স্কুলের প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের এক ছাত্রীকে লজেন্স দিয়ে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বেধে গেল আলিপুর মাল্টিপারপাস গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলে। বৃহস্পতিবার সেখানে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখিয়েই অবশ্য থেমে থাকেননি অভিভাবকেরা। অভিযোগ, তাঁরা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁর স্ত্রী ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়েকে বেধড়ক মারধর করেন। আগামী সোমবার মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে এই ঘটনায় আতঙ্কে ওই ছাত্রী। অভিভাবকদের এ হেন ভূমিকায় নিন্দায় সরব সমস্ত মহল।

ওই স্কুলের প্রাক্-প্রাথমিকের এক ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, গত বুধবার স্কুলের নাইট গার্ড রামেশ্বর সিংহ তাঁর মেয়েকে লজেন্সের প্রলোভন দেখান। তিনি জানান, এর আগেও বেশ কয়েক জন ছাত্রীর সঙ্গে ‘খারাপ’ আচরণ করেছেন রামেশ্বর। ২০১৩ সালে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় তাঁর বদলির জন্য স্কুলশিক্ষা দফতরে সুপারিশ করেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষিকা। ২০১৫ সালে ফের ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে রাতের শিফ্‌টে আনা হয়। কিন্তু তার পরেও রামেশ্বর বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে ‘আপত্তিজনক’ ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারিণী মহিলার কথায়, ‘‘বুধবার স্কুল থেকে ফিরে মেয়ে আমাকে জানায়, ওই নাইট গার্ড লজেন্সের প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। খারাপ ভাবে ডাকছিলেন।’’ ‘খারাপ কিছু’ করার উদ্দেশ্যেই রামেশ্বর তাঁর মেয়েকে প্রলোভন দেখান বলে অভিযোগ ওই মহিলার। অভিভাবকদের কয়েক জনের অভিযোগ, রামেশ্বর পরিচয় গোপন রাখতে মুখোশ পরে শিশুদের প্রলোভন দেখাতেন।

আরও পড়ুন: বৃদ্ধাকে মারধর, সস্ত্রীক অভিযুক্ত নেতা

ওই স্কুলে সকাল পৌনে সাতটা থেকে ক্লাস শুরু হয়। চলে পৌনে ১১টা পর্যন্ত। কিন্তু এ দিন সাড়ে ন’টার পর থেকেই স্কুলে জড়ো হন একদল অভিভাবক। স্কুলের বাইরেই রামেশ্বরকে মারধর শুরু করেন তাঁরা। স্কুলের দাবি, বারবার লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও কেউ তা দেননি। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। আটক করা হয় অভিযুক্তকে। পরে সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

পুলিশ সূত্রের খবর, রামেশ্বরকে মারধরের পাশাপাশি একদল অভিভাবক স্কুলের পিছন দিকে তাঁর ঘরে চলে যান। রামেশ্বরের স্ত্রী বিন্নু সিংহ তখন রান্না করছিলেন। পড়াশোনা করছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়ে নেহা। অভিযোগ, দল বেঁধে ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে বেধড়ক মারধর করেন অভিভাবকেরা। ফেলে দেওয়া হয় খাবার। নেহার বইখাতা ছিঁড়ে পেন ও পেনসিল দিয়ে তার ডান হাতে বারবার আঘাত করা হয়। এর পরে দু’জনকে বাইরে বার করে মাটিতে ফেলে ঝাঁটা, লাঠি ও জুতো দিয়ে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ। পরে পুলিশ পৌঁছয়। এ দিন নেহা বলে, ‘‘সোমবার পরীক্ষা। যে ভাবে হাতে চোট লাগল, জানি না কী হবে। মায়ের হার্টের অসুখ রয়েছে। মারধরের পরে মাকে হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হয়।’’

গত মাসেই কারমেল প্রাইমারি স্কুলে এক ছাত্রীর যৌন হেনস্থাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তখনও অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারার হুমকি দেন অভিভাবকেরা। এ বার একেবারে ঘরে ঢুকে তাণ্ডব। অভিভাবকেরা থানায় জানিয়েছেন, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকালে ঘটেছে। যদিও ওই ছাত্রীর মায়ের দাবি, তা ঘটেছে বুধবার।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তুষ্টি নাথ বলেন, ‘‘অভিভাবকেরা যে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে আমি স্তম্ভিত। তবে গোটা বিষয়টি স্কুলশিক্ষা দফতরকে জানানো হয়েছে। দফতরের সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করব।’’ এ ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানো ও স্কুলে পুরুষ কর্মী না রাখার দাবি তুলেছেন অভিভাবকদের একাংশ।