বৃদ্ধ বা কোনও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভোট দিতে যেতে না পারলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে ট্যাক্সি। শুধু এক বার ফোন করে জানালেই চলবে। এমনকী ভাড়ার ক্ষেত্রেও মিলবে ২০% ছাড়। সোমবার এ কথা ঘোষণা করল তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ট্যাক্সিমালিকদের সংগঠন বেঙ্গল ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)।

আর এই ঘোষণার পরেই ছড়িয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, ঘুরিয়ে শাসক দলকে সুবিধে পাইয়ে দিতেই ভোটারদের এমন ভাবে খুশি করতে চাইছে না তো ওই সংগঠন? এতে কোনও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক এ দিন বলেন, ‘‘প্রয়োজনে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিমল গুহ বলেন, ‘‘কলকাতা পুলিশ এলাকার ষাট বছরের বেশি বয়সের নাগরিক এবং প্রতিবন্ধীরা ফোন করলেই বাড়িতে ট্যাক্সি পৌছে যাবে। ভোট দেওয়ার পরে ফের তাঁদের বাড়িতে ফিরিয়েও দেওয়া হবে। কোনও প্রতিবন্ধকতাতেই যেন ভোট দান থেকে কেউ বিরত না থাকেন, তাই এই আয়োজন।’’ ২১ এবং ৩০ এপ্রিল মিলবে এই পরিষেবা।

বিরোধীরা অবশ্য এর পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থই দেখছেন। কারণ এর আগে নির্বাচনের দিনে দলীয় পতাকা লাগিয়ে বিনা খরচে গাড়ি করে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেত রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়িতে তা বন্ধ করতে হয়েছে। ফলে এ বার ভোটারদের তুষ্ট রাখতে ঘুর পথে এই পথই নিয়েছে শাসক দল ঘনিষ্ট ওই ট্যাক্সি মালিক সংগঠন। বিমলবাবুর অবশ্য দাবি, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ খোঁজা অনুচিত।