• নীলোৎপল বিশ্বাস
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আসুরার সঙ্গে ফুটেজে ছিলেন আর এক মহিলাও

Asura
বুধবার রাতে পুলিশি প্রহরায় আসুরা বিবিকে নাইট শেল্টারে নিয়ে আসা হচ্ছে। ফাইল চিত্র।

Advertisement

এক অভিযুক্তকে ধরেও ছেড়ে দেওয়া হল। অন্যেরা রয়ে গেলেন অধরাই! সিঁথি থানার পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ যেন থামছেই না। যে চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে এক ব্যক্তিকে থানাতেই পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে, সেই চুরিতে স্রেফ আসুরাই নন, ‘লায়লা’ নামে আর এক মহিলাও জড়িত বলে অভিযোগ! যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসুরাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাতেই ‘লায়লা’কে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগকারী প্রোমোটার ও মৃতের পরিবারের দাবি। এর পরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যে পুলিশ আসুরাকে ধরেও ছেড়ে দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে, তারাই ঘটনার চার দিন পরেও কেন গ্রেফতার করল না বাকিদের?

তদন্তে নেমে ক্ষুব্ধ লালবাজার মনে করছে, এই নতুন তথ্যও সিঁথি থানার পুলিশের ‘মামলা সাজানোর ক্ষেত্রে অতিসক্রিয়তা’র দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁদের কাছে যে প্রশ্নগুলি ঘুরছে তা হল, স্রেফ আসুরা বিবির বয়ানের ভিত্তিতেই এক জনকে তড়িঘড়ি থানায় ‘তুলে আনা’ হল কেন? কেনই বা বাকি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে নিশ্চিত হয়ে এগোনো হল না? কেনই বা মাথায় এল না, যিনি নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করছেন, সেই আসুরার একার পক্ষে কি প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী চুরি করে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব?

গত ১৭ জানুয়ারি প্রদীপ পাল নামে এক প্রোমোটার নির্মাণস্থল থেকে চারটি মার্বেল কাটিং যন্ত্র, দু’টি করে মোল্ডিং ও মার্বেল পালিশ যন্ত্র-সহ মোট ১৮টি সামগ্রী চুরি গিয়েছে বলে সিঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তখনই তিনি জানান, নির্মীয়মাণ যে ফ্ল্যাট থেকে সামগ্রীগুলি চুরি গিয়েছে, তার সেগুন কাঠের দরজা ভাঙা হয়েছিল। আসুরার পক্ষে একা দরজা ভেঙে এত কিছু চুরি করা কি সম্ভব? প্রদীপবাবু এ দিন বলেন, ‘‘একা তো বলিনি। পুলিশ যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়েছে, তাতেই তো দুই মহিলাকে দেখা গিয়েছে। সাদা বস্তা কোলে নিয়ে তাঁরা যাচ্ছিলেন।’’

ওই ফুটেজের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ আসুরাকে চিহ্নিত করে। প্রোমোটারের দাবি, ফুটেজে দেখা গিয়েছে, চুরি করা সামগ্রী নিয়ে কিছু দূর হেঁটে যাচ্ছেন দুই মহিলা। তার পরে দাঁড় করানো একটি ভ্যানরিকশায় সেগুলি তোলা হয়। আসুরার পাশাপাশি উঠে আসে ‘লায়লা’র নামও। ভ্যানচালকের স্ত্রী-ও ঘটনায় যুক্ত বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানতে পারে। কিন্তু বাকিদের না ধরে স্রেফ আসুরার বক্তব্যের ভিত্তিতেই রাজকুমার সাউ নামের ব্যক্তিকে থানায় ‘তুলে নিয়ে’ যায় পুলিশ। থানাতেই মৃত্যু হয় রাজকুমারের।

মৃতের ভাই সুকুমার সাউ শুক্রবার বলেন, ‘‘দাদাকে যে দিন পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সেই দিনই থানার এক পুলিশকর্মী একটা ছবি দেখান। ছবিতে দুই মহিলা বস্তা কোলে যাচ্ছিলেন। পুলিশকর্মী বলেন, ওই ছবি দেখেই তাঁরা আসুরা নামে এক মহিলাকে ধরে এনেছেন। তিনিই দাদার নাম বলেছেন।’’ সুকুমারের আরও দাবি, ‘‘আদতে আসুরাকেও ফাঁসানো হয়েছিল, দাদার থেকে টাকা হাতানোর জন্য। এখন আসুরাকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে বয়ান বদল করানো হচ্ছে। কাল লালবাজারে ডাকা হয়েছিল। সেখানেও সব বলেছি।’’

একের পর এক এমন গাফিলতির অভিযোগ কেন? সিঁথি থানার যে তদন্তকারীরা এ প্রশ্নের সব চেয়ে ভাল উত্তর দিতে পারতেন, তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। লালবাজারের কর্তারাও প্রকাশ্যে স্রেফ বলছেন, ‘‘তদন্ত চলছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন