গড়িয়া মোড় ছাড়িয়ে কবি নজরুল মেট্রো স্টেশনের পাশে গড়িয়া ব্রিজ। কলকাতা পুলিশ আর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ডিভিশনের সীমান্ত এলাকা। এক প্রান্তে পুলিশের নিয়মকানুন কড়া, অন্য দিকে কিছুটা শিথিল। অভিযোগ, সেই নিয়মের ফারাকেই প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিবাদ করেও লাভ হয় না। উল্টে কিছু বললে অটো থেকে নেমে যাওয়া নিদান আসে চালকদের তরফে। এটিই গড়িয়া মোড়-বারুইপুর অটো রুটের ‘নিয়ম’। 

সেই নিদানের ছবি রোজই ধরা পড়ে এই অঞ্চলে। তারই এক দৃশ্য— কয়েক মাসের শিশুকন্যা নিয়ে এক দম্পতি, এক প্রৌঢ়া, এক তরুণী এবং এক কলেজপড়ুয়া দাঁড়িয়েছিলেন বারুইপুরের অটোর লাইনে। স্ট্যান্ডে অটো এসে দাঁড়াতেই দম্পতি শিশুকে নিয়ে পিছনের আসনে উঠলেন। উঠলেন প্রৌঢ়াও। তরুণী চালকের বাঁ পাশে বসার পরে কলেজপড়ুয়াকে চালক বললেন একটু হেঁটে যেতে। তার পরে তিনি তাঁকে অটোতে তুলবেন। কিছু দূর যাওয়ার পরে ওই পড়ুয়াকে ডেকে নিলেন চালক। কিন্তু বসতে হবে বাঁ পাশে বসা তরুণীর পাশে। ঠাসাঠাসি করে বসতে অসুবিধা হওয়ায় তরুণী প্রতিবাদ করলেন। সপাটে এল চালকের উত্তর—‘অসুবিধা হলে নেমে যান। এখানে এ রকমই নিয়ম। সামনে বাঁ পাশে দু’জনকেই বসানো হয়।’ আর চালকের কথা যে সত্যি, তা এই রুটের বাকি অটোতেও দেখা গেল। 

চালকদের সাফ কথা, গড়িয়া মোড় কলকাতা পুলিশের আওতায়। ওখানে চার জনের বেশি যাত্রী তোলা যায় না। গড়িয়া ব্রিজের পরে পাঁচ জন তোলা যায়। তবে ডান দিকে নয়। ডান দিকে বসালে তিন হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। তবে বাঁ পাশে দু’জন করে যাত্রী তোলায় সমস্যা হয় না। তবে এখানে কি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে মাথা ঘামায় না পুলিশ-প্রশাসন? 

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এ প্রশ্নের উত্তরে বারুইপুর ট্র্যাফিকের ডিএসপি কুতুবউদ্দিন জানান, এ রকম কোনও নিয়ম নেই। যদি চালকেরা এ ভাবে যাত্রী তোলেন, সেটা নিজেদের তৈরি নিয়মে করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘সামনে চালকের বাঁ পাশে এক জন যাত্রী ছাড়া আর যাত্রী তোলা যায় না। ডান দিকে তুললে কেস করে জরিমানা করা হয়।’’ কী বলছেন এই রুটের অটো ইউনিয়নের নেতাদেরা? দক্ষিণ ২৪ পরগনার আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি শক্তিপদ মণ্ডলও মানছেন যে, বিষয়টি নিয়ম-বহির্ভূত ভাবেই হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ইউনিয়ন থেকে বারবার বলা হয়। তবুও চালকেরা সামনে বাঁ পাশে দু’জন করে যাত্রী তোলেন। বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলব।’’