অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ পেয়ে পাইকপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ীকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করল চিৎপুর থানার পুলিশ। মৃত ব্যক্তি নদিয়ার মোহনপুরের বাসিন্দা। তাঁর নাম সমীর সাধুখাঁ (৩৪)। ধৃতের নাম লাল্টু পোদ্দার। শনিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে হাজির করানো হলে আদালত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

পুলিশ জানায়, লাল্টু থান কিনে কারিগরদের সেলাই করে ব্লাউজ বানাতে দেন। সমীরের সঙ্গে লাল্টু কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন। পুলিশের দাবি, জেরায় লাল্টু জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে সমীর ঠিক মতো মাল পাঠাচ্ছিলেন না। ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। সমীরের কাছে লাল্টু আড়াই লক্ষ টাকার মাল দিয়ে রেখেছেন। সমীর তাঁর থেকে ৩৫ হাজার টাকা পেতেন।

তদন্তকারীরা জেনেছেন, দিলীপ মণ্ডল নামে মোহনপুরেরই অন্য কারিগর শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ ছোট গাড়িতে মাল সরবরাহ করতে আসেন লাল্টুর বাড়িতে। তিনি লাল্টুকে জানান, সমীর তাঁর গাড়িতে বসে, মালও নিয়ে এসেছেন। অভিযোগ, এর পরে বচসায় জড়িয়ে সমীরকে চড় মারেন লাল্টু। সমীরও লাল্টুর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। লাল্টু ও দিলীপের কর্মীরা দু’জনকে সরিয়ে দেন এবং তাঁদের মাল ও টাকা বুঝে নিতে বলেন। 

দিলীপ পুলিশকে জানান, হিসেব মেটার পরে লাল্টুদের বাড়ির সামনেই বসে ছিলেন সমীর। সন্ধ্যা সওয়া ৬টা নাগাদ দিলীপকে তিনি অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান। সমীরকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ইসিজি হয়, ইঞ্জেকশনও দেন চিকিৎসকেরা। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ মারা যান সমীর। রাতে চিৎপুর থানায় লাল্টুর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগ করেন দিলীপ।

সমীরের দেহের ময়না-তদন্ত হবে। পুলিশের দাবি, মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক ভাবে হৃদ্‌রোগের কথা জানিয়েছেন।