বাড়তি বাস, ট্রাম, লঞ্চ চালিয়ে ধর্মঘট মোকাবিলায় তৈরি রাজ্য প্রশাসন। ধর্মঘটকারী বাম ও কংগ্রেস নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা জোর-জবরদস্তিতে যাবেন না। তবে শহরের নানা এলাকায় তাঁদের মিছিল হবে। ধর্মঘটের বিরোধিতা করলেও আলাদা মিছিল হবে তৃণমূলেরও। আবার বিজেপি ধর্মঘটে তো নেই, ধর্মঘট-বিরোধিতায় রাস্তায় নামার কর্মসূচিও তাদের নেই। শেষ পর্যন্ত আজ, সোমবার রাজ্যে জনজীবন মোটের উপরে স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।

পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টে পর্যন্ত ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। একই প্রশ্নে বামেদের প্রতিবাদ হরতাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। হরতালের আগের দিন, রবিবার সন্ধ্যায় বেহালার সরশুনায় পেট্রো-পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জনসভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র দলের কর্মী-সমর্থকদের বলেছেন, ‘‘বাস জ্বালাতে যাবেন না। জোর করে দোকানপাট খোলাতেও যাবেন না। মানুষের মনোবলের উপরে ভরসা রাখুন।’’ বহরমপুরে মিছিল করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীরও বক্তব্য, ‘‘বন্‌ধ মানে অফিস-আদালত জ্বালিয়ে দেওয়া নয়! কিন্তু এখন থেকেই তৃণমূল সরকার ভয় দেখাতে শুরু করেছে। বন্‌ধ ব্যর্থ করার জন্য না ঝাঁপিয়ে তারা তেলের দামে করছাড় দিয়ে মানুষকে রেহাই দিতে পারত।’’

রাজ্যে কংগ্রেসের ডাকে ধর্মঘট হচ্ছে দীর্ঘ দিন পরে। গোষ্ঠী-লড়াই যেমনই থাক, প্রদীপ ভট্টাচার্য, অমিতাভ চক্রবর্তী থেকে প্রদীপ প্রসাদ, তুলসী মুখোপাধ্যায়— দলের সব স্তরের নেতারাই পথে থাকছেন এআইসিসি-র নির্দেশে। বাম রাজ্য নেতৃত্ব থাকবেন এন্টালির মিছিলে।

আরও পড়ুন: লাইভ: ইস্যুতে একমত, কিন্তু ‘বন্‌ধ’ নিয়ে রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের মুখোমুখি তৃণমূল

ধর্মঘটের কথা মাথায় রেখে পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, আজ অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ বাস চলবে। শহরের কিছু বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। মেট্রো চলবে আর পাঁচটা কাজের দিনের মতোই। রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের নৈহাটি শাখায় সিগন্যালিংয়ের কাজের জন্য গত কয়েক দিন ধরে ট্রেন চলাচলে সমস্যা ছিল। রেলের দাবি, আজ সকাল ১০টার পর থেকে সেই সমস্যাও মিটে যাবে। লালবাজারের একটি সূত্রের বক্তব্য, কলকাতার বিভিন্ন ডিভিশনে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সরকারি দফতর ও বড় মাপের বাজারগুলিতে গোলমাল ঠেকাতে নজরদারি থাকবে।

তৃণমূল ধর্মঘটে সামিল না হয়ে আজ মৌলালি থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করবে। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমরা রাস্তায় আন্দোলনে ছিলাম, থাকব। ধর্মঘট ডেকে রাজ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কর্মনাশা বন্‌ধ আর চাই না।’’ রাজ্যের শাসক দলকে বিঁধে বেহালায় সূর্যবাবু অবশ্য বলেছেন, ‘‘সৎসাহস থাকলে তৃণমূল এই হরতাল সমর্থন করুক।’’ একই সুরে অধীরবাবুরও মন্তব্য, ‘‘ধর্মঘটের বিরোধিতা করে তৃণমূল সরকার যদি মনে করে বিজেপিকে খুশি করবে, বিজেপির ‘বি টিম’ হয়ে কাজ করবে, করুক!’’