রাত সাড়ে ন’টা। অসংখ্য যাত্রী অপেক্ষা করছেন বাসের জন্য। কিন্তু বাসের দেখা নেই। বিকল্প হিসেবে অটোর সংখ্যাও কমে গিয়েছে। সেই অবস্থায় একটি বেসরকারি ছোট বাস আসতেই হুড়মুড় করে উঠতে শুরু করলেন যাত্রীরা। তখনই হাজির দু’টি অটো। অভিযোগ, কেন বাসে যাত্রী তোলা হল, এই প্রশ্ন তুলে গোলমাল শুরু করেন অটোচালকেরা। বাসে ভাঙচুরও চালানো হয় বলে অভিযোগ। ভয়ে যাত্রীরা নেমে পড়েন বাস থেকে। বাসের দরজা বন্ধ করে ভিতরে বসে থাকেন চালক। শেষে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বজিৎ নায়েক এবং সঞ্জয় মালাকার নামে দুই অটোচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টরে ইলেক্ট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার অদূরেই সোমবার টেকনোপলিসের সামনের ঘটনাটি ঘটে।

তথ্যপ্রযুক্তি তালুকের কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন রুটে রাতে বাসের সংখ্যা কমে যায়। কার্যত কাটা রুটের ধাঁচে পাঁচ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন জায়গায় অটো দাঁড়ায় বলে অভিযোগ। একটি স্ট্যান্ডের অটো অন্য জায়গা থেকে যাত্রী নিতে পারে না। সেই সুযোগে কিছু বেসরকারি গাড়ি এবং বাস উল্টোডাঙা স্টেশন বা পার্ক সার্কাস পর্যন্ত যাওয়ার জন্য যাত্রী তোলে। অনেক ক্ষেত্রে অটোচালকদের সঙ্গে গোলমাল বাধে সেই চালকদের। যদিও যাত্রীদের দাবি, কোনও গাড়ির যাত্রী পরিবহণের অনুমতি রয়েছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের।

বাস কম থাকার অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ বাসকর্মীরা। তাঁদের কথায়, রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত বাস থাকে। অটোচালকদেরও বক্তব্য, রাত এগারোটা পর্যন্ত অটো চলাচল করে। নবদিগন্ত শিল্পনগরীর কর্তৃপক্ষের একাংশের কথায়, আগের তুলনায় বাস অনেক বাড়ানো হয়েছে। রাতে বাস মিলছে না, এমন অভিযোগ তাঁদের কাছে আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যে হেতু তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পতালুকে ২৪ ঘণ্টাই কাজ হয়, তাই বেশি রাতেও বাস চালু রাখার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে নবদিগন্ত সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিধাননগর পুলিশের একাংশের কথায়, ওই ঘটনার পরে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে পাঁচ নম্বর সেক্টরে রাতেও বাস পরিষেবা চালু রয়েছে। বিধাননগর পুলিশের এক কর্তার কথায়, বাসের সংখ্যা বেড়েছে। 

রাতে বাসের পাশাপাশি অটো এবং ক্যাবের চলাচলও রয়েছে। তবুও যাত্রীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।