কিডনির অসুখে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বালিকাকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার অভিযোগে পরিদর্শন হয়েছিল। সেই পরিদর্শনের পরে এসএসকেএমের ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরাল স্বাস্থ্য দফতরের অন্তর্গত ‘ডিরেক্টরেট অব ড্রাগ কন্ট্রোল’। গত সোমবার এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে ওই নোটিস পাঠিয়ে পনেরো দিনের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে চিকিৎসাধীন ১১ বছরের বালিকা সঙ্গীতা চক্রবর্তীর জন্য ব্লাড ব্যাঙ্কে রিকুইজিশন পাঠিয়েছিলেন পেডিয়াট্রিক বিভাগের এক চিকিৎসক। নিয়মানুযায়ী, রোগীর রক্তের নমুনার গ্রুপ, ক্রস ম্যাচ করে রক্ত দেওয়ার কথা। ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই বালিকার রক্তের গ্রুপ যেখানে বি-পজিটিভ, সেখানে গ্রুপ নির্ধারণ এবং ক্রস ম্যাচ করে তাকে এবি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ভুল গ্রুপের রক্ত শরীরে গেলে সঙ্গীতার প্রসাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণের পাশাপাশি কাঁপুনি শুরু হয়ে যায়। সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পেয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এসএসকেএম পরিদর্শনে যায় ড্রাগ কন্ট্রোলের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, নোটিসে সেই পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি দল যে রিপোর্ট জমা করেছেন তাতে ‘ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস রুলসে’র (১৯৪৫) ১২২পি ধারা লঙ্ঘন হয়েছে। নোটিসে ‘চরম অবহেলা’ শব্দবন্ধটিও ব্যবহার করা হয়েছে। ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির লাইসেন্স অনুমোদন করে ড্রাগ কন্ট্রোল। ওই ধারার কথা উল্লেখ করে অনুমোদনের শর্ত না মানার জন্য কেন এসএসকেএমের ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স রদ বা বাতিল করা হবে না তা নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছে। সঙ্গীতার ঘটনার প্রেক্ষিতেই নোটিসে লাইসেন্স বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে বলে মত স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের একাংশের।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্লাড ব্যাঙ্কের মেডিক্যাল অফিসার ইন চার্জ প্রতীক দে বলেন, ‘‘আমি ছুটিতে রয়েছি। ঠিক কী কারণে নোটিস পাঠানো হল তা চিঠি না দেখে বলতে পারব না।’’ ড্রাগ কন্ট্রোলের নোটিসের সঙ্গে সঙ্গীতার ঘটনার যোগের সম্ভাবনা পত্রপাঠ খারিজ করে সুপার রঘুনাথ মিশ্র বলেন, ‘‘শো-কজ অন্য কারণে করা হয়েছে। ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের ক্রায়ো তৈরির পরিকাঠামো কেন হয়নি, সে জন্য কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ওটা আমাদের আগে করার কথা ছিল। ব্লাড ব্যাঙ্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বলেছি, ওটা করার জন্য। তার জন্য যা সাহায্য করার আমরা করব।’’ স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিক জানান, ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। ঘন লোহিত কণিকা, প্লেটলেট, প্লাজমা এবং ক্রায়ো। ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় রক্তের এই ক্রায়ো চাওয়া হয়।

আইনে বলা আছে, ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিকাঠামো, রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ, ক্রস ম্যাচ এবং উপাদান ভাগে পর্যাপ্ত কর্মী রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত দাতা-গ্রহীতার নথি রাখতে হবে। তৃতীয়ত ড্রাগ কন্ট্রোলের ইনস্পেক্টর পরিদর্শনের সময়ে কোনও রক্তের নমুনা চাইলে, ফের পরীক্ষার জন্য তা পর্যাপ্ত পরিমাণে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সুপারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ড্রাগ কন্ট্রোলের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘১২২ পি ধারায় অনেকগুলি উপধারা রয়েছে। নোটিস পাঠানোর কারণ হিসাবে নির্দিষ্ট করে কোনও গাফিলতির কথা বলা হয়নি ঠিকই। তবে সঙ্গীতার ঘটনার প্রেক্ষিতে জমা পড়া রিপোর্টের ভিত্তিতে এই নোটিস যে পাঠানো হয়েছে তা ঠিক।’’

এ দিন সুপার বলেন, ‘‘ব্লাড ব্যাঙ্কের আধুনিকীকরণে আমরা অনেক কিছু করছি। স্বাস্থ্য ভবনেও রিপোর্ট পাঠিয়েছি। এখনই এ বিষয়ে কোনও কথা বলব না।’’