এলাকায় জলের অভাব নেই। তবু বেশ কিছু বাড়িতে পর্যাপ্ত জল মিলছে না। বিধাননগরের সুকান্তনগরের বাসিন্দাদের একাংশের থেকে এমন অভিযোগ পাচ্ছিলেন পুর কর্তৃপক্ষ। সোমবার এলাকার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালাতে গিয়ে পুর আধিকারিকেরা দেখলেন, সেখানে তিনটি বাড়িতে পাম্প বসিয়ে মূল পাইপলাইন থেকে জল টেনে নেওয়া হচ্ছে! ওই বাড়িগুলি থেকে তিনটি পাম্প বাজেয়াপ্ত করেছে পুরসভা।

পুর কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, জল চুরি রুখতে পুর এলাকায় এমন অভিযান আরও চালানো হবে। পাম্প বাজেয়াপ্ত করা এবং জরিমানা আদায় করা তো বটেই, প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপ করার কথাও ভাবনাচিন্তা করছেন পুর কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলরদের বৈঠকে জল সরবরাহ নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগের কথা উঠে এসেছিল। কাউন্সিলরেরা জানান, কয়েকটি এলাকায় জল মিলছে না অথবা কল থেকে জল পড়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। জল সরবরাহ দফতর সূত্রের খবর, ওই এলাকায় টালা-পলতা থেকে জল সরবরাহ করা হয়। তাই কিছু বাড়ি কেন জল-সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে গিয়েই জল চুরির ঘটনা সামনে আসে। 

৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর এ দিন বলেন, ‘‘বহু দিন ধরেই জল সংক্রান্ত অভিযোগ আসছিল। পুরসভার এই অভিযানে দেখা গিয়েছে যে, বাসিন্দাদের একাংশ ফেরুলের মুখে পাম্প বসিয়ে জল টেনে নিয়ে বাড়ির জলাধারে জমা করছেন। এর ফলে জলসঙ্কটে ভুগছে অন্য বাড়িগুলি।’’ জল দফতর সূত্রের খবর, জলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রথমে সুকান্তনগর এলাকায় জলের জোগানের কোনও সমস্যা আছে কি না, তা দেখা হয়েছিল। এর পরে পুর আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ করতে শুরু করেন। তখনই দেখা যায়, পাম্প বসিয়ে মূল পাইপলাইন থেকে জল টেনে নেওয়া হচ্ছে। আধিকারিকদের অনুমান, এলাকার আরও অনেক বাড়িতেই এমন ভাবে পাম্প বসানো রয়েছে। 

জল নিয়ে পুর অভিযানের পাশাপাশি, বাসিন্দাদের সচেতন করতেও প্রচার চালানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। ঘটনাচক্রে, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে পুরনো ওভারহেড ট্যাঙ্কের বদল এবং আরও দু’টি নতুন ওভারহেড ট্যাঙ্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার।