হলেও তাকে প্রাপ্তবয়স্কের সমান সাজা দেওয়া হবে। ২০১৭-র মার্চে মধ্যপ্রদেশের ঝবুয়ার দায়রা আদালতে একটি খুনের মামলায় ১৬ এবং ১৭ বছরের দুই অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। তারা সমবয়সী এক কিশোরকে খুন করেছিল। কলকাতাতেও সম্প্রতি উল্টোডাঙায় ১২ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় বছর ষোলোর এক কিশোরকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। মানিকতলার ঘটনায় অভিযুক্তকে পকসো আইনের ৬ নম্বর এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (২) (এন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। তাকে দু’লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে, যার ৯০ শতাংশ পাবে অভিযোগকারিণী। টাকা না-দিলে কারাবাসের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়বে।