বাড়ি থেকে পালিয়ে দিদিমার কাছে চলে যেতে চেয়েছিল এগারো বছরের কিশোরী। অভিযোগ, সৎবাবা মারধর করেন। শুক্রবারও তেমনটাই ঘটেছিল। তার জেরেই ওই কিশোরী ভাটপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রওনা দিয়েছিল ক্যানিংয়ের উদ্দেশে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাস্তা ভুল করে দমদম স্টেশনে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি জুড়ে দেয় সে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এক আইসক্রিম বিক্রেতা ও পুলিশের সহযোগিতায় কিশোরীকে ফিরে পায় তার পরিবার।
শুক্রবার রাতেই সিঁথি থানার পুলিশ ওই কিশোরীকে তার ভাটপাড়ার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পুলিশ জানায়, দিদিমার কাছে যাবে বলে ওই কিশোরী কাঁকিনাড়া থেকে ক্যানিংয়ের ট্রেনে চেপেছিল। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক সে দমদম স্টেশনে নেমে পড়ে। তার পরে সে দিশাহারা হয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করে। শুক্রবার বিকেলে দমদম স্টেশনে দাঁড়িয়ে কিশোরীটিকে কাঁদতে দেখেন রাজু দাস নামে এক আইসক্রিম বিক্রেতা। কিশোরীটি রাজুকে নিজের নাম বললেও বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেনি। তখন রাজুই সিঁথি থানায় পুলিশকে খবর দেন। তার পরে 
পুলিশ কিশোরীটিকে বাড়ি ফেরাতে উদ্যোগী হয়।
তাকে উদ্ধারের পরে পুলিশ জানতে পারে যে মা ও সৎবাবার সঙ্গে সে ভাটপাড়ায় রেললাইনের ধারে একটি জায়গায় থাকে। কিন্তু সেই ঠিকানা সে পুলিশকেও জানাতে পারেনি। শুধু তার বাড়ি ভাটপাড়া রেললাইনের ধারে বলেই জানিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, সৎবাবা মারধর করায় সে পালাতে চেয়েছিল। জল আনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবারও ওই কিশোরীকে তার সৎবাবা বকাবকি ও মারধর করেন। তার পরেই সে বাড়ি ছেড়ে পালায়। কিন্তু দমদম স্টেশনে নামার পরে সে জায়গা চিনতে না দীর্ঘ ক্ষণ স্টেশনের চাতালে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পরে ভয়ে কাঁদতে থাকে।
সিঁথি থানার পুলিশ জানায়, কিশোরীর কথা মতো তার ঠিকানা খুঁজতে প্রথমে জগদ্দল থানায় যোগাযোগ করা হয়। তবে সেখান থেকে কিশোরীর পরিবারের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফলে ভাটপাড়ায় পৌঁছে কিশোরীকে নিয়ে রেললাইনের ধারের এলাকা খোঁজা শুরু হয়। এলাকায় পৌঁছে সামান্য ঘোরাঘুরির পরে কিশোরী নিজের বাড়ির রাস্তা চিনতে পারে। সেখানে ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে জটলা চলছিল। এলাকায় খোঁজ করে কিশোরীর পরিবারের হদিস পায় সিঁথি থানার পুলিশ। তার পরে কিশোরীকে তার পরিবারের 
হাতে তুলে দেন সিঁথি থানার সাব-ইনস্পেক্টর শীলভদ্র ঘোষ, কনস্টেবল চন্দন সিংহ এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার সুপর্ণা বিশ্বাস।