• শিবাজী দে সরকার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গাড়ি নজর না এড়ায়, নবান্নের পথে ড্রপ গেট

Nabanna
ফাইল চিত্র।

বামেদের নবান্ন অভিযানে পুলিশের নজর এড়িয়ে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে পৌছে গিয়েছিলেন বেশ কয়েক জন বিরোধী বিধায়ক। সেই ঘটনার ময়না-তদন্ত করতে গিয়ে নবান্নে ঢোকার রাস্তায় নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেছিলেন পুলিশের কর্তারা। সেই মতো নবান্নে ঢোকার পাঁচটি পথে স্থায়ী ভাবে ‘ড্রপ গেট’ বসাল পুলিশ। যাতে কোনও গাড়ি নজর এড়িয়ে চলে যেতে না পারে। পাশাপাশি ওই জায়গাগুলিতে পুলিশ পিকেটও বসানো হয়েছে। যা গত মাস থেকেই চালু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বর্তমানে সকাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে থাকা পর্যন্ত ওই ড্রপ গেটগুলি চালু থাকছে। প্রতিটি গাড়ির পরিচয় যাচাই করার পরেই তাঁদের যেতে দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের এক সূত্রের দাবি।

তবে এই অভিযোগও উঠছে, ড্রপ গেট থাকার জন্য নবান্নের আশপাশের স্কুলের পড়ুয়া এবং বাসিন্দাদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। তবে পুলিশ জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে থাকাকালীনই এই গেটগুলি চালু থাকছে, বাকি সময় বন্ধ থাকছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে বসার পর থেকেই ওই এলাকায় জারি হয় ১৪৪ ধারা। নবান্নের ভিতরে ও বাইরে লাগানো হয় কয়েকশো সিসি ক্যামেরা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। নবান্নের গা-ঘেঁষে গিয়েছে বিদ্যাসাগর সেতু। সেতু থেকে নেমে সব ক’টি রাস্তা দিয়েই নবান্নে পৌঁছনো যায়। মুখ্যমন্ত্রীর জেড প্লাস নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন কারণে ওই ভবনের এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি রয়েছে। নবান্নের অন্দরে মিটিং-মিছিল তো দূর, বাইরে বা ওই চত্বরে জমায়েতও করতে দেয় না পুলিশ। তা সত্ত্বেও নবান্ন অভিযানের দিন কী ভাবে বাম বিধায়কেরা ওই ভবনের কাছে পৌঁছে গেলেন, তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়।

লালবাজার জানিয়েছে, এর পরেই হাওড়া এবং কলকাতা পুলিশ যৌথ ভাবে পুরো নবান্নের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে। সিদ্ধান্ত হয়, শরৎ চ্যাটার্জি রোড-সহ বিদ্যাসাগর সেতুর যে সব রাস্তা নবান্নে পৌঁছেছে, তার সবগুলিতেই গাড়ি আটকাতে ড্রপ গেট বসানো হবে। প্রতিটি গেটের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি এবং যাত্রীদের পরীক্ষা করেই তবেই তা নবান্নের দিকে যেতে দেবেন। সেই সঙ্গে কলকাতায় বিরোধী দলগুলির কোনও সমাবেশ থাকলে নবান্নের নিরাপত্তায় আরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়ন করা হবে। যাতে পুলিশি নজর এড়িয়ে মাছি গলতে না পারে।

পুলিশ জানায়, এর পাশাপাশি ব্যাতাইতলা, মন্দিরতলা, কাজিপাড়া ও বেলেপোল যাওয়ার সব রাস্তা, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে সেতুর উপরে, সেতুর নীচে তিনটি পয়েন্টে, শিবপুর দক্ষিণপাড়া দুর্গামণ্ডপের সামনের রাস্তা-সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পিকেট এবং সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘নবান্নের নিরাপত্তায় হাওড়া ও কলকাতা পুলিশ বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। ড্রপ গেট বসানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সিসি ক্যামেরাও।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন