বন্দিদের ‘ভয়েস ক্লিপ’! আর তাতে বাংলার জনগণের প্রতি তাঁদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার বার্তা। এমনই কিছুর হদিস মিলল আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে।

কালীপুজোর দিন, মঙ্গলবার বাড়ি থেকে আসা সামগ্রী জেলে ঢোকানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বন্দিদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তার রেশ চলে বুধবারও। শেষ পর্যন্ত কারা দফতরের এআইজি বিপ্লব দাশগুপ্তের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তার পরে বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে এল বন্দিদের একাংশের ১৪ দফার দাবির ‘ভয়েস ক্লিপ’। যেখানে সংশোধনাগারের পদাধিকারীদের অপসারণ থেকে খাবারের মান, ক্যান্টিনের খাবারের দাম কমানো, বন্দিদের সঙ্গে পরিজনেদের সাক্ষাতের সময়ে গামছা, চাদর-সহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রবেশের দাবি, বিচারাধীন বন্দিদের বিকেলে খেলা এবং তাঁদের খেলা দেখতে দেওয়ার সুযোগ-সহ ১৪ দফা দাবি করেছেন বন্দিরা।

সে সব সামনে রেখে তাঁদের বক্তব্য, ‘‘বাংলার জনগণের প্রতি আবেদন, আমাদের দাবি খতিয়ে দেখে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হন।’’ পাশাপাশি, ওই বার্তায় বলা হয়েছে, জেলে যত অপরাধী, তার থেকে হাজার গুণ বাইরে রয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে সংশোধনাগারের পদাধিকারীরা দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি, এক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও ওই বার্তায় শোনা গিয়েছে। অভিযোগ, সংশোধনাগার থেকে দেওয়া কম্বলে গা কুটকুট করে। সে কারণে শীতের সময়ে ক্যান্টিনে কম্বল বিক্রির দাবিও জানিয়েছেন বন্দিরা। 

কিন্তু সংশোধনাগার থেকে কী ভাবে ‘ভয়েস ক্লিপ’ প্রকাশ্যে এল, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে অন্দরে। ওই বন্দিদের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এখন সব স্মার্ট ফোনে রেকর্ডার রয়েছে। আর বন্দিরা তাঁদের বাড়ি-সহ কয়েকটি নম্বরে জেল থেকে ফোন করার সুযোগ পান। তার মাধ্যমেই এই ‘ভয়েস ক্লিপ’ বেরিয়ে গিয়েছে বলে দাবি। কিন্তু তা করা বিধিসম্মত কি না, উত্তর মেলেনি।

এ প্রসঙ্গে সংশোধনাগারের পদাধিকারীদের অপসারণের দাবি উড়িয়ে কারা দফতরের এক শীর্ষকর্তা বলেন ‘‘বিষয়টি জানি। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ যদিও কারা দফতর সূত্রে খবর, আইন অনুযায়ী সব করা হয়। এক কারাকর্তার কথায়, ‘‘বেআইনি সামগ্রীর অনুপ্রবেশ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ হচ্ছে। তাতে হয়তো কারও কারও সমস্যা বেড়েছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে সেই সমস্যার যোগের বিষয়টিও ভাবতে হবে।’’