শীত পড়লেই বিকেল ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত সবাই মিলে হইহই করে ক্রিকেট খেলে। এ বার রোজকার সেই খেলাই বদলে যাবে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতায়। শহরের কোনও পাড়ায় নয় অবশ্য, আজ, শনিবার থেকে এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে।

আইপিএল-এর ধাঁচে একটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন কর্তৃপক্ষ। সেই প্রতিযোগিতা শুরুর আগে সকাল ১১টা নাগাদ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবস পালন করা হবে। সেখানে ‘এসো মানুষ হই’ শপথবাক্য পাঠ করবেন আবাসিকেরা।

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে আবাসিকদের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ-কাণ্ডে অভিযুক্ত কাদের খান। তাঁর নেতৃত্বে মাঠে নামবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স’। এই দলকে কড়া প্রতিযোগিতায় ফেলতে পারে গিরিশ পার্কে পুলিশের উপরে গুলি চালনার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজা শর্মার ‘গ্যালাক্সি সুপ্রিম’।

অন্য কয়েক বছরে ছ’টি দলকে নিয়ে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়েছে প্রেসিডেন্সিতে। এ বার সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে আরও দু’টি দল। আদতে মালদহের বাসিন্দা, জাল নোট পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত আবাসিকদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ম্যাঙ্গো স্টার’। সেই দলে রয়েছেন বাজারুল শেখ, অরিন্দম দত্তেরা। সংশোধনাগারে থাকা উৎপাদন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত আবাসিকেরা রয়েছেন ‘সুপার এমডি’ দলে। সেই তালিকায় রয়েছেন আকাশ আলি, তারক কোটাল, রঞ্জন কর্মকারের মতো বন্দিরা। ইতিমধ্যে ছবি আঁকা কিংবা পুজোর কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এ বার ব্যাট-বল হাতে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া তারকেরা। এই দু’টি দলের ম্যাচ দিয়েই শনিবার দুপুর দু’টোয় শুরু হতে চলেছে প্রতিযোগিতা।

গ্রুপ লিগের পর ‘বেস্ট সিক্স’। তার পরে সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল— সব মিলিয়ে হবে ৩৬টি ম্যাচ। ম্যাচে সোনালি, নীল, সবুজ বা হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামবেন আবাসিকেরা। এ ছাড়াও প্রতিটি দলের সমর্থকেরা তৈরি করেছেন নানা রকম পোস্টার। এই কাজে সাহায্য করেছেন মূলত আর্ট ফোরামের সঙ্গে যুক্ত থাকা আবাসিকেরা। কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতি ওয়ার্ড থেকে ১২-১৫ জন করে আবাসিকদের মধ্যে থেকে ১১ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মাঠ ছোট হলেও যাতে বেশি সংখ্যক আবাসিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেন, সে কারণে ১১ জন করেই খেলোয়াড় রাখা হয়েছে।

যুবদিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করছেন সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। সেখানে মার্শাল নৃত্যের সঙ্গেই থাকবে স্বামী বিবেকানন্দ সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তৃতা ও ভাষ্যপাঠ। পাশাপাশি, গত কয়েক মাস অনুশীলনের পরে নাচ মঞ্চস্থ করবেন দশ জন আবাসিক। গানও গাইবেন তাঁরা। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবাসিকদের নাচ বা গান শেখানোর ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা নিয়েছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা মনোবিদ গীতিকা চট্টোপাধ্যায়।