টালা ব্রিজ দিয়ে বন্ধ ভারী যান চলাচল। তাই শহরে ভারী লরি কিংবা ট্রাক ঢোকার মূল রাস্তা এখন বিদ্যাসাগর সেতু। রাত হলেই সার দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলে আসছে ওই সেতুতে। তা সামলাতে গিয়ে কার্যত নাকানিচোবানি খাচ্ছে পুলিশ।

লালবাজারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী বুধবার চতুর্থীর সকাল থেকে শহরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হবে। কিন্তু তার আগের ক’দিনই বা কী ভাবে সামাল দেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ট্র্যাফিকের অফিসারেরা। লালবাজারের খবর, শুক্রবার রাত থেকে বিদ্যাসাগর সেতুতে যে লরির জট তৈরি হয়েছিল তা কাটতে কাটতে শনিবার সকাল সাড়ে আটটা বেজে গিয়েছিল। 

পুলিশ জানায়, শহরে পণ্যবাহী লরি ঢোকার দু’টি মূল পথ। বিদ্যাসাগর সেতু এবং বিটি রোড। টালা ব্রিজ এবং আর জি কর সেতুতে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় অধিকাংশ ট্রাক বিদ্যাসাগর সেতু দিয়ে শহরে ঢুকছে। সেই সঙ্গে গোদের উপরে বিষ ফোড়ার মতো রয়েছে বন্দরের বেহাল রাস্তা। সত্য ডাক্তার রোড বন্ধ থাকায় বন্দরে বাকি রাস্তায় লরি চলাচলের গতিও ঢিমে হয়েছে। সেই চাপ এসে পড়ছে বিদ্যাসাগর সেতুর উপরে। পুলিশের একাংশ জানিয়েছে, ভিআইপি রোড, ইএম বাইপাস দিয়েও শহরে পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকছে। ফলে গভীর রাতে ওই রাস্তায় যাত্রিবাহী গাড়ির গতিও বাধা পাচ্ছে। 

যে পথে লরি

• বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে-বিমানবন্দর-ভিআইপি রোড-ই এম বাইপাস
• ডানকুনি-সলপ-সাঁতরাগাছি-বিদ্যাসাগর সেতু
• কলকাতা বন্দর-রিমাউন্ট রোড-ডায়মন্ড হারবার রোড-আলিপুর-বিদ্যাসাগর সেতু

লালবাজারের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে সমন্বয় করে যান সামলাচ্ছে রাজ্য পুলিশ, হাওড়া কমিশনারেট, ব্যারাকপুর কমিশনারেট ও কলকাতা পুলিশ। এ দিন টালা ব্রিজ পরিদর্শনের সময় ব্যারাকপুরের কমিশনার মনোজ বর্মা এবং রাজ্য পুলিশের এডিজি (ট্র্যাফিক) বিবেক সহায়ের সঙ্গে কথাও বলেন কলকাতার সিপি অনুজ শর্মা ও অন্যান্য কর্তারা। মনোজ বলেন,‘‘বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়েই মূলত বিটি রোডে পণ্যবাহী গাড়ি আসে। সেই গাড়িগুলিকে বিটি রোডে নামতে না দিয়ে বালি বা বিমানবন্দরের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’

হাওড়া পুলিশ সূত্রের খবর, বন্দরে গাড়ি ঢোকার গতি ঢিমে হওয়ায় তাদের এলাকাতেও যানজট হচ্ছে।