শীতের সময় আগুনের তাপ নিতে চটের বস্তা জ্বালিয়েছিলেন হাওড়া স্টেশন চত্বরে থাকা ভবঘুরেরা। শুকনো ঘাসে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেল কয়েক লক্ষ টাকার সৌর প্যানেল। যেগুলি বসানোর কথা ছিল হাওড়া স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। তবে তার জেরে অবশ্য অপ্রচলিত শক্তির সাহায্যে হাওড়া স্টেশনে সৌর বিদ্যুত সরবরাহের পরিকল্পনার কাজ ব্যাহত হবে না বলেই মনে করছেন রেল কর্তৃপক্ষ। রেল মিউজিয়ামের পাশে ফাঁকা জমিতে ওই সব সৌর প্যানেল রাখা ছিল। রেলের জমিতে কী ভাবে ভবঘুরেরা ঢুকে পড়লেন, অগ্নিকাণ্ডের পরে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ ওই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দায় অস্বীকার করে রেলের বক্তব্য, সৌর প্যানেলের ঠিকাদার সংস্থা নিজেদের দায়িত্বে প্যানেলগুলি রেখেছিল। এমনকি নজরদারির জন্য ঠিকাদার সংস্থা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীও রেখেছিল। কিন্তু ঘটনার পরেই ওই নিরাপত্তাকর্মীরা বেপাত্তা হয়ে যান বলে অভিযোগ। রেল ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

বিদ্যুতের খরচ বাঁচাতে দেশের সব রেল স্টেশনেই সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গত নভেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে হাওড়া স্টেশনে। প্যানেল বসানোর বরাত পেয়েছে দিল্লির একটি সংস্থা। ২৩টি প্ল্যাটফর্মের ছাদেই এই প্যানেল বসানোর কথা। 

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের নির্দেশেই ওই ঠিকাদার সংস্থা হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বিভিন্ন জমিতে পিসবোর্ডের বাক্সে মুড়ে প্যানেলগুলি রেখেছিল। কয়েক হাজার বাক্সবন্দি সৌর প্যানেল রাখা হয়েছিল রেল মিউজিয়ামের ফাঁকা জমিতে। রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন যখন ঘটনাটি ঘটে তখন ঠিকাদার সংস্থার নিয়োগ করা নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে ছিলেন না। সেই সুযোগে কিছু ভবঘুরে পড়ে থাকা চটের বস্তায় আগুন লাগিয়ে উত্তাপ নিচ্ছিলেন। সেই আগুনই প্রথমে ঘাসে এবং পরে ঘাস থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্যানেলগুলিতে। প্যানেলগুলি কাঠের বাটাম, মোটা পিসবোর্ড দিয়ে তৈরি হওয়ায় সেগুলিতে আগুন ধরে যায়। গোটা এলাকায় কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। রেল মিউজিয়ামে বেড়াতে আসা দর্শকেরা আতঙ্কে মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে আসেন। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। 

ঘটনাস্থলে আসা রেলের এক ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বলেন “ওই প্যানেলগুলিতে আগুন ধরেছিল প্যাকিং বাক্সের নীচে থেকে। উপর থেকে নয়। এ ক্ষেত্রে চটের আগুন থেকেই আগুন ছড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’’

হাওড়ার অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব খান্ডেলওয়াল বলেন, “কী কারণে আগুন লেগেছে তার তদন্ত শুরু হয়েছে। রেলের গোটা এলাকা নজরদারির মধ্যে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে মালপত্রের দায়িত্ব ছিল ঠিকাদার সংস্থার উপর।’’