সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টরে ফুটপাত জবরদখল করে বসা হকারদের তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিধাননগর পুরসভা। ইতিমধ্যেই সেখানকার অধিকাংশ ফুটপাত থেকে খাবারের দোকানপাট উধাও। এই পরিস্থিতিতে অফিসকর্মীদের সস্তায় খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করছে রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগম।

সোমবার থেকেই সেক্টর ফাইভ জুড়ে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘‘সেক্টর ফাইভে প্রচুর অফিস রয়েছে। সেখানকার অফিসকর্মীদের ন্যায্য দামে হাতে হাতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নিগমের অ্যাপে (স্মার্ট ফিশ) অর্ডার দিলেই খাবার পৌঁছে যাচ্ছে।’’ নিগম সূত্রের খবর, দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য দু’রকম থালির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৌম্যজিৎ দাস বলেন, ‘‘২৫ ও ৫৫ টাকার দু’রকম থালি থাকছে। ২৫ টাকায় ভাত, ডাল, একটি তরকারি ও মাছের ঝোল পাওয়া যাচ্ছে। ৫৫ টাকার থালিতে ভাত, ডাল, দু’রকম সব্জি ছাড়াও বড় আকারের মাছ থাকছে। সঙ্গে চাটনি।’’

নিগমের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, সল্টলেকের বিকাশ ভবন, নলবন ও নিকো পার্কের সামনে নিগমের স্টল থেকেও খাবার পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি, সেক্টর ফাইভ এলাকায় তিনটি ভ্রাম্যমাণ স্টল রাখা হচ্ছে। দুপুর ও রাতের খাবার ছাড়া টিফিনেরও ব্যবস্থা থাকছে। নিগম সূত্রের খবর, ওই স্টলে ফিশ পরোটা, ফিশ কচুরি, ফিশ চিংড়ি, ফিশ শিঙাড়া ছাড়াও স্যান্ডউইচ বিক্রি করছে নিগম।

সেক্টর ফাইভ এলাকায় ফুটপাত নিয়ে সমস্যা অবশ্য দীর্ঘদিনের। ফুটপাত জবরদখল হয়ে থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে হাঁটতে হয়। সেই কারণেই সম্প্রতি সেক্টর ফাইভের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করেছে পুরসভা। রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগমের এই আয়োজনে সেক্টর ফাইভের অফিসকর্মীরা খুশি। একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী রজতাভ দত্ত জানালেন, এত দিন অফিস থেকে বেরিয়ে ফুটপাতের দোকানেই খাওয়াদাওয়া সারতেন তিনি। রজতাভবাবুর কথায়, ‘‘মৎস্য উন্নয়ন নিগমের এই আয়োজনে আমরা খুশি। আশা করি, আগামী দিনেও একই ভাবে নিগম থেকে ন্যায্য মূল্যে খাবার পাব।’’