খোঁজ মিলল? এখনও কোথায়? 

তবে কি...! 

বুধবারের পরে বৃহস্পতিবারও দিনভর একই ভাবে স্ত্রীর খোঁজ চালিয়ে গিয়েছেন ৭৭ বছরের বৃদ্ধ সুভাষচন্দ্র চৌধুরী। কারণ তাঁর স্ত্রী, আত্মীয়ের শেষকৃত্যে গিয়ে বানের জলে তলিয়ে যাওয়া মিতালি চৌধুরীর (৬১) খোঁজ মেলেনি এ দিনও। সকাল থেকে দফায় দফায় রিভার ট্র্যাফিক তল্লাশি চালালেও বৃদ্ধার খোঁজ পাওয়া যায়নি বলেই জানাচ্ছে কলকাতা উত্তর বন্দর থানা। নামানো হয়েছিল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও। নিখোঁজ মহিলার বাড়ির লোকজন এ দিনও প্রশ্ন তুলেছেন, জোয়ারের জেরে জলোচ্ছ্বাস বাড়তে পারে জেনেও কেন সতর্ক করেনি পুলিশ? মিতালিদেবীর পুত্রবধূ সঞ্চারী দে বলেন, ‘‘পুলিশের কাছে তো দেখলাম, কবে কখন জোয়ার আসবে, তার তালিকা রয়েছে। তবু কেন ঘাটে গিয়ে সতর্ক করা হল না?’’

মঙ্গলবার রাতে মীরা কুন্ডু নামে এক বৃদ্ধার শেষকৃত্যে গিয়ে বানের তোড়ে ভেসে যান ন’জন। প্রত্যেকেই একে অপরের আত্মীয় বলে খবর। দ্রুত আট জনকে উদ্ধার করা গেলেও তাঁদের মধ্যে প্রসেনজিৎ মজুমদার নামে এক জনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে। নিখোঁজ 

রয়েছেন মিতালিদেবী। এ দিন তাঁর খোঁজে দুপুর থেকে তল্লাশি চালায় রিভার ট্র্যাফিক। ডুবুরি নামানো হয়। যদিও সঞ্চারী দাবি করেছেন, ‘‘খোঁজাখুঁজিতে দায়সারা ভাব ছিল। ভাল করে খুঁজতে বলায় আমাদের বলা হয়েছে, ডুবুরি ভাড়া করে নিন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘‘পুলিশ বলছে, রাতে গিয়ে জোয়ারের জন্য সরে আসতে বলা হলে অনেক সময়ে নাকি তাঁদের উপরে হামলা হয়। থানার পোস্ট ভাঙচুরও হতে পারে। সেই জন্যই নাকি ওই রাতে সে ভাবে কিছু বলা হয়নি।’’ তবে উত্তর বন্দর থানার এক আধিকারিক এই অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘‘ঘটনার রাতে ঘাটে ঘাটে গিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এ দিনও তল্লাশি চালানো হয়েছে।’’