ঠাকুরমাকে খাবার পৌঁছে দিয়ে বিকেল চারটের মধ্যে ফিরে আসার কথা ছিল কিশোরীর। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেও বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় খোঁজ। বাড়ি থেকে তাকে বারবার ফোন করা হলেও তা বেজে যায়। রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করার কিছু পরেই জানা যায়, রেললাইন থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে, কামারহাটির ঘটনা। 

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই কিশোরীর নাম ঋতিকা রজক (১৬)। সে কামারহাটির ৬ নম্বর গলির বাসিন্দা। তার মা সীমা বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান। তিনি জানান, ওই দিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ তিনি বাড়ি ফিরলে ঋতিকা তাঁকে খেতে দেয়। ‘‘মেয়েকে ওষুধ এনে দিতে বলি। ও বলে, চারটের সময়ে ঠাকুরমাকে খাবার দিয়ে ফিরে এনে দেবে’’— বলেন সীমা। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মেয়ে না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

রাতে বেলঘরিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে ঋতিকার পরিবার। এর পরে রাত ১১টা নাগাদ পুলিশ জানায়, আগরপাড়ার তিন নম্বর রেল গেটের কাছে রেললাইন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করেছে জিআরপি। বেলঘরিয়া জিআরপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে দেহটি শনাক্ত করেন ঋতিকার পরিজনেরা। শুক্রবার সীমা বলেন, ‘‘মেয়ে রেললাইনে কেন গেল বুঝতে পারছি না। ওকে কেউ ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে।’’

রেল পুলিশের দাবি, ওই দিন দুপুরে আপ কৃষ্ণনগর সিটি লোকালের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও পরে রাতে তাকে শনাক্ত করা হয়। রেল পুলিশ জানায়, ঘটনার পরে ওই ট্রেনের চালক ‘নক ডাউন’ মেমো দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, ওই কিশোরী রেললাইন ধরে হাঁটছিল। বারবার হর্ন দিলেও সরে যায়নি। শেষে ট্রেনচালক আপৎকালীন ব্রেক কষলেও কিশোরীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।