২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মেট্রোর টানেলে কোনও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। অথচ গত বছর থেকে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মেট্রোর টানেলে চার বার আগুন লেগেছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা এড়ানো যায়, সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে স্টেশন সুপারদের। বৃহস্পতিবার মেট্রো ভবনে এক বৈঠকে ওই পরিসংখ্যান তুলে ধরে ২৪ জন স্টেশন-সুপারকে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন মেট্রোর প্রিন্সিপাল চিফ অপারেশন্‌স ম্যানেজার সাত্যকি নাথ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেট্রো রেলের পদস্থ কর্তারাও।

সাত্যকিবাবু স্টেশন সুপারদের জানান, টানেলে কোনও ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সুপার এবং মেট্রোকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে এবং আরও তৎপর হয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগাতে হবে। এ ছাড়াও মেট্রোতে দাহ্য বস্তু নিয়ে গেলে ১০০০ টাকা জরিমানা করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, মেট্রোর নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত এক অফিসার জানান, রোজ মেট্রোয় প্রায় ছ’লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। চলে ২৮৪টি ট্রেন। এই পরিস্থিতিতে ভূগর্ভে ট্রেন চলাচল নিয়ে কর্মীরা আরও তৎপর না হলে কোনও অঘটন ঘটলে তার দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সে কারণেই স্টেশন সুপারদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

মেট্রো রেলের এক কর্তা জানান, গত ডিসেম্বরে ময়দান এবং পার্ক স্ট্রিটের মধ্যে সুড়ঙ্গে একটি মেট্রোর কামরায় আগুন লাগে। ধোঁয়ায় ভরে যায় টানেল। ওই ঘটনায় যাত্রীরা অভিযোগ করেছিলেন, মেট্রোকর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করতে দেরি করায় অনেকে ধোঁয়ার চোটে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বেশ কয়েক জনকে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়। ঘটনার পরে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষকে। আগামী দিনে এমন আতঙ্কের পরিবেশ যাতে আর না হয়, তার জন্য কর্মীদের আরও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

এক স্টেশন-সুপারের কথায়, মেট্রো-যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য প্রতিটি স্টেশনে স্ট্রেচার, হুইলচেয়ার, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং জীবনদায়ী ওষুধ রয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের অন্তত যাতে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দেওয়া যায়, রয়েছে সেই ব্যবস্থাও। ময়দান এবং পার্ক স্ট্রিট স্টেশনের মধ্যে আগুন লাগার ঘটনার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি ওই ঘটনার তদন্ত করছেন।