মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ বার অভিনব পরিকল্পনা নিল হাওড়া পুরসভা। পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ডেঙ্গির লার্ভার জন্মস্থান হিসেবে প্লাস্টিকের যে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে, তা বোঝাতে এ বার স্কুলে গিয়ে সচেতনতা শিবির করা হবে। সেই সঙ্গে বাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে স্কুলে আনলে পড়ুয়াদের উৎসাহ ভাতা হিসেবে একটা করে কুপন দেওয়া হবে। যে কুপন দেখিয়ে পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট দোকান থেকে খাতা, বই বা খাবার কিনতে পারবে। নির্বাচন পেরোলেই এই পরিকল্পনা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড়া পুরসভা। 

নাগরিকদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল বা ব্যাগের উপরে জল জমে থাকায় সেগুলিই হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী ডেঙ্গির লার্ভার জন্মস্থান। তাই পড়ুয়াদের মধ্যে প্লাস্টিক নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হাওড়ার বড় বড় স্কুলগুলিতে এ বার সচেতনতা শিবির করবে পুরসভা। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, পুরসভার স্কুলগুলিতে এই সচেতনতা শিবির শুরু করা হবে। এর পরে হাওড়ার অন্য কয়েকটি স্কুলেও এই শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাওড়া পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক বলেন, ‘‘ঠিক হয়েছে স্কুলগুলিতে গিয়ে ছাত্রদের সামনে ডেঙ্গি সম্পর্কে একটা প্রদর্শনী করা হবে। বোঝানো হবে এই রোগবৃদ্ধির পিছনে প্লাস্টিকের ভূমিকা সম্পর্কে। এ ছাড়াও, তাদের সংগৃহীত প্লাস্টিকের পরিমাণ অনুযায়ী উৎসাহ ভাতা হিসেবে কুপন দেওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে।’’

ওই চিকিৎসক জানান, এই প্রকল্পটি চালু করতে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়েছে, স্কুলগুলিতে ওই সংস্থা প্লাস্টিক সংগ্রহের জন্য একটি কাউন্টার করবে। পড়ুয়ারা সেখানে বাড়ি থেকে আনা প্লাস্টিক ওজন করে জমা দেবে। তার পরে দাম অনুযায়ী কুপন পাবে। অর্থাৎ, কারও প্লাস্টিকের সংগৃহীত মূল্য ১০ টাকা হলে ওই পড়ুয়াকে ১০ টাকার কুপন দেওয়া হবে। সে ওই কুপন নিয়ে ওই সংস্থার নির্দ্ধারিত বুকস্টল বা স্টেশনারি দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনতে পারবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহে এক দিন ওই প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হবে।

হাওড়া পুরসভার এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘এ বছর পতঙ্গবাহিত রোগের মোকাবিলায় মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীদের দিয়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য দু’টি করে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের দল (ভেক্টর কন্ট্রোল টিম) তৈরি করা হচ্ছে। যে দলে তিন জন করে কর্মী থাকবেন। দু’জন থাকবেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী ও এক জন জঞ্জাল অপসারণ দফতরের কর্মী।’’ পুরসভা সূত্রের খবর, এই দলটি এ বার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গির লার্ভা ধ্বংস করবে। এমনকি, কোনও বাড়িতে জল বা আবর্জনা জমে থাকলে, তা অপসারণ করবে। এ ছাড়াও থাকবে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি বিশেষ কয়েকটি বাহিনী। কোনও জায়গায় ডেঙ্গি মহামারির আকার নিলে ওই বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।